রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে ভারতের রাজধানী দিল্লিতে আয়োজিত এক ব্যতিক্রমধর্মী সাংস্কৃতিক সন্ধ্যায় প্রশংসা কুড়িয়েছেন ঢাকার মেয়ে তাসমিয়া তানহা।
বর্তমানে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে মাইক্রোবায়োলজি বিষয়ে স্নাতক শেষ বর্ষে অধ্যয়নরত তাসমিয়া অংশ নেন ‘বিয়ন্ড সাইলেন্স – টেগোরস ওমেন’ শীর্ষক একটি বিশেষ নাট্য-সংগীত প্রযোজনায়। গত ৯ মে দিল্লির বিখ্যাত থিয়েটারপাড়া মান্ডি হাউজের এলটিজি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় এই আয়োজন।
সাঁঝবাতি ফাউন্ডেশন ও স্বরছন্দ-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে রবীন্দ্রনাথের নারীচরিত্রগুলোকে নতুনভাবে তুলে ধরা হয়। বাংলা ভাষার গণ্ডি পেরিয়ে হিন্দিভাষী দর্শকদের কাছে রবীন্দ্রনাথের ভাবনা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই নির্মিত হয়েছিল এই বিশেষ প্রযোজনা।
নাট্যনির্মাতা শুদ্ধ বন্দ্যোপাধ্যায় ও নন্দিনী বন্দ্যোপাধ্যায়-এর ভাবনায় গড়ে ওঠা এ আয়োজনে রবীন্দ্রনাথের সৃষ্ট পাঁচ নারীচরিত্রকে কেন্দ্র করে নির্মিত হয় বহুস্তরীয় আখ্যান। সমাজের বৈষম্য, ধর্মীয় গোঁড়ামি, পণপ্রথা ও নারীর স্বাধীনতা—এসব বিষয় উঠে আসে নাটকের মূল উপজীব্য হিসেবে।
এই প্রযোজনায় অভিনয় করেন কৃতিকা ভাটিয়া, অরণ্য সিংহ, নৈসর্গিকা দাস হালদার, সঙ্গীতা সান্যাল এবং বাংলাদেশের তাসমিয়া তানহা। তাঁদের অভিনয়ে রবীন্দ্রনাথের নারীচরিত্রগুলো যেন জীবন্ত হয়ে ওঠে মঞ্চে। আর ন্যারেটর হিসেবে অভিনয় করেন নীল বন্দ্যোপাধ্যায়৷
বিশেষ করে তাসমিয়ার অভিনয় দর্শকদের দৃষ্টি কাড়ে। দিল্লির সাংস্কৃতিক অঙ্গনের দর্শকরা তাঁর সাবলীল উপস্থিতি ও আবেগঘন অভিনয়ের প্রশংসা করেন।
অনুষ্ঠানে রবীন্দ্রসঙ্গীত পরিবেশনার দায়িত্বে ছিল ‘স্বরছন্দ’, আর নাট্যাংশ মঞ্চস্থ করে ‘সাঁঝবাতি ফাউন্ডেশন’। গানের ভাষা বাংলা হলেও নাটকের ভাষা ছিল হিন্দি, যা বহুভাষিক দর্শকদের জন্য পুরো আয়োজনকে আরও গ্রহণযোগ্য করে তোলে।
আয়োজকদের মতে, ‘বিয়ন্ড দ্য সাইলেন্স’ শুধু একটি নাট্যপ্রযোজনা নয়; এটি ছিল সময়ের সঙ্গে এক সাংস্কৃতিক সংলাপ। রবীন্দ্রনাথের সেই প্রতিবাদী ও প্রগতিশীল কণ্ঠকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরার এক আন্তরিক প্রয়াস।







