
ছবি: সংগৃহীত
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ২০২৩ সালের পর প্রথমবারের মতো সুদের হার বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ফেডের নীতিনির্ধারকেরা সর্বসম্মতভাবে সুদের হার ০ দশমিক ২৫ শতাংশীয় পয়েন্ট বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন।
এর ফলে ফেডের বেঞ্চমার্ক সুদের হার বেড়ে ৩ দশমিক ৭৫ থেকে ৪ শতাংশের মধ্যে দাঁড়িয়েছে। ফেডের ১২ সদস্যের ফেডারেল ওপেন মার্কেট কমিটি (এফওএমসি) ১২-০ ভোটে সিদ্ধান্তটি অনুমোদন করে।
ফেড জানিয়েছে, মূল্যস্ফীতি এখনো উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। পাশাপাশি ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তাও বেশি। সুদের হার বাড়ানোর মাধ্যমে মূল্যস্ফীতিকে দীর্ঘমেয়াদে ২ শতাংশের লক্ষ্যে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
ফেডের নতুন চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শ বলেন, মূল্যস্ফীতি অনেক বেশি এবং দীর্ঘদিন ধরেই তা উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। মূল্যস্ফীতি ২ শতাংশের লক্ষ্যে ফিরছে কি না এবং যথেষ্ট দ্রুতগতিতে ফিরছে কি না, সে বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে নিশ্চিত হতে হবে।
চলতি বছর শেষ হওয়ার আগে আরও এক দফা সুদের হার বাড়তে পারে বলেও ফেডের নীতিনির্ধারকদের পূর্বাভাসে ইঙ্গিত রয়েছে। সেপ্টেম্বরের বৈঠকের পর প্রকাশিত অর্থনৈতিক পূর্বাভাসে নীতিনির্ধারকেরা সুদের হার ও মূল্যস্ফীতির গতিপথ নিয়ে নতুন হিসাব দিয়েছেন।
ফেডের সিদ্ধান্তটি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থানের বিপরীত। ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে সুদের হার কমানোর দাবি জানিয়ে আসছেন। বুধবারের সিদ্ধান্তের পরও তিনি দ্রুত সুদের হার কমানোর পক্ষে অবস্থান জানান। তবে ফেড চেয়ারম্যান ওয়ার্শ এ বিষয়ে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে প্রকাশ্য বিতর্কে যেতে চাননি।
মূল্যস্ফীতির পাশাপাশি জ্বালানি বাজারেও সাম্প্রতিক অস্থিরতা ফেডের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তা মূল্যসূচক এক বছরে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে।
ওয়ার্শ বলেন, তেল বা খাদ্যের মতো নির্দিষ্ট পণ্যের দাম সরাসরি নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা ফেডের নেই। তবে এসব পণ্যের দাম বৃদ্ধির প্রভাব যেন পুরো অর্থনীতিতে ছড়িয়ে না পড়ে, সেটি নিশ্চিত করা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দায়িত্ব।
ফেডের সুদের হার বাড়ানোর পর যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারেও চাপ দেখা গেছে। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের সুদও উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। ফেডের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ১৬ সেপ্টেম্বর ১০ বছরের ট্রেজারি বন্ডের ফলন ৫ শতাংশের কাছাকাছি এবং ৩০ বছরের বন্ডের ফলন ৫ দশমিক ৩ শতাংশের ওপরে ছিল।
ফেডের মূল্যায়নে, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক কার্যক্রম এখনো দৃঢ় রয়েছে, উৎপাদনশীলতা বাড়ছে এবং মূলধনী বিনিয়োগও শক্তিশালী। তবে ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি থেকে তৈরি অনিশ্চয়তা অর্থনীতির জন্য ঝুঁকি হিসেবে রয়ে গেছে।
প্রতিবেদক
চ্যানেল আই অনলাইন
চ্যানেল আই অনলাইন
আরও পড়ুন
পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…
