মাঝে চার বছর পেরোলেও জ্বালানিনিরাপত্তা বাড়েনি; বরং আমদানি করা জীবাশ্ম জ্বালানিতে নির্ভরতা বেড়েছে। ফেব্রুয়ারি ২০২৬–এর শেষে মধ্যপ্রাচ্যে সংকট শুরু হওয়ামাত্রই আমাদের জ্বালানি খাত চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়েছে, গতানুগতিক জ্বালানিব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে না এলে এ ভঙ্গুর খাতের টেকসই পরিবর্তন সম্ভব নয়। তবে আমাদের বিশ্বাস করতে হবে, জ্বালানি রূপান্তর এ দেশেও সম্ভব। এ জন্য প্রয়োজন কার্যকর পদক্ষেপ এবং সহায়ক নীতিমালা।
প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও নবায়নযোগ্য জ্বালানির রয়েছে যথেষ্ট উপযোগিতা—
একসময় সোলার হোম সিস্টেমে সফলতা পেলেও শুরু থেকেই আমাদের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাত ধীরলয়ে এগিয়েছে। অন্যান্য দেশ, যেমন ভারত, পাকিস্তান, ভিয়েতনাম যখন নবায়নযোগ্য জ্বালানির সক্ষমতা বৃদ্ধিতে নতুন মাইলফলক অর্জন করেছে, আমাদের মধ্যে কাজ করেছে নানান শঙ্কা। একদিকে কৃষিনির্ভর ও ঘনবসতিপূর্ণ দেশ হওয়ায় প্রকল্প বাস্তবায়নে জমির সংকট নিয়ে বারবার আলোচনা করা হয়েছে, অন্যদিকে সৌরঘণ্টা নিয়েও এখনো হচ্ছে বিস্তর আলোচনা। এটা অনস্বীকার্য যে বাংলাদেশের জমির সংকট রয়েছে, তবে সৌরবিদ্যুতের প্রকল্প স্থাপন করার মতো জমি এ দেশে নেই, তা বলা যাবে না। বেশ কয়েকটি অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য অনেক জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যেখানে সৌরবিদ্যুতের প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব। সঙ্গে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ, সেচকাজে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার এবং ৮৭ হাজার গ্রামে কিছু কিছু করে সৌরবিদ্যুতের প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হলে পরিমাণটা মেগাওয়াটে নেহাত মন্দ হবে না।




