
বেইজিং, ৮ জুন – পশুখাদ্যের বাজারে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে চীনের এক নতুন বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার। দেশটির গবেষকরা ভুট্টায় প্রোটিন উৎপাদন বাড়াতে সহায়ক একটি গুরুত্বপূর্ণ জিন শনাক্ত করেছেন যা ভবিষ্যতে সয়াবিনের ওপর নির্ভরতা কমাতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
চীনের বিজ্ঞান অ্যাকাডেমির সেন্টার ফর এক্সেলেন্স ইন মলিকুলার প্ল্যান্ট সায়েন্সেস, শাংহাই নরমাল বিশ্ববিদ্যালয় এবং সিছুয়ান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের দীর্ঘ ১৫ বছরের যৌথ গবেষণায় এই সাফল্য এসেছে। গবেষণার ফলাফল সম্প্রতি বিজ্ঞান সাময়িকী নেচারে প্রকাশিত হয়েছে।
গবেষণায় জানা গেছে,
নতুন শনাক্ত হওয়া টিএইচপি৩-টি জিনটি ২০২২ সালে আবিষ্কৃত টিএইচি৯-টি জিনের সঙ্গে একত্রে ব্যবহার করলে ভুট্টার প্রোটিনের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো সম্ভব। সাধারণ ভুট্টায় যেখানে প্রোটিনের পরিমাণ প্রায় ১০ শতাংশ, তা বেড়ে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত উন্নীত হতে পারে।
একইভাবে চীনে ব্যাপকভাবে চাষ হওয়া বাণিজ্যিক হাইব্রিড ভুট্টার ক্ষেত্রেও প্রোটিনের পরিমাণ ৮ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে ১২ থেকে ১৩ শতাংশে উন্নীত হওয়ার সম্ভাবনা দেখা গেছে। গবেষক উ ইয়োংরুই জানিয়েছেন, টিএইচপি৩-টি জিনটি উদ্ভিদের নাইট্রোজেন বিপাক প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
এর মাধ্যমে গাছ আরও দক্ষতার সঙ্গে নাইট্রোজেন গ্রহণ ও ব্যবহার করতে পারে। ফলে অ্যামিনো অ্যাসিড ও প্রোটিন উৎপাদন বাড়ে। গবেষণায় আরও উঠে এসেছে যে এই দুটি জিন একসঙ্গে কাজ করলে কম নাইট্রোজেনযুক্ত মাটিতেও ভুট্টা উচ্চ প্রোটিন উৎপাদন করতে সক্ষম হবে।
এতে রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমানোর সুযোগ তৈরি হবে যা পরিবেশের জন্যও ইতিবাচক। বর্তমানে চীনে পশুখাদ্যে ব্যবহৃত প্রোটিনের প্রধান উৎস সয়াবিন যার প্রায় ৮০ শতাংশই আমদানিনির্ভর। ফলে এই নতুন আবিষ্কার দেশটির কৃষি ও অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের হিসাব অনুযায়ী পশুখাদ্যে ব্যবহৃত ভুট্টার প্রোটিন গড়ে ৪ শতাংশ বাড়ানো গেলে বছরে প্রায় ৩ কোটি টন সয়াবিন আমদানির প্রয়োজন কমে যেতে পারে।
এছাড়া উচ্চ প্রোটিনযুক্ত ভুট্টা পশুখাদ্যে ব্যবহৃত সয়াবিন মিলের ৫০ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত প্রতিস্থাপন করতে সক্ষম হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। হাঁস মুরগির খামারেও এর ব্যবহার বাড়লে উৎপাদন খরচ কমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
এস এম/ ৮ জুন ২০২৬






