ধাত্রীকে দিয়ে বাড়িতে সন্তান প্রসব করাতে গিয়ে প্রসূতির মৃত্যু | চ্যানেল আই অনলাইন

ধাত্রীকে দিয়ে বাড়িতে সন্তান প্রসব করাতে গিয়ে প্রসূতির মৃত্যু | চ্যানেল আই অনলাইন

বাড়িতে স্থানীয় ধাত্রীকে দিয়ে স্বাভাবিকভাবে সন্তান প্রসব করাতে গিয়ে রেশমা বেগম (১৮) নামে এক গৃহবধুর মৃত্যু হয়েছে।

তিনি মাগুরা সদর উপজেলার আমুড়িয়া দশকান্দি গ্রামের সাব্বির মোল্লার স্ত্রী। তার বাবার বাড়ি সদর উপজেলার কুকিলা গ্রামের পূর্বপাড়া। তার বাবার নাম অব্দুল ওহাব।

বাবার বাড়িতেই শুক্রবার (৭ আগস্ট) এ ঘটনা ঘটে।

স্বজনরা জানান, খুব অল্প বয়সেই বিয়ে হয়েছিল রেশমার। বিয়ের পর পর একটি কন্যা সন্তানের জন্ম দেন তিনি। পরে প্রায় ৫ বছর পর আবার অন্ত:স্বত্বা হন তিনি। স্থানীয়ভাবে এক ধাত্রী দিয়ে তাকে সন্তান প্রসব করাতে গেলে টিউমারসহ আগে থেকে শরীরে থাকা নানা জটিলতায় একটি কন্যা সন্তান জন্ম দেয়ার পর পর তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। আশংকাজনক অবস্থায় তাকে মাগুরা সদর হাসপাতালে আনার পথেই তার মৃত্যু হয়।

স্বামী মোহাম্মদ সাব্বির মোল্লা বলেন, কিছু দিন আগে মাগুরা সদরের আলমদিনা ক্লিনিকে তার আলট্রাসোগ্রাম করানো হয়। সেখানে রিপোর্ট ভালো ছিল। আজ সকালে গ্রাম ধাত্রী স্থানীয় ভাষায় যাকে সন্ধানী বলা হয়, তার মাধ্যমে স্বাভাবিকভাবে আমার স্ত্রী দ্বিতীয় কন্যা সন্তানের জন্ম দেয়। এর পরই তার অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হয়। তাকে সকাল ৮টার দিকে মাগুরা ২৫০ শয্যা হাসপাতালে নিয়ে আসলে চিকিৎসকরা মৃত ষোঘণা করেন।

মোহাম্মদ সাব্বির মোল্লা আরও বলেন, আমার স্ত্রীর প্রথম কন্যা সন্তান বাড়িতে স্বাভাবিকভাবেই প্রসব হয়েছিল। যে কারণে দ্বিতীয় সন্তান প্রসবেও সে বাবার বাড়িতে ছিল । সেখানে স্বাভাবিকভাবেই তারা সন্তান প্রসবের ব্যবস্থা নিয়েছিলেন। তাছাড়া আমরা অন্যের বাড়িতে বসবাস করি। আর্থিক অবস্থা ভালো নয়।

মাগুরা সিভিল সার্জন ডাক্তার শামীম করিব বলেন, প্রসূতি যদি ডাক্তার চিকিৎসকের অধীনে থাকে তখন কোনভাবেই স্থানীয় ধাত্রী দিয়ে সন্তান প্রসব করানো যাবে না। এটি আইনগতভাবে নিষিদ্ধ। মানুষের জীবন নিয়ে কোন ঝুঁকি নেয়া যাবে না। কোন মা যদি সন্তান প্রসব করেন তখন ডাক্তারের পরামশ প্রয়োজন পড়ে।

তাছাড়া সরকারি হাসপাতাল রয়েছে, সেখানে একজন প্রসূতি ডাক্তার রয়েছে। সব সময় তিনি প্রসূতি মায়ের স্বাস্থ্য বিষয়ে পরামর্শ দিয়ে থাকেন। রেশমার ক্ষেত্রে যেটি ঘটেছে সেটি দ্রুত তদন্ত করা হবে।