<![CDATA[
সাধারণত আবাসিক মিটার রিচার্জ করার ক্ষেত্রে টোকেনে এক লাইনে ২০টি সংখ্যা থাকে, যেটি মিটারে চেপে রিচার্জ করেন গ্রাহক। কিন্তু, মূল্য পরিবর্তন হওয়ার সময় এটি বেড়ে ১২টি লাইন হয়েছে। ডিজিটের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২২০-এ। এতে করে গ্রাহককে বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটার রিচার্জ নিয়ে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
শুধু তাই নয়, টানা তিনবার ডিজিট চাপতে ভুল হলে, মিটার লক হয়ে যায়। এমন অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।
তবে এটি দীর্ঘমেয়াদি কোনো সমস্যা নয়, বিদ্যুতের দাম পরিবর্তন হলেই শুধু মাত্র এমনটি ঘটছে বলে দাবি কর্তৃপক্ষের।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার নেসকো কর্তৃপক্ষ জানায়, বিদ্যুতের দাম পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে প্রিপেইড মিটার রিচার্জের টোকেনের সংখ্যা।
আরও পড়ুন: বিদ্যুৎ উৎপাদনে ইতিহাস সৃষ্টি করল বাংলাদেশ
এ কারণে, আবাসিক ও বাণিজ্যিক মিটারের ক্ষেত্রে এই ডিজিটের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ২২০টিতে, যা সাধারণত অন্য সময়ে থাকে ২০টি। আর এই নিয়মকে রীতিমতো ব্যাপক ভোগান্তির কারণ বলে মনে করছেন সাধারণ গ্রাহকরা।
সদরের প্রফেসর পাড়া এলাকার ৬৫ বছর বয়সী শামসুল ইসলাম বলেন, একসঙ্গে ২২০ ডিজিট চাপতে গিয়ে হাত অনেক কষ্ট হচ্ছে। দুই-একটি ডিজিট ভুল হলে রিচার্জ সম্পূর্ণ হচ্ছে না। পরবর্তীতে পুনরায় আবার প্রথম থেকে শুরু করতে হচ্ছে। যা খুবই কষ্টসাধ্য।
আলী নগর এলাকার বাসিন্দা হযরত আলী বলেন, ২০ ডিজিট হোক আর ২২০ ডিজিট হোক তা চাপতে ভোগান্তি পোহাতে হয় গ্রাহককে। এই নিয়ম না করে মোবাইল রিচার্জের মতো পদ্ধতি চালুর দাবি জানান তিনি।
আরও পড়ুন: টাকা দিলে মিটার থাকছে, না হলে গায়েব!
নিমতলা এলাকার বাসিন্দা সুমন আলী বলেন, ইদানিং আমার মিটার রিচার্জে এমন ১০ থেকে বারোটা টোকেন আসে। যার সবগুলো চেপে মিটার রিচার্জ করতে হয়। যদি এমন সংখ্যা চাপতে হয়, তাহলে ডিজিটালাইজড করে লাভ কী, প্রশ্ন এই গ্রাহকের।
এদিকে, প্রিপেড মিটারের রির্চাজের নামে গ্রাহকদের ভোগান্তিকে অযৌক্তিক বলছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ নাগরিক কমিটির প্রতিনিধিরা।
সংগঠনটির যুগ্ম আহ্বায়ক আজাহারুল ইসলাম পিন্টু বলেন, প্রথমে আমাদের বোঝানো হয়েছিল মিটারে জনগণের উপকার হবে। কিন্তু রিচার্জ পদ্ধতির কারণে জনগণের নাজেহাল অবস্থা। দ্রুত এই সমস্যা সমাধান না করা হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দেন এই নেতা।
আরও পড়ুন: ‘বিদ্যুৎ বিল আসে ১২০০ টাকা, কীভাবে সন্তানদের খাওয়াব-পড়াব’
এ বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ নেসকোর বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ ২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সেলিম রেজা বলেন, রিচার্জের এই পদ্ধতিতে অনেকেই (সাধারণ গ্রাহক) ভোগান্তিতে পড়ছেন। তবে বিষয়টি ভোগান্তির নয়। যখন বিদ্যুতের দাম পরিবর্তন হয় শুধুমাত্র তখনই এমন ঘটছে। তারপরও বিষয়টি আমরা অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখবো।
]]>



