নামের মিলেই ভুয়া দলিল, ফিঙ্গারপ্রিন্টে ধরা!

নামের মিলেই ভুয়া দলিল, ফিঙ্গারপ্রিন্টে ধরা!

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি : মানিকগঞ্জে নামের মিলকে কাজে লাগিয়ে অন্যের জমি দখলের চেষ্টায় করা একটি দলিলের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আদালতের নির্দেশে দলিলে থাকা আঙুলের ছাপ পরীক্ষা করা হলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির জাতীয় পরিচয়পত্রের ছাপের সঙ্গে তা তুলনা করা সম্ভব হয়নি। ফলে দলিলটি আসল নাকি ভুয়া—তা নিশ্চিত করতে আরও ছাপের প্রয়োজন বলে মতামত দিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

প্রতীকী ছবি

মানিকগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা জজ ২য় আদালতে চলমান দেওয়ানি আপিল-২৩/২০২৩ মামলায় আদালতের নির্দেশে দলিলটি পরীক্ষা করা হয়। এ বিষয়ে গত ১৫ এপ্রিল আদালত থেকে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (ফরেনসিক) বরাবর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাঠানো হয়। পরে সিআইডির ফিঙ্গারপ্রিন্ট ব্যুরোতে দলিলের আঙুলের ছাপ পরীক্ষা করা হয়।

পরীক্ষার জন্য ১৯৭২ সালের ২০ ডিসেম্বরের রেজিস্ট্রি দলিল নং-১৩৭৩৪ পাঠানো হয়। ওই দলিলে ‘সাহেব আলী’ নামের বিপরীতে থাকা একটি আঙুলের ছাপ পরীক্ষা করা হয়। একই সঙ্গে মো. শাহেব আলী দেওয়ানের জাতীয় পরিচয়পত্রে থাকা আঙুলের ছাপের সঙ্গে তা তুলনা করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

ফিঙ্গারপ্রিন্ট ব্যুরোর মতামতে বলা হয়েছে, দলিলে ‘সাহেব আলী’ নামের বিপরীতে থাকা ছাপটি পরীক্ষার উপযোগী হলেও মো. শাহেব আলী দেওয়ানের জাতীয় পরিচয়পত্রের ছাপটি আংশিক ও অস্পষ্ট। এতে প্রয়োজনীয় রেখা-বৈশিষ্ট্য স্পষ্টভাবে বোঝা না যাওয়ায় দুই ছাপের তুলনামূলক পরীক্ষা করে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।

তবে নির্বাচন কমিশনের সার্ভারে সংরক্ষিত ওই ব্যক্তির জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে থাকা আঙুলের ছাপের সফট ও হার্ড কপি অথবা তার আঙুলের ছাপযুক্ত অন্য কোনো দলিল পাওয়া গেলে পরবর্তীতে পরীক্ষা করে মতামত দেওয়া সম্ভব বলে জানিয়েছে ফিঙ্গারপ্রিন্ট ব্যুরো।

মামলার সংশ্লিষ্টরা জানান, নামের মিল থাকায় জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়। পরে বিতর্কিত দলিলের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য আদালতের মাধ্যমে আঙুলের ছাপ পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এখন নির্বাচন কমিশনের সংরক্ষিত ছাপ বা অন্য কোনো নির্ভরযোগ্য নথি পাওয়া গেলে দলিলে থাকা ছাপের সঙ্গে তা মিলিয়ে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হতে পারে।