ঘড়ির কাঁটাও সেখানে আলাদা
শুধু দিন বা বছরই নয়, ইথিওপিয়ার সময় গণনার নিয়মটিও একদম ভিন্ন। বেশির ভাগ দেশ মধ্যরাত ১২টি থেকে নতুন দিন ধরলেও ইথিওপিয়ায় দিন শুরু হয় সূর্যোদয়ের সময় অর্থাৎ সকাল ৬টা বা ৭টা থেকে। তাদের কাছে সকাল ৭টা মানে দিনের প্রথম ঘণ্টা বা ভোর ১টা। ইথিওপিয়ায় মানুষেরা মনে করেন, ইউরোপীয় নিয়মে কেন মধ্যরাতে নতুন দিন শুরু হবে, কেননা তখন তো সবাই ঘুমিয়ে থাকে।
তবে এর ফলে পর্যটকদের সঙ্গে দেখা করা কিংবা বিমানের টিকিট কাটার সময় বেশ বিভ্রান্তি তৈরি হয়। তবে বিদেশি পর্যটকদের ফ্লাইটের তারিখ বা সময় নিয়ে দুশ্চিন্তা করার কিছু নেই। কারণ, ইথিওপিয়ার বিমান সংস্থাগুলো বৈশ্বিক হিসাব মেলাতে ইউরোপীয় ক্যালেন্ডারই মেনে চলে।
ইথিওপিয়া একটি ঐতিহ্যবাহী দেশ। এখানকার বহু মানুষ, বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের অধিবাসীরা বাইরের দুনিয়ার ক্যালেন্ডার নিয়ে একেবারেই মাথা ঘামান না। তারা শত শত বছর ধরে নিজেদের এই নিয়মেই অভ্যস্ত।
তবে সময়ের সঙ্গে প্রযুক্তির ছোঁয়া গ্রামেও পৌঁছে গেছে। আজকাল অনেক কৃষকের হাতে স্মার্টফোন। তাই এখন অনেকে ভাবছেন ভবিষ্যতে ইন্টারনেটের কারণে ইথিওপিয়ার তরুণ প্রজন্ম কি তবে তাদের প্রাচীন পঞ্জিকা ছেড়ে দেবে?
অধিকাংশের মতে, সেই সম্ভাবনা কম। তাঁরা মনে করেন, বিশ্বায়নের দোহাই দিয়ে স্রেফ সুবিধার খাতিরে ১ হাজার ৫০০ বছরের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য বদলে ফেলার কোনো যৌক্তিকতা নেই।


