আর ৫০ বছর পরে বাংলাদেশে এমন একজন মানুষকেও খুঁজে পাওয়া যাবে না, যিনি একাত্তরের ২৬ মার্চের সাক্ষী ছিলেন। কোনো চাক্ষুষ সাক্ষীর অনুপস্থিতিতে তাহলে কীভাবে দেখা হবে দিনটিকে, কীভাবে পড়া হবে এর ইতিহাস, এটি নিশ্চয় অনুমানের বিষয়। কিন্তু ইতিহাস নিয়ে প্রচলিত কিছু চিন্তার আলোকে এখনই হয়তো বলা যায়, দিনটিকে ছোট-বড় নানা রাজনৈতিক দল পড়বে তাদের আদর্শগত অবস্থান থেকে; সেদিন যারা এক ঘৃণিত, পরিকল্পিত গণহত্যার সূচনা করেছিল, তাদের উত্তরসূরিরা পড়বে আরেকভাবে এবং তাদের এই পড়ার সঙ্গে হয়তো একমত হবে যারা একাত্তরজুড়ে তাদের সহযোগী ছিল, তাদের ভাবাদর্শধারীরা।
আবার অনেকে দিনটিকে পড়বে এক অকল্পনীয় নিষ্ঠুরতার এবং একই সঙ্গে অভাবনীয় মহিমার দিন হিসেবে। এদের সংখ্যা নিশ্চয় ক্ষুদ্র করে দেবে বাকিদের যোগফলকে। কারণ, দিনটি যে ছিল একটি জাতির নতুন জন্মের, তার আত্মপ্রত্যয় আর সাহসের, তার মৃত্যুকে হার মানানো জীবনীশক্তির শ্রেষ্ঠ প্রকাশের, এ সত্যটিই তারা উদ্ভাসিত হতে দেখবে ওই মহিমার দ্যুতিতে।



