তাইওয়ানে আন্তর্জাতিক প্রকল্পে নৃত্যশিল্পী হাসান ইশতিয়াক | চ্যানেল আই অনলাইন

তাইওয়ানে আন্তর্জাতিক প্রকল্পে নৃত্যশিল্পী হাসান ইশতিয়াক | চ্যানেল আই অনলাইন

বাংলাদেশের তরুণ কোরিওগ্রাফার ও নৃত্যশিক্ষক এস এম হাসান ইশতিয়াক ইমরান আন্তর্জাতিক মর্যাদাপূর্ণ ইন্টারন্যাশনাল ইয়াং কোরিওগ্রাফারস প্রজেক্ট (আইওয়াইসিপি) ২০২৬-এ অংশগ্রহণের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন। আগামী ২৮ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত তাইওয়ানের কাওশিয়ুং শহরে অনুষ্ঠিত হবে এই আয়োজন। এর আয়োজক ওয়ার্ল্ড ড্যান্স অ্যালায়েন্স এশিয়া-প্যাসিফিক (ডব্লিউডিএএপি) তাইওয়ান চ্যাপ্টার।

এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের উদীয়মান কোরিওগ্রাফার ও নৃত্যশিল্পীদের জন্য অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ এই আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে বিভিন্ন দেশের শিল্পীরা সৃজনশীল বিনিময়, গবেষণা, সহযোগিতা এবং সমসাময়িক নৃত্যচর্চার নতুন সম্ভাবনা নিয়ে একসঙ্গে কাজ করার সুযোগ পান।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে Ausdance National বিশ্বব্যাপী শিল্পীদের কাছ থেকে আবেদন আহ্বান করে। বিভিন্ন দেশ থেকে জমা পড়া অসংখ্য উচ্চমানের প্রস্তাব বিশেষজ্ঞদের একটি প্যানেল মূল্যায়ন করে। সেই কঠোর নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় এস এম হাসান ইশতিয়াক ইমরান এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের মাত্র আটজন নির্বাচিত কোরিওগ্রাফারের একজন হিসেবে স্থান করে নেন।

বর্তমানে তিনি তাইপেতে অনুষ্ঠিত ইন্টারন্যাশনাল ড্যান্স কনফারেন্স অ্যান্ড ফেস্টিভ্যাল ২০২৬-এ অংশ নিচ্ছেন। সেখানে তিনি তাঁর প্রযোজনা ‘অন্তহীন’ উপস্থাপন করবেন এবং কথক নৃত্য বিষয়ে একটি মাস্টারক্লাস পরিচালনা করছেন। এরপর কাওশিয়ুংয়ে তিন সপ্তাহব্যাপী সৃজনশীল রেসিডেন্সি কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। এ সময় তিনি তাইওয়ানের নির্বাচিত নৃত্যশিল্পীদের সঙ্গে নতুন কোরিওগ্রাফি নির্মাণে কাজ করবেন, যার সমাপ্তি ঘটবে দুটি উন্মুক্ত জনসম্মুখ পরিবেশনার মাধ্যমে।

বাংলাদেশে জন্ম ও বেড়ে ওঠা হাসান ইশতিয়াক দুই দশকের বেশি সময় ধরে নৃত্যচর্চার সঙ্গে সম্পৃক্ত। তিনি এম. আর. ওয়াসেক ও সাজু আহমদের কাছে নৃত্যের প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ করেন। পরে ভারত সরকারের আইসিসিআর বৃত্তি নিয়ে কলকাতার রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কথক নৃত্যে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর গুরু শ্রী অসিমবন্ধু ভট্টাচার্যের কাছে উচ্চতর প্রশিক্ষণ নেন।

বাংলাদেশ ও ভারতে বিভিন্ন কর্মশালা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তিনি নিজের শিল্পভাষা সমৃদ্ধ করেছেন। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন শিল্পী আকরাম খান (যুক্তরাজ্য), সাশার জারিফ (কানাডা)সহ একাধিক বিশিষ্ট কোরিওগ্রাফারের নির্দেশনায় কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর।

একজন কথক নৃত্যশিল্পী হিসেবে ভারতের বিভিন্ন মর্যাদাপূর্ণ উৎসবে একক পরিবেশনা করেছেন তিনি। তাঁর কোরিওগ্রাফি ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, সুইজারল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া, তুরস্ক ও জাপানের আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রদর্শিত হয়েছে। শিল্পসাধনার স্বীকৃতি হিসেবে ২০০৫ সালে তিনি জাতীয় শিশু-কিশোর প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়নশিপ স্বর্ণপদক অর্জন করেন।

বর্তমানে তিনি রবীন্দ্র সৃজনকলা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃত্য বিভাগে প্রভাষক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃত্যকলা বিভাগে খণ্ডকালীন প্রভাষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি বাংলাদেশ শিশু একাডেমি ও বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পারফর্মিং আর্টস (বিপা)-এ নৃত্য প্রশিক্ষক ও কোরিওগ্রাফার হিসেবে কর্মরত আছেন। এছাড়া তাঁর প্রতিষ্ঠিত সংগঠন ‘কাথ্যাকিয়া—দ্য সেন্টার অব আর্টস’-এর মাধ্যমে নৃত্যশিক্ষা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছেন।

ইন্টারন্যাশনাল ইয়াং কোরিওগ্রাফারস প্রজেক্ট ২০২৬-এ তাঁর এই নির্বাচন বাংলাদেশের নৃত্যাঙ্গনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। একই সঙ্গে এটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের শাস্ত্রীয় ও সমসাময়িক নৃত্যচর্চার ক্রমবর্ধমান স্বীকৃতিরও উজ্জ্বল নিদর্শন।