‘ভারতের অন্যান্য সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির তুলনায় মালায়ালাম ইন্ডাস্ট্রি আলাদা’ সম্প্রতি এমন দাবি তুলেছেন অভিনেতা ও নির্মাতা পৃথ্বীরাজ সুকুমারান। তবে ঠিক কোন বিষয়টি মালায়ালাম ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিকে অন্যান্য ইন্ডাস্ট্রি থেকে আলাদা করেছে জানেন কি?
সম্প্রতি মুম্বাইয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে পৃথ্বীরাজ জানান, মালায়ালাম সিনেমার সবচেয়ে বড় শক্তি ও বৈশিষ্ট্য হলো, এখানে কোনো তারকা কিংবা প্রযোজনা সংস্থা নয়, আসল ক্ষমতা থাকে লেখক বা চিত্রনাট্যকারের হাতে।
পৃথ্বীরাজ বলেন, ‘আজকের দিনেও মালায়ালাম ইন্ডাস্ট্রির যে দিকটি আমি সবচেয়ে ভালোবাসি তা হলো এখানে লেখকদের হাতেই আসল ক্ষমতা থাকে। কোনো পরিচালক, প্রযোজনা সংস্থা কিংবা ম্যানেজার নন; লেখকেরাই সরাসরি অভিনেতার কাছে পৌঁছান।’
পুরো প্রক্রিয়ার বিশদ তুলে ধরে পৃথ্বীরাজ বলেন, ‘লেখকেরা সরাসরি অভিনেতার কাছে এসে গল্প শোনান। গল্প পছন্দ হলে অভিনেতা ও চিত্রনাট্যকার মিলে ঠিক করেন কোন পরিচালক এটি সবচেয়ে ভালো বানাতে পারবেন। এরপর তারা একসঙ্গে পরিচালকের কাছে যান। পরিচালক রাজি হলে তিনজন মিলে ঠিক করেন কোন প্রযোজনা সংস্থা এতে অর্থায়ন করবে।’ অর্থাৎ, সিনেমার পুরো যাত্রা শুরু হয় লেখককে দিয়ে; তারকা, স্টুডিও কিংবা অর্থের জোরে নয়।
লেখকদের প্রাধান্য দেওয়ার পাশাপাশি কাজের সহজ পরিবেশ ও জটিলতামুক্ত যোগাযোগের ক্ষেত্রেও মালায়ালাম ইন্ডাস্ট্রি আলাদা। অন্যান্য ইন্ডাস্ট্রি যেখানে কর্পোরেট কাঠামোয় আবদ্ধ, সেখানে মালায়ালামে কোনো বাড়তি আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই সহজে তারকাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়।
বিষয়টি ব্যাখ্যা করে পৃথ্বীরাজ বলেন, ‘বলিউডে কোনো অভিনেতাকে চিত্রনাট্য শোনাতে হলে প্রথমে এজেন্সির সঙ্গে কথা বলতে হয়, এজেন্সি দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যানেজারের কাছে পাঠায়, এরপর দীর্ঘ আনুষ্ঠানিকতার পর মিটিং ঠিক হয়। তারপর শুরু হয় পারিশ্রমিক নিয়ে দর-কষাকষি। অন্যদিকে, আমাদের কাজের ধরন অনেকটাই ইনফরমাল এবং আন্তরিক।’
মালায়ালাম সিনেমা মানেই অল্প বাজেট ও দ্রুত শেষ করা, এমন ধারণাকে নাকচ করে পৃথ্বীরাজ জানান, ইন্ডাস্ট্রি এখন বদলে গেছে। তারা এখন শতকোটি রুপি বাজেটের সিনেমাও বানাচ্ছেন, যেগুলোর শুটিং চলে ১৫০ দিন ধরে। তবে বড় ক্যানভাসে কাজ করলেও পারস্পরিক সহজ যোগাযোগ ও চিত্রনাট্যনির্ভর ধারাটাই মালায়ালাম সিনেমাকে সবার চেয়ে আলাদা রেখেছে।

