শিক্ষার্থীদের সমর্থনের পরই উল্টো সুর, প্রশ্নের মুখে সালমান | চ্যানেল আই অনলাইন

শিক্ষার্থীদের সমর্থনের পরই উল্টো সুর, প্রশ্নের মুখে সালমান | চ্যানেল আই অনলাইন

শিক্ষার্থীদের সমর্থনে বিবৃতি দেয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই অন্য সুর ধরা পড়ল বলিউড সুপারস্টার সালমান খানের আরেক পোস্টে। সালমান ভক্তদের অনুমান, মোদি সরকারের চাপে পড়েই সুর পাল্টিয়েছেন বলিউডের এই ভাইজান!

বুধবার রাতে সমাজমাধ্যমে ভারতের শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়ে পোস্ট করেছিলেন সালমান। বৃহস্পতিবার দুপুরেই প্রতিবাদী শিক্ষার্থীদের ঘরে ফিরে যাওয়ার অনুরোধ করেন এই তারকা!

পোস্টে তিনি লেখেন, “শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও নিরাপত্তাই এখন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তাই তাদের আর উদ্বিগ্ন হওয়ার বা বাবা-মাকে উদ্বেগে রাখার দরকার নেই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্যেই টুইট করেছেন। আমার বিশ্বাস, প্রশ্নফাঁসের জন্য যারা দায়ী, তাদের বিরুদ্ধে তিনি কঠোর ব্যবস্থা নেবেন। তাই পড়ুয়াদের বলছি, বাড়ি ফিরে যাও, বাবা-মায়ের কাছে ফিরে যাও।”

শুধু এটুকুই নয়। সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকের প্রতিও অনশন তুলে নেওয়ার আবেদন জানান সালমান। লেখেন, “সোনম, যথেষ্ট হয়েছে। আর অনশন বাড়িয়ো না। ভবিষ্যতে যদি আবার প্রয়োজন পড়ে, সে লড়াইয়ের জন্য শক্তি সঞ্চয় করে রাখ। যদিও আমার মনে হয়, আর সেই প্রয়োজন হবে না। কিছু খেয়ে নাও। চাইলে বাড়ি থেকে তোমার জন্য খাবার পাঠিয়ে দেব।”

বৃহস্পতিবার রাতেই যদিও সোনম অনশন ভাঙেন। তবে সালমানের এই পোস্টে কিছুটা অবাক তার অনুরাগীরা!

বলি তারকার কাছে প্রায়ই আসে লরেন্স বিশ্নোইয়ের থেকে প্রাণনাশের হুমকি। তাঁর পরিবারকেও হুমকি দেওয়া হয়। তাই অনেকেই মনে করেছিলেন, ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলন নিয়ে তিনি মুখ খুলবেন না। বুধবার সকলকে অবাক করে দিয়ে আন্দোলনের পক্ষে মুখ খোলেন সালমান। তিনিই প্রথম ‘খান’ যিনি মুখ খুলেছিলেন এই বিষয়ে। তাই অনেকেই প্রশংসা করেছিলেন।

বুধবারের পোস্টে সালমান লিখেছিলেন, “এটি খুবই শান্তিপূর্ণ একটি আন্দোলন। কিন্তু শেষপর্যন্ত তা হিংসাত্মক মোড় নেওয়ায় খুব খারাপ লাগছে। আহত ছাত্রছাত্রী এবং তাঁদের পরিবারের জন্য আমার সত্যিই খুব কষ্ট হচ্ছে। প্রশ্নপত্র ফাঁস অত্যন্ত গুরুতর বিষয়। তবে দেশের পড়ুয়ারা যে আরও ভাল শিক্ষাব্যবস্থার দাবিতে একজোট হয়েছেন এবং তাঁদের অভিভাবকেরাও পাশে দাঁড়িয়েছেন, তা দেখে ভাল লাগছে।”

এমন পোস্টের পর দিনই সরকারের পক্ষে সাফাই গাওয়ায় অনেকের তাই সন্দেহ, হয়তো সরকারের পক্ষ থেকে চাপের কারণেই নিজের অবস্থান পরিবর্তন করেছেন সালমান।

ভারতের জনপ্রিয় কন্টেন্ট ক্রিয়েটর ধ্রুব রাঠে সালমানের ওই পোস্টের নিচে মন্তব্য করেন,“অমিত শাহ কি আপনার পরবর্তী সিনেমা নিষিদ্ধ করার হুমকি দিয়েছেন? সবাই জানে, সম্মানিত প্রধানমন্ত্রীর পুরো সরকারই এখন ভয়ভীতি দেখানো আর চাপ সৃষ্টি করে টিকে আছে। চিন্তা করবেন না, মোদি ক্ষমতায় না থাকলে ভারতের মানুষই আপনাদের বাকস্বাধীনতা আবার ফিরিয়ে দেবে।”

শিক্ষার্থীদের ঘরে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানানো সালমানের ওই পোস্টে এরকম আরো শত শত মন্তব্য দেখা গেছে।