নিরাপত্তার জন্য পোষা কুকুরই ডেকে আনল আইনি বিপর্যয়! | চ্যানেল আই অনলাইন

নিরাপত্তার জন্য পোষা কুকুরই ডেকে আনল আইনি বিপর্যয়! | চ্যানেল আই অনলাইন

আইনি জটিলতায় পড়েছেন আমেরিকান গায়ক ও গীতিকার ক্রিস ব্রাউন। ২০২০ সালে ব্রাউনের ক্যালিফোর্নিয়ার টারজনা এলাকার বাড়িতে তার পোষ্য ‘ককেশিয়ান শেফার্ড’ প্রজাতির কুকুরের হামলায় গুরুতর জখম হয়েছিলেন গৃহপরিচারিকা মারিয়া আভিলা। দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়ার শেষে অবহেলার অভিযোগে ব্রাউন এবং তার সংস্থা ‘ব্ল্যাক পিরামিড এলএলসি’-র বিরুদ্ধে তার প্রাক্তন গৃহপরিচারিকাকে প্রায় ১৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিল লস অ্যাঞ্জেলেসের একটি আদালত।

আদালতে মারিয়া জানান, ঘটনার দিন তিনি বাড়ির আবর্জনা ফেলতে বেরিয়েছিলেন। সেই সময় হেডিস নামে গায়কের প্রায় ৯০ কেজি ওজনের পোষ্য তার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। হামলায় তার মুখ ও হাতের একাধিক অংশে মারাত্মক ক্ষত তৈরি হয়। শরীরের বিভিন্ন জায়গা বিকৃত হয়ে যায় বলেও অভিযোগ। পাশাপাশি এখনও নাকি চলাফেরার সমস্যায় ভুগছেন তিনি।

এদিকে আদালতের রায়ে ব্রাউনের বিরুদ্ধে মারিয়াকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার পাশাপাশি মারিয়ার বোন প্যাট্রিসিয়া আভিলাকে ৮ লক্ষ ৮৫ হাজার ডলার এবং স্বামী অস্কার অলিভোকে ৫০ হাজার ডলার দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

বিচার চলাকালীন ক্রিস ব্রাউন জানান, রক্তাক্ত অবস্থায় মারিয়াকে দেখে তিনি আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন। তাঁর দাবি, ম্যানেজারের পরামর্শেই তিনি ঘটনাস্থল ছেড়ে চলে যান। কারণ, তিনি আশঙ্কা করেছিলেন, পুলিশ আসার সময় তিনি সেখানে থাকলে বা ৯১১-এ ফোন করলে তা নিয়ে বড়সড় ‘মিডিয়া সার্কাস’ তৈরি হতে পারে।

ব্রাউনের আরও দাবি, তিনি আগেই মারিয়া এবং তার বোনকে পোষ্যদের কাছাকাছি না যাওয়ার জন্য সতর্ক করেছিলেন। তার কথায়, পোষ্যেরা মোটেই বন্ধুসুলভ ছিল না। তবে মারিয়া ও প্যাট্রিসিয়া আদালতে সেই দাবি অস্বীকার করেন। তাদের বক্তব্য, এমন কোন সতর্ক বার্তা দেওয়া হয়নি। উপরন্তু ভাষাগত সমস্যার কারণে ওই ধরনের কথোপকথন হওয়ার সম্ভাবনাও ছিল না।

নিরাপত্তার স্বার্থেই তিনি কুকুরটি পুষেছিলেন বলে আদালতে দাবি করেন ব্রাউন। তার কথায়, প্রায়ই অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয় তাকে। তবে শেষপর্যন্ত গৃহপরিচারিকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগে ব্রাউন ও তার সংস্থাই দায়ী বলে রায় দিয়েছে আদালত।