লালমনিরহাটে হাতে ভাজা মুড়ির ঐতিহ্য বিলুপ্তির পথে | বাংলাদেশ

লালমনিরহাটে হাতে ভাজা মুড়ির ঐতিহ্য বিলুপ্তির পথে | বাংলাদেশ

<![CDATA[

সারা বছরই মুড়ির কদর থাকে। তবে রমজান এলেই মুড়ির চাহিদা বেড়ে যায় কয়েক গুণ। লবণ-পানি দিয়ে হাতে ভাজা মুড়ির স্বাদ অন্যরকম। কিন্তু মেশিনে তৈরি মুড়ির দাপটে হারিয়ে যাচ্ছে হাতে ভাজা মুড়ি। ফলে আধুনিক জীবনযাত্রা আর পরিবর্তনের ছোঁয়ায় লালমনিরহাট থেকে বিলুপ্তির পথে ঐতিহ্যবাহী হাতে ভাজা মুড়ি।

জানা যায়, কয়েক বছর আগেও লালমনিরহাট সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ ইউনিয়নের চওড়াটারী টাংকুর বাজার গ্রামের প্রায় ১২০টি পরিবার সংসার চালাতো মুড়ি ভাজার কাজ করে। কিন্তু এখন মাত্র ৮ থেকে ১০টি পরিবার মুড়ি ভাজার কাজ করে। বাকি পরিবারগুলো মেশিনের মুড়ির দাপটে প্রতিযোগিতার বাজারে টিকতে না পেরে পেশা বদলে নিয়েছেন। জীবিকার তাগিদে কেউ দিনমজুর, কেউ কৃষিকাজসহ বিভিন্ন পেশায় জড়িয়ে পড়েছেন।

দবিয়ার, চায়না ও কিবরিয়া জানান, ছোটবেলা থেকেই তারা বাপ-দাদার সঙ্গে হাতে ভাজা মুড়ি তৈরি করে পাইকারদের কাছে বিক্রি করতেন। সে সময় এ মুড়ির চাহিদা অনেক ছিল। রাত-দিন ভেজেও চাহিদা শেষ করতে পারত না। কিন্তু বাজারে মেশিনের মুড়ি আসার পর থেকে আস্তে আস্তে হাতে ভাজা মুড়ির চাহিদা কমতে শুরু করেছে। আর এখন নেই বললেই চলে। বাধ্য হয়ে তাদের গ্রামের প্রায় সবাই মুড়ি ভাজা বাদ দিয়ে দিনমজুরি ও কৃষিকাজ করে খাচ্ছেন।

আরও পড়ুন: মুড়ি এত উপকারী?

মুড়ির পাইকার জলিল বলেন, ‘একসময় এ গ্রাম থেকে প্রতিদিন ৫ থেকে ৬ মণ মুড়ি কিনে তা লালমনিরহাট শহরের গোশালা বাজারে বিক্রি করতাম। বিভিন্ন স্থান থেকে দোকানদাররা এসে মুড়ি কিনে নিয়ে যেত। কিন্তু মেশিনের মুড়ি বাজারে আসায় হাতে ভাজা মুড়ির চাহিদা অনেক কমে গেছে। তাই এ গ্রামের অধিকাংশ ব্যক্তি মুড়ি ভাজা বাদ দিয়ে অন্য পেশায় চলে গেছেন।’

লালমনিরহাট সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এএসএম খায়রুজ্জামান মণ্ডল জানান, মুড়ি শিল্পের সঙ্গে জড়িত কারিগরদের দাবি সরকার যদি এ শিল্প বাঁচাতে এগিয়ে আসে তাহলে তাদের জীবিকা রক্ষা পাবে। আর এ জন্য প্রয়োজন মুড়ি বিক্রির নিশ্চয়তা।

]]>