বাংলা নাটকে বিগত এক যুগে অন্যতম সাড়া জাগানো নাটক অপূর্ব-মেহজাবীন অভিনীত ‘বড়ছেলে’। মিজানুর রহমান আরিয়ান পরিচালিত নাটকটি ২০১৭ সালে প্রচারের পর দেশ বিদেশে আলোচনা তৈরি করে। অনেকেই আধুনিক যুগের নাটকের ‘ইউটার্ন’ মনে করেন ‘বড়ছেলে’-কে। প্রচারের পর থেকে সবার কাছে ‘বড়ছেলে’ হিসেবে নতুনভাবে পরিচিতি পান অপূর্ব।
নয় বছর পরেও আজও ‘বড়ছেলে’ পরিচয়ে পরিচিত অপূর্ব। তিনি বলেন, মানুষের যে পরিমাণ ভালোবাসা ‘বড়ছেলে’র কারণে পেয়েছি, এই পরিচয় কখনো চাই না ফুরিয়ে যাক। এই ভালোবাসাটা আরও বাড়তে থাকুক। মানুষ যেন শেষ জীবন পর্যন্ত আমাকে ‘বড়ছেলে’ বলে চিনুক।
গেল সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফিরে নাটকের শুটিংয়ে অংশ নিয়েছেন অপূর্ব। যুক্তরাষ্ট্র থাকাকালীন তিনি একটি ‘একক সংগীত সন্ধ্যা’ করেছিলেন। কনসার্ট সফলভাবে সম্পন্ন করেন অপূর্ব। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য স্টেটেও তাকে কনসার্টের জন্য ডাকা হচ্ছে বলে জানালেন তিনি।
বৃহস্পতিবার বিকেলে অপূর্বর সঙ্গে কথা হচ্ছিল রাজধানীর পূর্বাচল একালায় মাশরিকুল আলম পরিচালিত ‘নীলপরী’ নাটকের শুটিং সেটে। সেখানে তার সহশিল্পী শার্লিন ফারজানাও ছিলেন। ওই আলাপে নানা বিষয় নিয়ে এই তারকা অভিনেতার সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা হয় চ্যানেল আই অনলাইনের এই প্রতিবেদকের।
অপূর্ব বলেন, যখন ‘বড়ছেলে’ করেছিলাম আরিয়ানের (নির্মাতা) বয়স কম ছিল। তখন এই নাটক থেকে অনেক বড় সাকসেস এসেছিল। মানুষের জেনুইন ভালোবাসা অনুভব করেছি। এখন অনেকে পেইড পিআর করেন, যেটা হলিউডের পাশাপাশি বাংলাদেশেও হচ্ছে। দর্শকরা যখন বড়ছেলের মতো সত্যিকারভাবে কিছু আপন করে নেন, সেই কাজ পেইড পিআর এর ধারে কাছেও ঘেঁষতে পারে না। মানুষের জেনুইন ভালোবাসা থেকে যে শক্তি ও অনুপ্রেরণা পাই সেটা ভালো কাজের গতিকে আরও বেশি বাড়িয়ে দেয়। তখন মনে হয়, আরও ভালো দিতে চাই।
ইদানিং পারিবারিক গল্পের নাটক নির্মাণ বেড়েছে। অপূর্ব এ প্রসঙ্গে বলেন, এটা তো খুবই ভালো। এখন অনেক বেটার কাজ হচ্ছে। আমরা কেউ পরিবারের বাইরে নই। আমি মনে করি, পরিবারকে নিয়ে সবাই ভাবছে এটার চেয়ে গুড সাইন আর কী হতে পারে! তাছাড়া আমাদের দেশে পরিবারের গল্পের নাটকের চাহিদা এখন থেকে নয়, সেই নব্বই দশক থেকে। আমার বিশ্বাস, পরিবারের বাইরে নাটক কল্পনা করা যায় না।
এত এত দর্শক নন্দিত কাজের পরেও অপূর্বকে খুব বেশি দেখা যায় না দৃশ্যমান স্বীকৃতি বা অ্যাওয়ার্ডে পেতে! কিন্তু কেন? সেই উত্তরে অপূর্ব বিনয়ের সাথে বলেন, আমার কাছে অ্যাওয়ার্ড হচ্ছে আমার অনুরাগীরা; যারা আমাকে দোয়া করেন, আমার অসুস্থতার খবরে চিন্তিত হন, আমার ভালো কাজে খুশি হন এই প্রতিটি মানুষ আমার কাছে অ্যাওয়ার্ড। সেই দিক থেকে বলতে পারি, আমি লাখো কোটি অ্যাওয়ার্ডের অধিকারী।

নাটকের পাশাপাশি ওটিটিতেও সরব অপূর্ব। বুকের মধ্যে আগুন, গোলাম মামুন কিংবা হেডলাইনে তার উপস্থিতি নজড় কেড়েছে দর্শকের। এর পাশাপাশি কলকাতার ‘চালচিত্র’ নামে একটি ছবিতে অভিনয় করে তিনি চিরাচরিত ইমেজ ভেঙে চমকে দিয়েছেন দর্শকদের। দুই বাংলার দর্শকদের কাছে অপূর্ব প্রমাণ করেছেন, শুধু রোম্যান্টিক ইমেজ নন; থ্রিলার ও খল চরিত্রেও তিনি সেরা!
নতুন করে সিনেমায় কি দেখা যাবে? উত্তরে অপূর্ব বলেন, একসাথে চারটি সিনেমা নিয়ে কথাবার্তা চলছে। এগুলো হওয়ার চান্স আছে, তবে এখনও কংক্রিটভাবে চূড়ান্ত হয়নি। আগেই কিছু জানাতে চাই না; কারণ আমি চাইনা দর্শকদের কাছে আমার আস্থার জায়গাটা নষ্ট হোক। যোগ করে বলেন, এমনও হয়েছে সাইন করেছি, সেই ছবি পরে আর হয়নি। তাই যখন বুঝবো কাজটি সিওর হচ্ছে তখন সবাইকে জানাবো। জানাতে আরও কিছুটা সময় লাগবে।



