
ছবি: সংগৃহীত
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির অগ্রগতিতে এবার চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে কম্পিউটারবিজ্ঞানের ২৭ বছরের পুরোনো একটি তত্ত্ব। ওপেনএআই ও অ্যানথ্রপিকের তৈরি এআই সিস্টেম দাবি করেছে, তারা কম্পিউটারবিজ্ঞানের গুরুত্বপূর্ণ একটি ধারণা ‘এক্সপোনেনশিয়াল টাইম হাইপোথিসিস’ (ইটিএইচ) ভুল প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। তবে এআইয়ের দেওয়া গাণিতিক প্রমাণগুলো এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করেননি গবেষকেরা।
প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম ওয়্যারডের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এক্সপোনেনশিয়াল টাইম হাইপোথিসিস কী
এক্সপোনেনশিয়াল টাইম হাইপোথিসিস হলো কম্পিউটারবিজ্ঞানের একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুমান। এই তত্ত্ব অনুযায়ী, কিছু জটিল গাণিতিক ও কম্পিউটেশনাল সমস্যা প্রচলিত ধারণার তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে দ্রুত সমাধান করা সম্ভব নয়। অর্থাৎ, সমস্যার আকার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেগুলো সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় সময়ও দ্রুত বাড়তে থাকে।
দীর্ঘদিন ধরে কম্পিউটার অ্যালগরিদমের সীমাবদ্ধতা, জটিল সমস্যার সমাধান এবং গণনাপদ্ধতির সক্ষমতা বিশ্লেষণে গবেষকেরা এই অনুমানের ওপর নির্ভর করে আসছেন।
এআইয়ের দাবি সত্য প্রমাণিত হলে এই তত্ত্বের ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত বহু বছরের গবেষণা নতুন করে পর্যালোচনা করতে হতে পারে।
ওয়্যারডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সুইডেনের লিংকোপিং বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক পিটার জনসনের গবেষণার বড় একটি অংশ এতে প্রভাবিত হতে পারে বলে তিনি মনে করছেন। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, সান্তা বারবারার অধ্যাপক ড্যানিয়েল লোকসথানোভের মতে, তার প্রকাশিত প্রায় ৫০টি গবেষণাপত্রের প্রাসঙ্গিকতা নতুন করে যাচাই করতে হতে পারে।
স্বাধীন যাচাইয়ের অপেক্ষায় এআইয়ের প্রমাণ
ওপেনএআই ও অ্যানথ্রপিক তাদের দাবির পক্ষে গাণিতিক প্রমাণ প্রকাশ করেছে। এসব প্রমাণের মধ্যে সাধারণ ভাষায় ব্যাখ্যার পাশাপাশি ‘লিন’ নামের একটি আনুষ্ঠানিক গাণিতিক যাচাইব্যবস্থায় লেখা সংস্করণও রয়েছে। এর মাধ্যমে গাণিতিক যুক্তির প্রতিটি ধাপ নির্ভুল কি না, তা পরীক্ষা করা সম্ভব।
তবে গবেষকেরা এখনো এসব প্রমাণের যথার্থতা এবং কম্পিউটারবিজ্ঞানে এর সম্ভাব্য প্রভাব খতিয়ে দেখছেন।
কিছু শিক্ষাবিদের আশঙ্কা, এআইয়ের দাবিগুলো সত্য হলে দীর্ঘদিনের গবেষণা ও প্রতিষ্ঠিত ধারণায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে হতে পারে। অন্যদিকে কেউ কেউ মনে করছেন, এর ফলে আগে সমাধানের অযোগ্য বলে বিবেচিত সমস্যাগুলো নিয়ে নতুনভাবে কাজ করার সুযোগ তৈরি হবে।
সাইবার নিরাপত্তায় কী প্রভাব পড়তে পারে
এআইয়ের এই দাবি ডিজিটাল নিরাপত্তাব্যবস্থার গাণিতিক ভিত্তি নিয়েও নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। কারণ, ক্রিপ্টোগ্রাফি বা তথ্য সুরক্ষার অনেক পদ্ধতি নির্দিষ্ট কিছু গাণিতিক সমস্যা বাস্তবসম্মত সময়ের মধ্যে সমাধান করা কঠিন—এমন ধারণার ওপর নির্ভরশীল।
তবে এই অগ্রগতির অর্থ এই নয় যে প্রচলিত এনক্রিপশন বা তথ্য সুরক্ষাব্যবস্থা ইতিমধ্যে ভেঙে পড়েছে। এর সম্ভাব্য প্রভাব নির্ভর করবে প্রকাশিত গাণিতিক প্রমাণগুলোর প্রকৃতি এবং ক্রিপ্টোগ্রাফির বিভিন্ন পদ্ধতির সঙ্গে সেগুলোর সম্পর্কের ওপর।
সব মিলিয়ে, বৈজ্ঞানিক গবেষণায় এআইয়ের ক্রমবর্ধমান সক্ষমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে এই ঘটনা। তবে ২৭ বছরের পুরোনো তত্ত্বটি সত্যিই ভুল প্রমাণিত হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হতে গবেষকদের স্বাধীন যাচাই ও পর্যালোচনার অপেক্ষা করতে হবে।
আরও পড়ুন
পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…




