‘অভাব কমলে দুর্নীতিও কমবে’ বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী – DesheBideshe

‘অভাব কমলে দুর্নীতিও কমবে’ বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী – DesheBideshe


‘অভাব কমলে দুর্নীতিও কমবে’ বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী – DesheBideshe

ঢাকা, ১২ জুন – সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য অবশেষে আসতে চলেছে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত সুখবর! টানা ১১ বছর পর সরকারি খাতে বেতন সমন্বয়ের ঘোষণা দিয়ে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আশা প্রকাশ করেছেন যে, বেতন বৃদ্ধি পেলে দেশে সরকারি পর্যায়ে দুর্নীতির প্রবণতা অনেকটাই কমে আসবে।

আজ শুক্রবার (১২ জুন) দুপুরে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ঐতিহাসিক বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী এই তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেন।

সংবাদ সম্মেলনে দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতা এবং মূল্যস্ফীতির কথা মাথায় রেখে সরকারি কর্মচারীদের জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টি অত্যন্ত সততার সাথে স্বীকার করেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, “স্বাভাবিকভাবে মানুষের যখন অভাব থাকে, তখন দুর্নীতির আশ্রয় নেওয়ার একটা প্রবণতা তৈরি হয়। এটা তো অস্বীকার করে লাভ নেই। সরকারি কর্মচারীদের জীবনযাত্রার ব্যয় অনেক বেড়েছে, তাই তাদের বেতন দ্রুত সমন্বয় করা জরুরি হয়ে পড়েছে।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন, গত ১১ বছর ধরে দেশে নতুন কোনো পে-স্কেল দেওয়া হয়নি। এই দীর্ঘ সময়ে মূল্যস্ফীতি আকাশ ছুঁয়েছে। বেসরকারি খাতে মূল্যস্ফীতির সাথে তাল মিলিয়ে প্রতিনিয়ত বেতন বাড়লেও সরকারি চাকরিজীবীরা সেই সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিলেন। ফলে তাদের সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। সরকার আশা করছে, বেতন ও আয় বাড়লে তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে এবং দুর্নীতি স্বাভাবিকভাবেই হ্রাস পাবে।

এর আগে বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত দেশের ৫৫তম জাতীয় বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন বা নতুন সরকারের মেয়াদে অর্থমন্ত্রী হিসেবে এটিই তার প্রথম বাজেট।

আজকের এই সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রীর সাথে সরকারের শীর্ষ নীতি-নির্ধারক ও উপদেষ্টা উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে অন্যতম: বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং ডাক ও তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান এবং এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান।

বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রীর এই মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তুমুল আলোচনার জন্ম দিয়েছে। নেটিজেন ও অর্থনীতিবিদদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।

অনেকেই মনে করছেন, নিম্ন ও মধ্যম আয়ের সরকারি কর্মচারীদের (যেমন: অফিস সহকারী, পিয়ন, মাঠপর্যায়ের কর্মী) ক্ষেত্রে বেতন বাড়ানো হলে সত্যি তাদের ঘুষ-দুর্নীতির ওপর নির্ভরতা কমবে। তবে সমালোচকদের একটি বড় অংশের মতে, দুর্নীতি কেবল অভাব থেকে হয় না, বরং এটি একটি মানসিক রোগ ও কাঠামোগত দুর্বলতা। বড় বড় আমলা ও শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিপুল বেতন-ভাতা থাকা সত্ত্বেও তাদের কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির খতিয়ান মাঝেমধ্যেই সামনে আসে। তাই কেবল বেতন বাড়িয়ে নয়, বরং কঠোর জবাবদিহিতা ও আইনের শাসন নিশ্চিত করলেই দুর্নীতি নির্মূল সম্ভব।

তবে বিতর্ক যাই থাকুক, ১১ বছর পর সরকারি কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির এই গ্রিন সিগন্যাল লাখ লাখ চাকরিজীবী পরিবারে বড় ধরনের স্বস্তি এনে দেবে, তা বলাই বাহুল্য।

এনএন/ ১২ জুন ২০২৬