বল দখল, মাঠের খেলায় বেশ দাপট দেখালেও প্রথমার্ধে ১-০ গোলে লিড নেয় জাপান। দ্বিতীয়ার্ধে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় ব্রাজিল। একের পর এক আক্রমণে জাপান রক্ষণকে নাজেহাল করে ৫৬ মিনিটে কাসেমিরো সেলেসাওদের সমতায় ফেরান। এশিয়ার দেশটি অবশ্য এরপরও দারুণ লড়াই করেছিল। প্রায় পুরো সময়টা রক্ষণ অটুট রেখেছিল। তবে ৯৫ মিনিটে মার্তিনেল্লি রক্ষণভেদ করেন, লাতিন পরাশক্তিদের মাতান বুনোউল্লাসে। ২-১ গোলে জিতে শেষ ষোলোর টিকিট কেটেছে ব্রাজিল। খেলবে নরওয়ে ও আইভরি কোস্ট ম্যাচে জয়ী দলের বিপক্ষে।
হিউস্টনের স্টেডিয়ামে ব্রাজিলের গোল দুটি করেন কাসেমিরো ও মার্তিনেল্লি। জাপানের একমাত্র গোলটি করেন কাইশু সানো।
ম্যাচের দ্বিতীয় মিনিটে প্রথম আক্রমণ আসে ব্রাজিলের থেকে, প্রথম আক্রমণটি করেন ব্রুনো গুইমারায়েস। এরপর তৃতীয় ও দশম মিনিটে আবারও গুইমারায়েস আক্রমণ করলেও জাপানের গোলকিপার জিওন সুজুকি তা ঠেকিয়ে দেন। ১২ মিনিটে ম্যাচের প্রথম হলুদ কার্ড দেখেন কাইশু সানো।
২৯ মিনিটে কাঙ্খিত মুহূর্ত আসে জাপানের। মাঝমাঠ থেকে বল টেনে নিয়ে যান মিডফিল্ডার কাইশু সানো। ডি বক্সে ঠিক আগে জোরালো শট নেন এ মিডফিল্ডার। ব্রাজিলের গোলকিপার অ্যালিসন বেকারের ডানপাশ দিয়ে বল জড়ায় জালে। ১-০ গোলে এগিয়ে যায় এশিয়ার দলটি।
গোল হজমের পর আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে জাপান। গোল হজম করে কিছুটা চাপে পড়া ব্রাজিলের জালে কয়েকবার বল জড়ানোর সম্ভাবনা তৈরি করে জাপান। তবে প্রথমার্ধের পুরোটা সময়ে ৬০ শতাংশ বল নিজেদের দখলে রাখে ব্রাজিল।
বল বেশি সময় দখলে রাখলেও সেভাবে সুযোগ তৈরি করতে পারেনি পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নরা। পরে ১-০ গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় জাপান।
বিরতির পর নেমেই গোলের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে ব্রাজিল। ৫২ মিনিটে জালের দেখা পেতে পারতো ব্রাজিল, তবে রক্ষা করেন জাপান গোলরক্ষক সুজুকি। মাঝমাঠ থেকে গুইমারায়েসের উদ্দেশ্যে ক্রস বাড়ান দানিলো। গুইমারায়েস হেড নেন জাল মুখে, সুজুকি দারুণভাবে তা প্রতিহত করেন।
একমিনিট পর ফের আক্রমণে যায় ব্রাজিল। কাসেমিরোর হেড প্রায় জালে ঢুকেই যাচ্ছিল। গোললাইনের কাছাকাছি জায়গা থেকে কোনোভাবে ক্লিয়ার করেন তাকেহিতো তোমিয়াসু।
পরপর দুবার বাঁচার পর তৃতীয়বারে আর শেষ রক্ষা হয়নি জাপানের। ৫৬ মিনিটে গ্যাব্রিয়েল মাগালহেয়েসের ক্রসে কাসেমিরোর দারুণ এক হেডে সমতায় ফেরে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
এরপরও ব্রাজিল একাধিক আক্রমণ সাজায় তবে লিড নেয়া সম্ভব হয়নি। এরপর যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে ব্রাজিলকে লিড এনে দেন গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি। বুনো গুইমারায়েসের পাস থেকে বল পেয়ে জাপান জালে বল পাঠান সেলেসাও মিডফিল্ডার। ২-১ গোলে জয় শেষ ষোলো নিশ্চিত করে ব্রাজিল।





