<![CDATA[
মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দেউলিয়া হয়ে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের সিলিকন ভ্যালি ব্যাংক (এসভিবি) কিনে নিয়েছে দেশটির আর্থিক খাতের আরেক প্রতিষ্ঠান ফার্স্ট সিটিজেন্স ব্যাংক অ্যান্ড ট্রাস্ট।
সোমবার (২৭ মার্চ) ফেডারেল ডিপোজিট ইনস্যুরেন্স করপোরেশনের (এফডিআইসি) বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো।
প্রতিবেদনে বলা হয়, আমানতের সংকটে ধসে পরা সিলিকন ভ্যালি ব্যাংক কিনে নিয়েছে ফার্স্ট সিটিজেনস ব্যাংক। ফলে ব্যাংকটির ১৭টি শাখার সব কয়টিই চালু হচ্ছে ফার্স্ট সিটিজেন্স ব্যাংকের নামে। আর এসভিবি ব্যাংকের আমানতকারীরা স্বয়ক্রিয়ভাবে ফার্স্ট সিটিজেনস ব্যাংকের আমানতকারী হয়ে যাবেন।
আরও পড়ুন: যেভাবে মাত্র ৪৮ ঘণ্টায় দেউলিয়া সিলিকন ভ্যালি ব্যাংক
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংকিং খাতে মারাত্মক অস্থিরতার মধ্যে গত ১০ মার্চ স্টার্টআপ ব্যবসায় শীর্ষ ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান সিলিকন ভ্যালি ব্যাংক বন্ধের ঘোষণা দেয়া হয়। সেসময় ব্যাংকটির মোট সম্পদ ছিল ১৬৭ বিলিয়ন ডলার। আর মোট আমানত ছিল প্রায় ১১৯ বিলিয়ন ডলার।
ব্যাংকটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর সাময়িকভাবে ব্যাংকটির দায়িত্ব নেয় মার্কিন নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ এফডিআইসি। এর পর থেকে ব্যাংকটি বিক্রির জন্য ক্রেতা খুঁজতে থাকে সংস্থাটি। তবে এসময় ব্যাংকটি কিনে নিতে আগ্রহ দেখায় সিটিজেনস ব্যাংক।
এ বিষয়ে এফডিআইসি জানায়, এসভিবি ব্যাংক কিনে নিচ্ছে ফার্স্ট সিটিজেনস ব্যাংক। ব্যাংকটি অধিগ্রহণ করার জন্য এফডিআইসির সঙ্গে চুক্তি করবে ফার্স্ট সিটিজেনস ব্যাংক।
উল্লেখ্য, ফার্স্ট সিটিজেনসের ব্যাংকের কাছে প্রায় ১০৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সম্পদ রয়েছে। এ ছাড়া মোট আমানত রয়েছে ৮৯ দশমিক ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের।
এদিকে সিলিকন ভ্যালি ব্যাংকের পর দুইদিন পর নিউইয়র্কভিত্তিক সিগনেচার ব্যাংকও বন্ধ করে দেয়া হয়। তিন দিনের ব্যবধানে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্বব্যাপী ব্যাংকগুলোর শেয়ারে বড় ধরনের দরপতন শুরু হয়।
আর শেয়ারের মূল্য কমে যাওয়ার বিপরীতে পর্যাপ্ত বিনিয়োগ না থাকায় পতনের মুখে পড়ে ক্রেডিট সুইস। সৌদি বিনিয়োগকারীরা ক্রেডিট সুইস ব্যাংকে বাড়তি বিনিয়োগ না করায় ব্যাংকটির শেয়ারমূল্য ২০ শতাংশেরও বেশি পড়ে যায়। ১৫ মার্চ ব্যাংকটির শেয়ারের দাম প্রায় ২৪ শতাংশ কমে যায়।
আরও পড়ুন: এগারো দিনে ডুবল ৪ ব্যাংক, খাদের কিনারে আরও একটি
দরপতনের পর সুইস কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে বড় ঋণ নিয়ে টিকে থাকার চেষ্টা করে ক্রেডিট সুইস ব্যাংক। এমনকি ৫ হাজার ৩০০ কোটি ডলার ঋণ দেয়া হলেও ব্যাংকটির শেয়ার নিম্নগামী থেকে আর খাড়া হতে পারেনি। পরে ক্রেডিট সুইসের প্রতিদ্বন্দ্বী ইউনিয়ন ব্যাংক অব সুইজারল্যান্ড বা ইউবিএস ১৬০ বছরেরও বেশি পুরোনো ব্যাংকটিকে অধিগ্রহণ করে।
ব্যাংকিং খাতের এমন বিপর্যয়ে আগামী দিনে আরও বেশ কয়েকটি ব্যাংক বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। ঝুঁকির মুখে রয়েছেন বিনিয়োগকারীরাও।
]]>



