যে সম্মানে আপ্লুত হয়েছিলেন মুস্তাফা মনোয়ার | চ্যানেল আই অনলাইন

যে সম্মানে আপ্লুত হয়েছিলেন মুস্তাফা মনোয়ার | চ্যানেল আই অনলাইন

দেশের শিল্প-সংস্কৃতির উজ্জ্বল নক্ষত্র, নন্দিত চিত্রশিল্পী, পাপেট আন্দোলনের পথিকৃৎ ও টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব মুস্তাফা মনোয়ার আর নেই। দীর্ঘদিন শারীরিক জটিলতায় ভোগার পর সোমবার (২৯ জুন) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তাঁর প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে পুরো সাংস্কৃতিক অঙ্গনে।

তবে আজকের এই বিদায়ের দিনে ফিরে আসে চার বছর আগের এক আবেগঘন মুহূর্ত। যে মুহূর্তে জীবদ্দশাতেই নিজের কর্মের স্বীকৃতি হিসেবে পেয়েছিলেন এক বিরল সম্মান। ২০২২ সালের ২৪ ডিসেম্বর চ্যানেল আই তাদের ৪ নম্বর স্টুডিওর নামকরণ করে ‘মুস্তাফা মনোয়ার স্টুডিও’। বাংলাদেশের টেলিভিশনের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো টেলিভিশন স্টুডিওর নামকরণ করা হয়েছিল একজন শিল্পীর নামে।

সেদিনের সম্মানে আপ্লুত হয়ে মুস্তাফা মনোয়ার বলেছিলেন, “কী দিয়ে যে শুরু করবো তা মাথায় আসছে না। এমন বিরাট সম্মান আমাকে দেওয়া হলো, আমি জানতামই না! এ সম্মান আমাকে অদ্ভুতভাবে অনুপ্রাণিত করছে আবার। মনে হচ্ছে, আমি নতুন করে টেলিভিশনে এলাম। আজকের এই সম্মান আমার বাকি জীবনে পাথেয় হয়ে রইল।”

তাঁর সেই কথাগুলো আজ যেন আরও বেশি অর্থবহ হয়ে ধরা দেয়। চিত্রশিল্পী, শিক্ষক, টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব- সব পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে মুস্তাফা মনোয়ার ছিলেন বাংলাদেশের টেলিভিশন সংস্কৃতির অন্যতম নির্মাতা। বাংলাদেশ টেলিভিশনের বিকাশে তাঁর অবদান যেমন অনস্বীকার্য, তেমনি দেশের পাপেট শিল্পকে জনপ্রিয় ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার ক্ষেত্রেও তিনি ছিলেন পথিকৃৎ। শিশু-কিশোরদের জন্য নির্মিত তাঁর অনুষ্ঠান, বিশেষ করে পাপেট শো এবং সৃজনশীল উদ্যোগগুলো আজও বহু মানুষের শৈশবের স্মৃতির অংশ।

চ্যানেল আইয়ের স্টুডিওর নামকরণ অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর বলেছিলেন, “চ্যানেল আই বাংলাদেশের চিরায়ত শিল্প-সংস্কৃতিকেই ধারণ করে। যা আমরা শিখেছি বাংলাদেশ টেলিভিশন থেকে। সেখান থেকে পাওয়া শিক্ষা, আচার আমরা এখনও মেনে চলার চেষ্টা করি। যারা আমাদের টেলিভিশন শিখিয়েছেন তাদের একজন মুস্তাফা মনোয়ার।”

সেদিনের অনুষ্ঠানে গুণীজনদের উপস্থিতির পাশাপাশি ছিল বিশেষ পাপেট শো। শিল্পী আজহারুল ইসলাম চঞ্চলের তৈরি শৈল্পিক নামফলক উন্মোচনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে ‘মুস্তাফা মনোয়ার স্টুডিও’।

আজ শিল্পী নেই। কিন্তু তাঁর নামে সেই স্টুডিও রয়ে গেছে, রয়ে গেছে তাঁর সৃষ্টির উত্তরাধিকারও। টেলিভিশনের প্রতিটি আলো জ্বলার সঙ্গে, ক্যামেরা চালুর প্রতিটি মুহূর্তে, শিল্প ও সংস্কৃতির প্রতি দায়বদ্ধতার এক নীরব স্মারক হয়ে দাঁড়িয়ে থাকবে ‘মুস্তাফা মনোয়ার স্টুডিও’- যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মনে করিয়ে দেবে, এই দেশের টেলিভিশন ও শিল্প-সংস্কৃতির ইতিহাসে মুস্তাফা মনোয়ার কেবল একজন শিল্পী নন, তিনি একটি প্রতিষ্ঠান।