তিন বছর বর্ধিত সময় পেল বাংলাদেশ: এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনে জাতিসংঘে চূড়ান্ত সিলমোহর, স্বস্তিতে অর্থনীতি – DesheBideshe

তিন বছর বর্ধিত সময় পেল বাংলাদেশ: এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনে জাতিসংঘে চূড়ান্ত সিলমোহর, স্বস্তিতে অর্থনীতি – DesheBideshe


তিন বছর বর্ধিত সময় পেল বাংলাদেশ: এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনে জাতিসংঘে চূড়ান্ত সিলমোহর, স্বস্তিতে অর্থনীতি – DesheBideshe

ঢাকা, ৩০ অক্টোবর – স্বল্পোন্নত দেশ (LDC) বা এলডিসি তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের প্রস্তুতিমূলক সময়সীমা আরও তিন বছর বাড়ানোর দীর্ঘ প্রতীক্ষিত প্রক্রিয়াটি অবশেষে চূড়ান্ত করেছে জাতিসংঘ। নিউ ইয়র্ক স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের এক প্লেনারি মিটিংয়ে কণ্ঠভোটে পাস হয়েছে এই ঐতিহাসিক প্রস্তাব।

এর ফলে নির্ধারিত সময়সীমা ২৪ নভেম্বর ২০২৬-এর পরিবর্তে বাড়িয়ে ২০২৯ সালের ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে নেপালকেও এই বর্ধিত সুযোগ দেওয়া হয়েছে। জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনের এই ঐতিহাসিক সেশনে সভাপতিত্ব করেন খোদ বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

কেন জরুরি ছিল এই তিন বছরের এক্সটেনশন?

২০১৮ সাল থেকে এলডিসি উত্তরণের পথে হাঁটা বাংলাদেশের ২০২৪ সালে গ্র্যাজুয়েট হওয়ার কথা থাকলেও কোভিডের ধাক্কায় তা দুই বছর পিছিয়ে ২০২৬ সাল পর্যন্ত নির্ধারিত হয়েছিল। তবে বর্তমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ, বিশ্ববাজারের অস্থিতিশীলতা এবং রপ্তানি খাতে সম্ভাব্য শুল্ক সুবিধা হারানোর ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন ধরে সময় বাড়ানোর দাবি জানিয়ে আসছিলেন।

এলডিসি তালিকা থেকে বের হয়ে গেলে ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন বড় বাজারে বাংলাদেশ যে শুল্ক ও কোটামুক্ত বাণিজ্য সুবিধা পেয়ে আসছে, তা হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। এছাড়া ওষুধশিল্পের মেধাস্বত্ব বা পেটেন্ট ছাড় এবং তৈরি পোশাক খাতের টিকে থাকার লড়াইয়ে নিজেদের গুছিয়ে নিতে এই বাড়তি তিন বছর বাংলাদেশকে এক বিশাল সুরক্ষা कवच বা কুশলী সময় দেবে।

নেপথ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা ও প্রধানমন্ত্রীর চিঠি

ক্ষমতার পালাবদলের পর গত ১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণের ঠিক পরের দিনই এলডিসি উত্তরণের সময়সীমা ৩ বছর বাড়ানোর অনুরোধ জানিয়ে জাতিসংঘে চিঠি পাঠায় সরকার। এরপর গত ৬ এপ্রিল জাতিসংঘ মহাসচিবের কাছে ব্যক্তিগত সহযোগিতা চেয়ে সরাসরি চিঠি পাঠান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

পরবর্তীতে জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি (CDP)-র ইতিবাচক সাড়া এবং গত ২১ জুলাই অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের (ইকোসক) সুপারিশের পথ বেয়ে বৃহস্পতিবার সাধারণ পরিষদের প্লেনারি বৈঠকে ‘গ্রুপ অব ৭৭’ ও চীনের পক্ষে উরুগুয়ের প্রতিনিধির উত্থাপিত খসড়া প্রস্তাবটি কণ্ঠভোটে আনুষ্ঠানিকভাবে পাস হয়।

আন্তর্জাতিক মহলের সমর্থন ও সংস্কারের তাগিদ

জাতিসংঘের এই প্লেনারি বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে কোনো দেশ আপত্তি বা বিরোধিতা করেনি। উল্টো ফ্রান্স, কানাডা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষে আয়ারল্যান্ডের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশ ও নেপালের এই সময় বাড়ানোর প্রস্তাবকে জোরালো সমর্থন জানান। তবে একই সঙ্গে তারা দেশের অভ্যন্তরীণ কাঠামোগত সংস্কার কার্যক্রম আরও দ্রুত ও কার্যকরভাবে এগিয়ে নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন।

সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে এখন থেকে আগামী ২০২৯ সালের ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত এলডিসিভুক্ত দেশ হিসেবে আন্তর্জাতিক বাজারে পূর্বের সমস্ত শুল্ক ও বাণিজ্যিক সুযোগ-সুবিধা ভোগ অব্যাহত রাখতে পারবে বাংলাদেশ।

এনএন/ ৩০ অক্টোবর ২০২৬