মুছে যায়নি দিনগুলি, ফুরোয়নি হেমন্ত

মুছে যায়নি দিনগুলি, ফুরোয়নি হেমন্ত

আজও সমকালীন
দ্বিমত নেই মান্না দে অসাধারণ শিল্পী, কিশোর কুমার ছিলেন বিস্ময়কর প্রতিভা। মোহাম্মদ রাফি, মুকেশ কিংবা তালাত মাহমুদও নিজ নিজ জায়গায় কিংবদন্তি। এর বাইরে বাংলা গানের শ্রোতার কাছে হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের অবস্থান আলাদা। কারণ, তাঁর কণ্ঠে বাঙালি শুধু গান শোনে না, নিজের জীবনকেই খুঁজে পায়। ভাদ্রের গুমোট দুপুর, পৌষের কুয়াশা, ফাল্গুনের হাওয়া কিংবা শ্রাবণের টুপটাপ বৃষ্টি—প্রতিটি ঋতুর জন্য যেন তাঁর আলাদা গান আছে। প্রেমের জন্য আছে, বিচ্ছেদের জন্য আছে, অপেক্ষার জন্য আছে, স্মৃতির জন্য আছে। আছে নিঃসঙ্গ মানুষের দীর্ঘশ্বাস, আবার আছে জীবনের প্রতি গভীর মমতাও। তাঁর কণ্ঠে রবীন্দ্রনাথ যেমন আপন হয়ে ওঠেন, তেমনি আধুনিক গান পায় নতুন ভাষা। সলিল চৌধুরীর গণমুখী গান থেকে শুরু করে উত্তমকুমারের রোমান্টিক পর্দা-ব্যক্তিত্ব—সবকিছুর মধ্যেই তিনি রেখে গেছেন নিজের অনন্য ছাপ। এই কারণেই হেমন্ত মুখোপাধ্যায় বাঙালির সাংস্কৃতিক স্মৃতির অংশ, আবেগের অংশ, জীবনযাপনের অংশ। ১৯৮৯ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর তিনি পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছেন, এখনো তাঁর গান প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে পাড়ি দিচ্ছে।

সূত্র: হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের আত্মজীবনী, আনন্দবাজার,ইটিভি ভারত,প্রহর।