চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনে কার্যকারী সদস্য পদে অংশ নিয়ে পরাজিত হয়েছেন আশির দশকের তুমুল জনপ্রিয় নায়িকা রোজিনা। পরে অভিযোগ তুলে বলেছেন,“আমাকে ট্রাম্পকার্ড বানানো হয়েছে। উচিত ছিল না আমাকে জোর করে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করিয়ে এভাবে সম্মানহানি করানোর।”
শিবা শানু-জয় চৌধুরী প্যানেল থেকে নির্বাচনে অংশ নেন রোজিনা। শুরু থেকে তার কোনো ইচ্ছেই ছিল না শিল্পী সমিতির নির্বাচনে অংশ নেয়ায়। রোজিনা বলেন, নির্বাচনে অংশ নিতে রাজি ছিলাম না। কিন্তু জয় আমাকে এক প্রকার ইমোশনাল করে রাজি করায়। এর কারণ তাদের প্যানেলে আমি থাকলে সবাইকে দেখাতে পারবে সিনিয়র শিল্পীরা আছেন তাদের সাথে। রেগুলার না যাওয়ায় তারা প্ল্যান করে ফেল করিয়েছে।
রবিবার রাতে রোজিনা তার উত্তরার বাসায় সাংবাদিকদের বলেন, আমি মনে করি, জয় চৌধুরী বা এই প্যানেলের উচিত ছিল না আমাকে এভাবে হেয় করার এবং সম্মান হানি করার। আমাকে ট্রাম্প কার্ড বানানো হয়েছে।
রোজিনার দাবি, এবারের নির্বাচনে সুষ্ঠু পরিবেশ ছিল না। ভোটগ্রহণ ও ফলাফল প্রকাশের প্রক্রিয়াতেও নানা অসংগতি দেখেছেন তিনি।
এফডিসির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে রোজিনা বলেন, এফডিসি এখন আর আগের মতো নেই। এখানে সম্মান, মূল্যবোধ সবকিছুই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। জীবনে কোনোদিন আমি শিল্পী সমিতিতে যাবো কিনা আমার জানা নেই। তবে মৃত্যুর পর আমার লাশ যেন এফডিসিতে নেয়া না হয়।
তার এই সিদ্ধান্তের পেছনে কোনো সাময়িক আক্ষেপ নয়, বরং দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত কষ্ট কাজ করছে বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, এখনকার মানুষগুলোর মধ্যে শিল্পীদের শ্রদ্ধা করার মতো মানসিকতা একেবারেই নেই।
উদাহরণ হিসেবে নায়করাজ রাজ্জাকের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, রাজ্জাক ভাইও একসময় অভিমানে বলেছিলেন যে তার মৃত্যুর পর যেন তাকে এফডিসিতে নেওয়া না হয়। বর্তমান চলচ্চিত্রের পরিবেশ এবং মানুষের বদলে যাওয়া স্বভাব দেখে রোজিনা অনেক আগে থেকেই তার পরিবারকে এই বিষয়ে নির্দেশনা দিয়ে রেখেছেন।
রোজিনা জানান, শিল্পী সমিতি নিয়ে তিক্ততা থাকলেও, সরকারি কোনো অনুষ্ঠান বা প্রযোজক সমিতির সদস্য হিসেবে কোনো বিশেষ প্রয়োজনে তিনি অংশ নেবেন কিন্তু সাধারণ কোনো প্রয়োজনে এফডিসিতে পা রাখার ইচ্ছে তার নেই।





