
বৈরুত, ১৪ আগস্ট – লেবাননের পার্লামেন্ট দীর্ঘ প্রতীক্ষিত একটি সাধারণ ক্ষমা আইন পাস করেছে। এর ফলে দেশটির কারাগারে থাকা কয়েক হাজার বন্দি এবং পলাতক ব্যক্তি আইনি সুবিধা পেতে যাচ্ছেন। ১৯৯১ সালের পর এটিই দেশটিতে পাস হওয়া এ ধরনের প্রথম কোনো আইন।
দেশটির বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের দাবি এবং বছরের পর বছর ধরে চলা বিতর্কের পর কারাগারে অতিরিক্ত বন্দির চাপ কমাতেই এই আইন কার্যকর করা হয়েছে। লেবাননের অনেক বন্দি বর্তমানে বিচারের অপেক্ষায় বছরের পর বছর কারাবন্দি অবস্থায় রয়েছেন।
স্পিকারের কার্যালয় নিশ্চিত করেছে যে সাধারণ ক্ষমা প্রদান এবং নির্দিষ্ট কিছু অপরাধের সাজা কমানোর লক্ষ্যে এই খসড়া আইনটি অনুমোদন করা হয়েছে। আইনপ্রণেতা ইমাদ আল হুতের তথ্য অনুযায়ী, নতুন আইনে মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্তদের কারাদণ্ড কমিয়ে ১৭ বছরে আনা হয়েছে।
লেবাননের কারা আইন অনুযায়ী এক বছর কারাদণ্ডকে নয় মাস হিসেবে ধরা হয়, যার ফলে ১৭ বছরের সাজা প্রকৃতপক্ষে ১২ বছর নয় মাসের সাজার সমান। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের প্রতিবেদন অনুযায়ী দেশটির কারাগারগুলোতে ধারণক্ষমতার চেয়ে ৩০০ শতাংশ বেশি বন্দি রয়েছে।
মার্চ মাসের হিসাব অনুযায়ী কারাগারগুলোতে অন্তত ৬ হাজার ২৬৮ জন বন্দি অবস্থান করছিলেন। ২০২৪ সালে সিরিয়ায় রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর এই সাধারণ ক্ষমার বিষয়টি পুনরায় সামনে আসে। সিরিয়া যুদ্ধ সংশ্লিষ্ট ঘটনায় উত্তর লেবাননের ত্রিপোলি শহরের অনেক সুন্নি মুসলিম কারাগারে আটক ছিলেন।
আইনটি পাসের খবরে ত্রিপোলিতে সাধারণ মানুষের মধ্যে উল্লাস দেখা গেছে এবং তারা আতশবাজি ফুটিয়ে আনন্দ প্রকাশ করেছেন। ইরান সমর্থিত শিয়া রাজনৈতিক গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ এবং অন্যান্য খ্রিষ্টান দলগুলোও তাদের নিজ নিজ এলাকার অভিযুক্তদের জন্য এই সাধারণ ক্ষমার দাবি জানিয়ে আসছিল।
মূলত ১৯৭৫ থেকে ১৯৯০ সালের গৃহযুদ্ধের পর লেবানন এমন আইন পাস করেছিল যার মাধ্যমে তৎকালীন নেতাদের রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ হয়েছিল।
এস এম/ ১৪ আগস্ট ২০২৬



