প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের মন্ত্রিসভায় বড় কোনো পরিবর্তন না এলেও আরও দুই নতুন মুখ যুক্ত হতে পারেন বলে জানা গেছে। মন্ত্রিসভায় যুক্ত হওয়ার আলোচনায় আরও কয়েকজনের নাম থাকলেও এই ধাপে বান্দরবান থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী এবং গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকনের নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে সরকারের উচ্চপর্যায়ের সূত্র জানিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) অথবা নতুন রাষ্ট্রপতির শপথের আগে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে বলে জানা গেছে।
সরকারের উচ্চপর্যায়ের সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, সাচিং প্রু জেরীকে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী এবং শামীম কায়সার লিংকনকে ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। শেষ সময়ে কিছু মন্ত্রণালয়ে রদবদল হতে পারে বলেও জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নতুন দুই মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ২২ আগস্ট নতুন রাষ্ট্রপতির কাছে শপথ নিতে পারেন। কারণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তিন কার্যদিবসের মধ্যে শপথ গ্রহণের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
গত ১৭ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রিসভায় শপথ নেওয়া অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন। শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে গত ১ জুন তিনি পদত্যাগ করেন। এরপর প্রায় দুই মাস ধরে মন্ত্রণালয়টিতে নতুন মন্ত্রী নিয়োগের আলোচনা চলছে। বর্তমানে মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে রয়েছেন।
অন্যদিকে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাইবান্ধা-৪ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে এক লাখ ৪২ হাজার ৭৭২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন। কয়েক দিন ধরে তাকে ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা চলছে।
বর্তমান মন্ত্রিপরিষদের মোট সদস্যসংখ্যা ৫০। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত এই মন্ত্রিসভায় প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও ২৫ জন পূর্ণ মন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী রয়েছেন। এ ছাড়া মন্ত্রিপরিষদের বাইরে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত ১০ জন উপদেষ্টা রয়েছেন, যাদের মধ্যে পাঁচজন মন্ত্রী এবং পাঁচজন প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদার। নতুন দুই সদস্য যুক্ত হলে মন্ত্রিসভার আকার আরও বাড়তে পারে।
এদিকে আগামী ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে দলটির রাষ্ট্রপতি প্রার্থী করা হয়েছে। সংসদে বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় তার নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠানকে সামনে রেখে বঙ্গভবনে প্রস্তুতিও চলছে। তবে শপথের নির্দিষ্ট তারিখ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। সরকারি সূত্রগুলো বলছে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পর শপথের তারিখ নির্ধারণ করা হবে।


