রাজধানী থেকে অভিনেত্রী ও মডেল রিধিকা রিধির মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। প্রেমঘটিত বিষয় নিয়ে ঝগড়ার জেরে শনিবার (১৫ আগস্ট) ভোরে রিধি নিজেকে শেষ করেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। ওই সময় কথিত প্রেমিককে ভিডিও কলে রেখেই এই অভিনেত্রী আত্মহত্যা করেন বলেও দাবি করেছেন পরিবারের সদস্যরা।
রিধিকা রিধির পরিবারের সদস্যদের বরাতে ভাটারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম জানিয়েছেন, রিধির একজনের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। শনিবার ভোরে ওই ব্যক্তির সঙ্গে ভিডিও কলে তার কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তাকে ভিডিও কলে রেখেই রিধি আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও ঘটনার তদন্তের পরই এই অভিনেত্রীর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
পুলিশের এই কর্মকর্তা জানান, খবর পেয়ে পুলিশ কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে রিধির মরদেহ পায়। তার মাসহ পরিবারের সদস্যরা বর্তমানে থানায় রয়েছেন। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা নেয়া হচ্ছে। এ ছাড়া ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে ভাটারা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ওয়াদুদ জানিয়েছেন, অভিনেত্রী রিধির পরিবারের কাছ থেকে পাওয়া তার জাতীয় পরিচয়পত্রে নাম লীনা আক্তার। পুলিশ তার পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি রিধির সঙ্গে ওই ব্যক্তির সম্পর্ক ও মৃত্যুর আগে তাদের মধ্যে কী ঘটেছিল, সেসব বিষয়েও তদন্ত করছে।
এর আগে শনিবার ভোরে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় অভিনেত্রী ও মডেল রিধিকা রিধির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মডেলিংয়ের মাধ্যমে শোবিজে পরিচিতি পান তিনি। পরবর্তী সময়ে অভিনয়েও নিয়মিত কাজ করেন। বেশ কয়েকটি নাটকে অভিনয় করে দর্শকদের নজরে আসেন এই অভিনেত্রী। তার অভিনীত নাটকের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ‘এখানে মানুষ বিক্রি হয়’, ‘বহুরূপী’, ‘ডাবল হানিমুন’ ও ‘সুন্দরী’।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
এ ছাড়া সোশ্যাল মিডিয়াতেও বেশ সক্রিয় ছিলেন রিধিকা রিধি। বিভিন্ন সময় তিনি তার কাজের ছবি প্রকাশ করতেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রিধিকা সর্বশেষ পোস্ট করেন গত ৩০ জুলাই। এরপর আর তাকে সোশ্যাল মিডিয়াতে পোস্ট করতে দেখা যায়নি। যদিও এর আগে নিয়মিত কাজের আপডেট দিতেন এই অভিনেত্রী।

