দফায় দফায় সংঘর্ষে রণক্ষেত্র দিনাজপুর, আহত ১৫

দফায় দফায় সংঘর্ষে রণক্ষেত্র দিনাজপুর, আহত ১৫

দিনাজপুরে পরিবহন শ্রমিকদের দুপক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১৫ জন শ্রমিক আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শ্রমিকদের একটি দল থানার সামনে অবস্থান নিলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এতে ৭ থেকে আটজন আহত হন। পরে বিকেল ৩টার দিকে ধারালো অস্ত্র নিয়ে আরেকটি দল থানার সামনে এলে আবারও সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে আরও ৬ থেকে সাতজন শ্রমিক আহত হন। দিনাজপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আব্দুল হালিম গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জানা গেছে, এ সময় দুটি বাস ও একটি মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়া হয়। ভাঙচুর করা হয়েছে অন্তত ১০টি বাস। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

এর আগে, বুধবার (২৬ আগস্ট) রাত থেকে শ্রমিকদের একটি অংশ সড়কে বাস রেখে অবরোধ শুরু করায় দিনাজপুরের সঙ্গে আন্তঃজেলা ও ঢাকাগামী বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা।

পুলিশ ও শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বুধবার রাত ৯টার দিকে দিনাজপুর সদর উপজেলার শেখপুর ইউনিয়নের গাবুড়া বটতলী বাজার থেকে জেলা মোটর পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ বাদশাকে আটক করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এর প্রতিবাদে রাত ১১টার দিকে শ্রমিকদের একটি অংশ কোতোয়ালি থানার সামনে, কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল, কেন্দ্রীয় ট্রাক টার্মিনালসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে বাস রেখে অবরোধ করে। একই সঙ্গে শেখ বাদশার মুক্তির দাবিতে থানার সামনে বিক্ষোভ শুরু করেন তারা।

এদিকে বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সংঘর্ষের সময় থানার সামনে অবরোধ করে রাখা এসআর পরিবহনের একটি নৈশ কোচ ও এইচএ এন্টারপ্রাইজের একটি বাসে আগুন দেওয়া হয়। মাছরাঙা টেলিভিশনের ক্যামেরাপার্সনের একটি মোটরসাইকেলেও আগুন দেওয়া হয়। এ সময় অন্তত ১০টি বাস ভাঙচুর করা হয়।

পরে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে কড়া পুলিশি নিরাপত্তায় শেখ বাদশাকে দিনাজপুর কোতোয়ালি থানা থেকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়।

শ্রমিকদের অভিযোগ, দিনাজপুর জেলা মোটর পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের আসন্ন নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হয়েছেন শেখ বাদশা। তাকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখতে পুলিশ বিভিন্নভাবে হয়রানি করছে। এ কারণেই তাকে আটক করা হয়েছে বলে দাবি তাদের।

দিনাজপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আব্দুল হালিম বলেন, শ্রমিক নেতা শেখ বাদশাকে আটকের পর তার মুক্তির দাবিতে কিছুসংখ্যক শ্রমিক গতকাল থেকেই বিচ্ছিন্নভাবে আন্দোলন করে আসছিল। তার বিরুদ্ধে তিনটি মামলা চলমান রয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আজকে যখন তাকে কোটে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছিল ঠিক সেই মুহূর্তে শ্রমিকদের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি হয়। তার ফলশ্রুতিতে এই ঘটনাটি ঘটিয়েছে। তবে কে বা কারা ঘটনাটি ঘটিয়েছে সেটি নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি। আমরা তদন্ত করছি। বাস ও মোটর সাইকেলে আগুন এবং ভাঙচুরের ঘটনাটি সত্য। বর্তমানে মির্জাপুর বাস টার্মিনাল ছাড়া বাকি সব স্থানে বাস চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।’