মানুষ ও পরিবেশের সম্পর্ক: ইসলাম যেভাবে মূল্যায়ন করে

মানুষ ও পরিবেশের সম্পর্ক: ইসলাম যেভাবে মূল্যায়ন করে

আল্লাহ–তাআলা পরিবেশের এই চাক্ষুষ প্রমাণের মাধ্যমেই নিজের ‘রুবুবিয়্যাত’ আমাদের সামনে তুলে ধরেছেন। এ জন্যই তিনি আমাদের বারবার প্রকৃতির দিকে তাকিয়ে চিন্তা ও গবেষণা করার আহ্বান জানিয়েছেন।

আল্লাহ বলেন, ‘তিনিই সূর্যকে দীপ্তিময় এবং চন্দ্রকে আলোকময় করেছেন এবং তার মনজিলগুলো (কক্ষপথ) নির্ভুলভাবে নির্ধারণ করেছেন…আল্লাহ এসব নিরর্থক সৃষ্টি করেননি, বরং সত্যতার সঙ্গেই সৃষ্টি করেছেন।’ (সুরা ইউনুস, আয়াত: ৫)

আবার বলা হয়েছে, ‘তারা কি নিজেদের মনে ভেবে দেখে না যে আল্লাহ আকাশমণ্ডলী, পৃথিবী এবং এই দুইয়ের মধ্যবর্তী সবকিছু সত্যতার সঙ্গেই সৃষ্টি করেছেন?’ (সুরা আর-রুম, আয়াত: ৮)

আল্লাহর মহিমান্বিত শক্তির প্রমাণ মেলে সুরা আর-রাদের ১২-১৩ নম্বর আয়াতেও—‘তিনিই তোমাদের ভয় ও আশার সঞ্চার করতে বিদ্যুৎ দেখান এবং ভারী মেঘমালা সৃষ্টি করেন। আর বজ্র তাঁর প্রশংসার সঙ্গে তসবিহ পাঠ করে।’

আবার সুরা আবাসা’র ২৫-৩১ নম্বর আয়াতে মানুষের জীবনোপকরণের নিখুঁত ব্যবস্থার বিবরণ দিয়ে বলা হয়েছে, ‘আমিই প্রচুর পানি বর্ষণ করি, অতঃপর জমিকে চমৎকারভাবে বিদীর্ণ করি এবং তাতে উৎপন্ন করি শস্য, আঙুর, শাকসবজি, জয়তুন, খেজুর এবং ঘন উদ্যান ও ফলমূল।’

অতএব, আমাদের চারপাশের এই দৃশ্যমান পরিবেশের মহিমান্বিত আয়োজনেই লুকিয়ে আছে স্রষ্টাকে চেনার চাবিকাঠি। যত বেশি আমরা তা নিয়ে ভাবব, সত্যের আলো আমাদের সামনে তত বেশি উন্মোচিত হবে।

পবিত্র কোরআনে বর্ণিত হয়েছে, ‘আমি ওদের জন্য আমার নির্দেশনাবলি বিশ্বজগতে এবং ওদের নিজেদের মধ্যে প্রকাশ করব, যাতে ওদের কাছে স্পষ্ট হয়ে যায় যে এটি সত্য।’ (সুরা ফুসসিলাত, আয়াত: ৫৩)

মোট কথা, ইসলাম মানুষ ও পরিবেশের মধ্যে এমন একটি অবিচ্ছেদ্য ও পরিপূরক সম্পর্ক তৈরি করেছে, যা মানুষের ইমান ও চেতনাকে শাণিত করে। মানুষ যত বেশি প্রকৃতিকে জানবে, স্রষ্টার প্রতি তার বিশ্বাস ও আত্মসমর্পণ তত সুদৃঢ় হবে।