ফারাক্কা লংমার্চ দিবস আজ। ১৯৭৬ সালের এদিন মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্বে ভারত কর্তৃক ফারাক্কা বাঁধের মাধ্যমে একতরফা গঙ্গার পানি প্রত্যাহারের প্রতিবাদে রাজশাহী হতে ফারাক্কা অভিমুখে ঐতিহাসিক লংমার্চ অনুষ্ঠিত হয়।
লংমার্চ শেষে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার কানসাট হাইস্কুল মাঠে বিশাল সমাবেশে ভাষণ দেন মজলুম জননেতা। সেই থেকে দিনটি ‘ফারাক্কা দিবস’ হিসেবে পালিত হচ্ছে। এদিকে এ বছরের ডিসেম্বরে ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ-ভারত ফারাক্কার পানি বণ্টনের ৩০ বছরের চুক্তি শেষ হবে।
১৯৭৫ সালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সাড়ে ১৬ কিলোমিটার উত্তরে উজানে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মালদহ ও মুর্শিদাবাদ জেলায় ভারত ফারাক্কা বাঁধ চালু করে। ওই সাল থেকে পানি প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ শুরু করে ভারত। এর প্রভাবে চাঁপাইনবাবগঞ্জের পদ্মা, মহানন্দা, পুনর্ভবা ও পাগলা নদী পানিশূন্য হতে থাকে। নদীগুলোর নাব্য সংকটে ভুগতে থাকে।
ধু ধু বালুচর হয় নদীগুলো। এমনকি ভাটির নদীগুলোতেও এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়ে। বহু জেলায় এর প্রভাব পড়তে শুরু করে। স্থানীয়রা বলছেন, নদীতে এখন পানিশ্রোত নির্ভর করে ভারতের মর্জির ওপর। বাঁধ নির্মাণের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবের ফলে পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে জেলার অন্য নদীগুলো শুকিয়ে গেছে।
নাব্য সংকট দেখা দিয়েছে। এখন প্রয়োজনীয় পনি পেলেও তা ধরে রাখা যায় না। বাঁধের কারণে বন্যা ও নদীভাঙনের প্রবণতাও বেড়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম আহসান হাবীব বলেন, ফারাক্কা বাঁধের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশে। খরা মৌসুমে নদীতে যথেষ্ট পানি না পাওয়া আর বর্ষায় বেশী পানি আসার সমস্যা তো চলছে। তবে গত বুধবার (১৩ মে) একনেকে পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণে অর্থ বরাদ্দদেও বিষয়টি তুলে ধরে প্রকৌশলী বলেন, ফারাক্কার প্রভাব মোকাবেলায় এটি হবে অত্যন্ত কার্যকর।
ফারাক্কার সবচেয়ে নিকটের বাংলাদেশের শিবগঞ্জের পাঁকা ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক বলেন, ভাসানী সাহেবের লংমার্চের দিনটির কথা মনে পড়ে। বহু লোক যোগ দিয়েছিলেন ওই আন্দোলনে। ফারাক্কা নির্মাণের আগে ও পরে পদ্মায় পানির তুলনা করে তিনি বলেন, বাঁধ নির্মাণের আগের তুলনায় এখন অর্ধেকও পানি নেই। এ ব্যাপারে সরকার যদি দ্রুত কোনো কার্যকর উদ্যোগ না নেয় তবে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ আরও চরম সমস্যায় পড়বে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের পরিনবশেবাদী স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘সেভ দ্য নেচার’ সমন্বয়কারী ডলার হাসান বলেন, ফারাক্কার কারণে হমুকির মুখে জেলার প্রাণ-প্রকৃতি। দেশি মাছ পাওয়া যায় না। মিঠা পানির ডলফিন (শুশুক নামে পরিচিত), ঘড়িয়াল প্রভৃতি জলজ প্রাণী দেখা যাচ্ছে না। বহু জলজ উদ্ভিদ গুল্ম হারিয়ে গেছে। বাস্তু সংস্থান নষ্ট হয়েছে। পরিবেশের বিপর্যয় ঘটেছে। ফারাক্কার ক্ষতি কমাতে প্রতিবছর ড্রেজিং এর উপর জোর দেন তিনি।
Zoom Bangla News
inews.zoombangla.com





