জাতিসংঘে তারেক রহমানের স্পষ্ট বার্তা: ২৫ কোটি গাছ, খাল খনন ও তিস্তা মহাপরিকল্পনার ঐতিহাসিক ঘোষণা – DesheBideshe

জাতিসংঘে তারেক রহমানের স্পষ্ট বার্তা: ২৫ কোটি গাছ, খাল খনন ও তিস্তা মহাপরিকল্পনার ঐতিহাসিক ঘোষণা – DesheBideshe


ঢাকা, ২৫ সেপ্টেম্বর – গ্লোবাল কার্বন নিঃসরণে দেশের দায় সামান্য হলেও জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে নিষ্ঠুর মাশুল গুনতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। বিশ্বমঞ্চে দাঁড়িয়ে এই বৈষম্যের কথা তুলে ধরে পরাশক্তিগুলোকে কাঠগড়ায় দাঁড় করালেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রদত্ত ঐতিহাসিক ভাষণে জলবায়ু ন্যায্যতার (Climate Justice) দাবিতে এক যুগান্তকারী ও স্পষ্ট রূপরেখা উপস্থাপন করেছেন তিনি।

কার্বনের দায় কার, মাশুল দিচ্ছে কে?

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট করেন, বৈশ্বিক উষ্ণায়নে ভূমিকা না রেখেও বারবার প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখোমুখি হতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। তবে হাত গুটিয়ে বসে না থেকে নিজস্ব অর্থায়ন ও পরিকল্পনায় ঝুঁকি মোকাবিলার সক্ষমতা অর্জন করছে দেশ। এই বাস্তবতায় আগামী **কপ-৩১ সম্মেলন** থেকে আর কোনো ফাঁকা বুলি নয়, বরং জলবায়ু অর্থায়ন, ক্ষতিপূরণ ও অভিযোজন সহায়তার ক্ষেত্রে ধনী দেশগুলোর দৃশ্যমান বৈশ্বিক পদক্ষেপ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।

৫ বছরে ২৫ কোটি গাছ ও ২০ হাজার কিমি খাল খনন

কেবল আন্তর্জাতিক মঞ্চে দাবির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণভাবে পরিবেশ সুরক্ষায় যে যুগান্তকারী পরিবর্তন আনছে, তার একটি বিস্তারিত চিত্র জাতিসংঘে তুলে ধরা হয়:

সবুজ বিপ্লব: আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে সারাদেশে রেকর্ড ২৫ কোটি গাছ লাগানোর মেগা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে সরকার।

খাল খনন বিপ্লব: খরা ও হঠাৎ বন্যা থেকে ফসল ও জনপদ রক্ষা করতে সারাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন কাজ দ্রুতগতিতে চলছে।

তিস্তা মহাপরিকল্পনা ও সুন্দরবন রক্ষা: বিশ্বের সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনে মিঠাপানির প্রবাহ বাড়াতে এবং দীর্ঘমেয়াদি পানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে বহু প্রতীক্ষিত ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা’ ও পদ্মা ব্যারাজ’ প্রকল্পের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরুর খবর জানান তিনি।

সবুজ জ্বালানি: জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে সোলার পাওয়ার ও পরিবেশবান্ধব ক্লিন এনার্জির প্রসারকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার কথা পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

আন্তর্জাতিক পানি চুক্তিতে বাংলাদেশ

আন্তঃসীমান্ত নদী ও যৌথ পানি ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতার হাত বাড়াতে বাংলাদেশ ১৯৯২ সালের ঐতিহাসিক ‘ওয়াটার কনভেনশন’-এ সই করেছে বলে ভাষণে নিশ্চিত করেন প্রধানমন্ত্রী। জলবায়ু সংকটের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে কেবল ভুক্তভোগী হিসেবে নয়, বরং নিজস্ব উদ্ভাবন ও সাহসী কর্মসূচির মাধ্যমে বিশ্ব দরবারে নেতৃত্ব দিতে বাংলাদেশ কতটা প্রস্তুত—জাতিসংঘের এই বক্তব্য তারই জলজ্যান্ত প্রমাণ।

এনএন/ ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬