১২ কোটি বাজেটে ৪ হাজার কোটি আয়! কোন জাদুতে মাত করল সেই সিনেমা

১২ কোটি বাজেটে ৪ হাজার কোটি আয়! কোন জাদুতে মাত করল সেই সিনেমা

অবশ্য শুধু অপরাধীরাই এই ছবিতে শাস্তি পায় না। যারা কোনো দোষই করেনি, তাদেরও ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হতে হয়। চরিত্র ও দর্শক—উভয়ের প্রতিই মানসিক নিষ্ঠুরতা দেখানোর ক্ষেত্রে বার্কারের মধ্যে স্পষ্টভাবেই আরি অ্যাস্টারের প্রভাব দেখা যায়।

ছবিজুড়ে রয়েছে ভয়ংকর সব দৃশ্য। বিশেষ করে যাঁরা বিড়াল ভালোবাসেন, তাঁদের জন্য সতর্কবার্তা—এমন কিছু মুহূর্ত আছে, যা দেখে সিনেমা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই নিজের পোষা প্রাণীর খোঁজ নিতে বাড়ি ফিরতে ইচ্ছা করবে। রয়েছে হঠাৎই এসে পড়া নির্মম পিটিয়ে হত্যার দৃশ্যও, যার নৃশংসতা এতটাই বেশি ছিল যে যুক্তরাষ্ট্রে এনসি-১৭ রেটিং এড়াতে সেটির কিছু অংশ কেটে ফেলতে হয়েছে। সব দিক থেকেই ‘অবসেশন’ বিশৃঙ্খল, যেন রক্ত আর অস্বস্তির অনুভূতি চারদিকে ছিটিয়ে দিতে নির্মাতার বিন্দুমাত্র দ্বিধা নেই।

পুরো ছবিতে বার্কারের আগ্রহ প্রচলিত ভুতুড়ে বাড়ির ভয় তৈরিতে নয়; বরং তিনি সম্পাদনার এমন এক ছন্দ ব্যবহার করেছেন, যা নিজেই দর্শকের মানসিক ভারসাম্য নষ্ট করে দিতে যথেষ্ট। এর পেছনে রয়েছে তাঁর ইউটিউবার হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা। ‘ব্যাকরুমস’-এর পরিচালক কেইন পারসন্সের মতো তিনিও নিজের সিনেমার সম্পাদনা নিজেই করেন। পাশাপাশি স্কেচ কমেডিয়ান হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতাও ছবির গঠনে প্রভাব ফেলেছে। ফলে জাম্প স্কেয়ার তুলনামূলক কম থাকলেও, গল্প যত এগোয়, সংলাপ ও পরিস্থিতির কৌতুক ততই নিষ্ঠুর, অন্ধকার ও মহাজাগতিক মাত্রা পায়।