বেশ ধীরগতিতেই শুরু হয় সিনেমা। প্রথম দিকে গ্রামের মেঠোপথ ধরে এগিয়ে চলা অনন্যা ও কোরবানকে ছাড়া আর তেমন কোনো গল্পই নেই। অনন্যা খুঁজছে এক ব্যক্তিকে আর একের পর এক ব্যর্থতা তাকে কখনো করে তুলছে বিচলিত, কখনো উদাস কিংবা চিন্তিত। তবে এখানেই হয়তো পরিচালক নিজস্বতা। গল্পকে তিনি অতি নাটকীয় করতে চাননি। বরং বড় কোনো নাটকীয়তা ছাড়াই ধীরে ধীরে দর্শককে চরিত্রগুলোর ভেতরে প্রবেশ করাতে চেয়েছেন তিনি।
প্রথমার্ধে গল্পে খুব একটা গতি না থাকলেও গ্রামের ভিজ্যুয়াল মুগ্ধ করে। কাজী আসাদের আগের কাজ ‘আধুনিক বাংলা হোটেল’ সিনেমাটিতেও ব্যাপারটি ছিল। শহুরে চেনা পরিবেশ থেকে বেরিয়ে মফস্সলের গল্প দেখাটা ছিল চোখের আরাম। এবারও নদী, চর, কাঁচা রাস্তা আর গ্রামবাংলার প্রকৃতি আলাদা চরিত্র হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে সূর্যমুখী বাগানের ভেতর বাইক যখন এগিয়ে যায়, সে দৃশ্য চোখে লেগে থাকে। এ জন্য চিত্রগ্রাহক ড্যানিয়েল হাওলাদারের কাজও প্রশংসনীয়। দ্বিতীয়ার্ধে গল্পের জট খুলতে শুরু করে, ফলে গতি ফিরে পায় চলচ্চিত্র।
অনন্যা চরিত্রে বিদ্যা সিনহা মিম তাঁর সাম্প্রতিক কাজগুলোর মধ্যে অন্যতম পরিণত অভিনয় করেছেন। মিম দীর্ঘদিন ধরেই নিজেকে একজন ভালো অভিনেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করে আসছেন। ‘লাইফলাইন’ সেই যাত্রায় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন। গ্ল্যামারের মোড়ক ছেড়ে একেবারে সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ের ভূমিকায় তিনি নিজেকে বেশ ভালোভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন।




