<![CDATA[
বাংলাদেশে প্রতিবছরই ছোট-বড় অগ্নিকাণ্ড ঘটতে দেখা যায়। যার মূল কারণ হিসেবে বিশেষজ্ঞরা অপরিকল্পনা আর অসতর্কতাকেই বেশি দায়ী করছেন। কপাল মন্দ হলে এমন অগ্নিকাণ্ডের সম্মুখীন হতে পারেন আপনিও। তাই জেনে নিন, কোন ধরনের আগুন কীভাবে নেভাবেন। কারণ, সব আগুনই নেভাতে পানির প্রয়োজন হয় না।
বাংলাদেশে বেশির ভাগ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাই ঘটে সিগারেটের আগুন, রান্নাঘরের গ্যাসের চুলা কিংবা সিলিন্ডারের গ্যাস ও বৈদ্যুতিক গোলযোগ থেকে। এ ছাড়া মশার কয়েল, মোমবাতি, পেট্রোল বা ডিজেল থেকেও অগ্নিকাণ্ড ঘটতে দেখা গেছে।
আরও পড়ুন: বঙ্গবাজারের আগুনের ঘটনা রহস্যজনক: ফখরুল
এসব কারণে অগ্নিকাণ্ড ঘটলে বিপুল পরিমাণ আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়। সেই সঙ্গে থাকে প্রাণহানির আশঙ্কাও। ফায়ার ফাইটার এক্সপার্টরা বলছেন, কোনো স্থানে আগুন লাগলেই মানুষ তা নেভাতে পানি ব্যবহার করে থাকে। এতে বেশির ভাগ সময় সুরাহা পাওয়া গেলেও ক্ষেত্রবিশেষে ঘটতে পারে বিপর্যয়।
আগুন নেভানোর ক্ষেত্রে প্রথমেই যে বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে তা হলো, আগুনের উৎস শুষ্ক বস্তু নাকি দাহ্য পদার্থ থেকে।
শুষ্ক বস্তু যেমন: কাগজ, কাপড় বা গাছের পাতা থেকে আগুন ছড়ালে তা নেভানোর সবচেয়ে ভালো উপায় হলো পানি। কিন্তু দাহ্য পদার্থ থেকে আগুনের উৎপত্তি হলে তা নেভাতে পানি ব্যবহার করা হবে বিপজ্জনক।
যেমন, পেট্রল বা ডিজেলের মতো তেলে আগুন লাগলে তা নেভাতে কখনোই পানি ব্যবহার করা যাবে না। এমন পরিস্থিতিতে আগুনের আকার ছোট হলে বালি, বস্তা, কাঁথার মতো ভারী কাপড় দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করতে হবে। আগুনের পরিধি বেশি থাকলে আগুন নেভাতে ফেনাজাতীয় পদার্থ বেশি কাজে আসে। এ ছাড়া জ্বালানি তেল কিংবা গ্যাস দুই ধরনের আগুনেই কার্বন ডাই-অক্সাইড সবচেয়ে ভালো কাজ করে।
রান্না করার সময় গরম তেলে আগুন লাগলে কড়াইটির ওপরে ঢাকনা দিয়ে দিন। এতে লেগে যাওয়া আগুন কড়াইয়ের মধ্যে আটকে থাকবে। সেই সঙ্গে অক্সিজেনের অভাবে সে আগুন দ্রুত নিভে যাবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অগ্নিকাণ্ডের পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে প্রতিটি ঘরেই ফায়ার এক্সটিংগুইশার থাকাটা জরুরি। কারণ, ফায়ার এক্সটিংগুইশার দিয়ে সব ধরনের আগুনই নেভানো সম্ভব।
তবে ঘরে এই মেশিন না থাকলে নিরাশ হওয়ার কিছু নেই। কারণ, বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে আপনি রাখতে পারেন এক বালতি পানি ও বালি। বৈদ্যুতিক গোলযোগের কারণে অগ্নিকাণ্ড ঘটলে বিদ্যুতের মেইন সুইচ বন্ধ করেও হতাহত ও আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেকটা কমিয়ে আনা সম্ভব।
আরও পড়ুন: বঙ্গবাজারের আগুনে পোড়া কাপড় কুড়াচ্ছেন ছিন্নমূল মানুষ
যেকোনো অগ্নিকাণ্ড দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনতে সবার কাছে ফায়ার সার্ভিসের নম্বর রাখাটাও প্রয়োজন। কারণ, কয়েক মিনিটের ব্যবধানেই আগুনের পরিমাণ বেড়ে পরিস্থিতি হাতের নাগালের বাইরে চলে যাওয়া অসম্ভব কিছু নয়। এসব সতর্কতা একশ ভাগ আগুনের হাত থেকে রক্ষা না করলেও অগ্নিকাণ্ড ও হতাহতের সংখ্যা কমিয়ে আনতে অনেকটাই কার্যকর বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
সূত্র: বিবিসি
]]>



