
দীর্ঘক্ষণ একই ভঙ্গিতে বসে থাকলে বা শুয়ে থাকলে মাঝে মাঝে হাত ও পায়ে ঝিনঝিন অনুভূতি হয়। সাধারণত একে সাময়িক ক্লান্তি বা ভুলভাবে বসার ফলাফল মনে করে অনেকেই গুরুত্ব দেন না। তবে এই সমস্যাটি যদি বারবার দেখা দেয়, তবে এটি শরীরের ভেতরে কোনো বড় সমস্যার পূর্বাভাস হতে পারে।
চিকিৎসকদের মতে, ঘনঘন হাত ও পা ঝিনঝিন করা বা অবশ হয়ে যাওয়া হতে পারে ভিটামিন বি১২-এর অভাবের লক্ষণ। এই ভিটামিনের ঘাটতি শরীরের স্নায়ুতন্ত্রকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
মানবদেহের স্নায়ুর সুরক্ষায় পুষ্টির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্নায়ুকে ঘিরে থাকা মায়োলিন শিথ নামক একটি প্রতিরক্ষামূলক আবরণ সংকেত পরিবহনে সহায়তা করে। ভিটামিন বি১২-এর একটি উপাদান মিথাইলকোবালামিন এই আবরণকে সুস্থ রাখতে কাজ করে। এই স্তরের ক্ষতি হলে স্নায়বিক সংকেত চলাচলে ব্যাঘাত ঘটে, যার ফলে অসাড়তা বা ব্যথার মতো উপসর্গ তৈরি হয়। বিশেষ করে যারা অতিরিক্ত পরিশ্রম করেন বা দীর্ঘ ভ্রমণে অভ্যস্ত, তাদের ক্ষেত্রে এমন ঝুঁকি বেশি থাকে।
ভারতের প্রখ্যাত স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ সতীশ খাদিলকরের মতে, এ ধরনের উপসর্গকে অবহেলা করা উচিত নয়। শুধু সাধারণ খাবারের মাধ্যমে অনেক সময় প্রয়োজনীয় ভিটামিনের চাহিদা পূরণ হয় না। সেক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করার প্রয়োজন হতে পারে।
ভিটামিন বি১, বি২, বি৩, বি৫ এবং বি৬ সম্মিলিতভাবে শরীরের স্নায়বিক শক্তি বৃদ্ধি করে এবং হাত ও পায়ের ঝিনঝিন করা বা দুর্বলতা কমাতে সাহায্য করে। এছাড়া ব্যথানাশক হিসেবে নির্দিষ্ট উপাদানের ক্রিম ব্যবহারের পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।
সঠিক সময়ে সচেতনতা এবং পুষ্টি নিশ্চিত করলে দীর্ঘমেয়াদী স্নায়বিক জটিলতা থেকে দূরে থাকা সম্ভব।
এনএন/ ২৬ এপ্রিল ২০২৬






