সমঝোতামূলক বিশ্ব প্রতিষ্ঠার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে জাতিসংঘকে দেখতে চায় বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী

মাননীয় সভাপতি,

বাংলাদেশ ‘স্বল্পোন্নত দেশ’-এর তালিকা থেকে উত্তরণের অপেক্ষায় রয়েছে। বাংলাদেশের পাশাপাশি অন্যান্য সকল দেশের ক্ষেত্রে এই উত্তরণ প্রক্রিয়াটিকে টেকসই করতে সুনিশ্চিত অর্থায়ন, বাজারে অধিকতর প্রবেশাধিকার,  প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং সক্ষমতা বৃদ্ধির মতো বিষয়গুলোতে ধারাবাহিক সহায়তা অপরিহার্য।

বর্তমান বিশ্বব্যবস্থায় প্রতিটি দেশ একে অন্যের ওপর নির্ভরশীল। বাংলাদেশ মনে করে, বিশেষ করে আঞ্চলিক পর্যায়ে  বাণিজ্য সহায়তা ও সম্প্রসারণ  কার্যকর যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং অর্থবহ সহযোগিতার মাধ্যমে  আমরা একে অপরের সমৃদ্ধি অর্জনে সহায়তা করতে পারি।

কোভিড মহামারি বিশ্বের কোটি কোটি  মানুষের জীবন কেড়ে নিয়েছিল। তবে বিশ্বকে বার্তা দিয়েছে,  বিশ্ব সমাজকে টিকে থাকতে হলে অবশ্যই একের প্রতি অন্যের সহায়তা, সহমর্মিতা,  সহযোগিতা অপরিহার্য।  উন্নয়নশীল দেশগুলোতে টিকা, চিকিৎসা-সামগ্রী  ও রোগ নির্ণয়ের সরঞ্জামের টেকসই উৎপাদন  নিশ্চিত করা জরুরি।  যাতে এগুলো সবার জন্য সহজলভ্য হয়।

মাননীয় সভাপতি,

রাষ্ট্রের নাগরিকদেরে ক্ষমতাহীন রেখে রাষ্ট্র কখনো  শক্তিশালী হতে পারে না। জনগণের রাজনৈতিক অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন  নিশ্চিত করার মাধ্যমে আমরা এমন একটি সমৃদ্ধ স্বনির্ভর কল্যানমুলক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চাই যে রাষ্ট্রে দলমত ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে  সকলেই নিশ্চিন্তে, নিরাপদে সমান অধিকার, সম্মান  এবং মর্যাদার সঙ্গে বসবাস করতে সক্ষম হবে।  

মাননীয় সভাপতি,

গণতন্ত্র, মানবাধিকার, সুশাসন, জবাবদিহিতা,   রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং বিনিয়োগ পরিবেশ সব ক্ষেত্রেই বাংলাদেশে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রয়েছে।  সরকার ব্যাবসা ও বিনিয়োগের পরিবেশবান্ধব  একটি নিরাপদ এবং স্থিতিশীল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করে চলছে।

বর্তমান গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে আমরা অংশীদারত্ব  উদ্ভাবন এবং দেশি বিদেশী বিনিয়োগকে স্বাগত জানাই।

 আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই, যেখানে তরুণরা নির্ভয়ে, নির্বিঘ্নে  তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথ খুঁজে পাবে, নারীরা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জীবন পরিচালনা করতে পারবে,  প্রতিটি শিশু  তাদের সকল সম্ভাবনা বিকাশের সুযোগ নিয়ে বেড়ে উঠবে, সর্বোপরি জনগণ পাবে নিরাপদ এবং  শান্তিপূর্ণ জীবনের নিশ্চয়তা।  এ জন্যই আমরা বলি ‘সবার আগে বাংলাদেশ : সবার জন্য বাংলাদেশ’ ।  বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের সকল নীতি ও মূল্যবোধের প্রতি পুনরায় বাংলাদেশের অকুন্ঠ সমর্থন ব্যক্ত করে আমার বক্তব্য শেষ করছি।

মাননীয় সভাপতি

আপনাকে ধন্যবাদ,

 আল্লাহ হাফেজ 

বাংলাদেশ জিন্দাবাদ