মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থান গবেষণায় ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত অনুদান – DesheBideshe

মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থান গবেষণায় ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত অনুদান – DesheBideshe

ঢাকা, ২৩ মার্চ – মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থান বিষয়ে গবেষণাকে উৎসাহিত করতে একটি নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে সরকার। প্রাতিষ্ঠানিক, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্প্রতি ‘গবেষণা (পরিচালনা, অর্থায়ন ও ব্যবস্থাপনা) নির্দেশিকা ২০২৬’ প্রণয়ন করেছে। নতুন এই নির্দেশিকায় গবেষণার ধরন অনুযায়ী সর্বনিম্ন ৫ লাখ থেকে সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত আর্থিক অনুদান দেওয়ার বিধান যুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে অর্থ ব্যবস্থাপনায় কঠোর নিয়ন্ত্রণ এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্দেশিকা অনুযায়ী গবেষণাকে তিনটি ভিন্ন শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে।

ক শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত দলীয় বা প্রাতিষ্ঠানিক গবেষণার জন্য ১০ লাখ থেকে ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত অনুদান দেওয়া হবে। খ শ্রেণির একক গবেষণায় ৫ লাখ থেকে ১০ লাখ টাকা এবং গ শ্রেণির একক গবেষণায় সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থায়নের সুযোগ রয়েছে। গবেষণার গুরুত্ব ও পরিধির ওপর ভিত্তি করে প্রয়োজনে এই আর্থিক সীমা পুনর্নির্ধারণ করা যেতে পারে। এসব গবেষণার মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে যথাক্রমে সর্বোচ্চ ১২, ৯ এবং ৬ মাস। গবেষণার জন্য বরাদ্দকৃত অনুদান ধাপে ধাপে ছাড় করা হবে। প্রারম্ভিক প্রতিবেদন বা ইনসেপশন রিপোর্ট গৃহীত হওয়ার পর প্রথম কিস্তিতে ৪০ শতাংশ অর্থ দেওয়া হবে। গবেষণার অন্তত অর্ধেক কাজ শেষ হওয়ার পর মধ্যবর্তী প্রতিবেদন উপস্থাপনের ভিত্তিতে আরও ৪০ শতাংশ এবং চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিয়ে অনুমোদন পাওয়ার পর বাকি ২০ শতাংশ অর্থ ছাড় করা হবে।

আগের কিস্তির অর্থের হিসাব সমন্বয় না করা পর্যন্ত পরের কিস্তির অর্থ দেওয়া হবে না। নির্দেশিকায় আরও বলা হয়েছে যে, গবেষণার মোট বাজেটের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ সম্মানী হিসেবে গবেষণা পরিচালক, সহগবেষক এবং সংশ্লিষ্টদের মধ্যে বণ্টন করা যাবে। এর মধ্যে গবেষণা পরিচালক সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ, সহগবেষকরা ১৫ শতাংশ এবং গবেষণা সহযোগী ও সহকারীরা সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ পর্যন্ত সম্মানী পাবেন। অবশিষ্ট অর্থ তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ, প্রতিবেদন প্রণয়ন, মুদ্রণ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাজে ব্যয় করা যাবে।

গবেষণার ক্ষেত্র হিসেবে মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট, সংগ্রাম, ফলাফল, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ তালিকার যাচাই, ১৯৭১ সালের গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ, শহীদ বুদ্ধিজীবী এবং নারী ও শিশুদের ভূমিকা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট, কারণ, প্রত্যাশা, শহীদ পরিবার ও আহতদের পুনর্বাসন এবং রাষ্ট্র সংস্কারে এর চেতনার বাস্তবায়নের মতো বিষয়গুলোও গবেষণার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অর্থ ব্যবস্থাপনায় কঠোর জবাবদিহি নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে যে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গবেষণা শেষ না হলে বা প্রতিবেদন বাতিল হলে অনুদানের অর্থ ফেরত দিতে হবে। এছাড়া কোনো অর্থ উদ্বৃত্ত থাকলে তা মন্ত্রণালয়ে জমা দিতে হবে। গবেষণার ক্ষেত্রে গুণগত মান, নিরপেক্ষতা এবং নৈতিকতা বজায় রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কোনো ধরনের চৌর্যবৃত্তি বা প্লেজারিজম প্রমাণিত হলে গবেষণা বাতিলসহ প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এস এম/ ২৩ মার্চ ২০২৬