লেক অন্টারিওর নাম ‘লেক আমেরিকা’ রাখতে চান ট্রাম্প | চ্যানেল আই অনলাইন

কানাডার সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধ তীব্র হওয়ার মধ্যে লেক অন্টারিওর নাম পরিবর্তন করে ‘লেক আমেরিকা’ করার কথা ভাবছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন কানাডার নাগরিক ও রাজনীতিকরা।

সোমবার (২৪ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লেখেন, অন্টারিওর সঙ্গে আমরা আর বেশি ব্যবসা করব না। তাই যুক্তরাষ্ট্র লেক অন্টারিওর নাম পরিবর্তন করে লেক আমেরিকা করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।

ট্রাম্পের এমন বক্তব্যের পর কানাডায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। অন্টারিওর বাসিন্দা প্যাট্রিসিয়া ওয়াইজম্যান বলেন, তিনি যতই চেষ্টা করুন না কেন, এটি কখনোই হবে না। কারণ কানাডিয়ানরা শক্তিশালী।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের সরকার নিজেদের ব্যবহারে কোনো ভৌগোলিক স্থান বা স্থানের নাম কীভাবে উল্লেখ করবে, সে বিষয়ে ট্রাম্পের প্রশাসনের যথেষ্ট ক্ষমতা রয়েছে। কিন্তু কানাডা কিংবা সীমান্তের দুই পাশে থাকা সাধারণ মানুষকে ওই নাম ব্যবহারে বাধ্য করার ক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের নেই।

অন্টারিওর প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবকে ‘অনেক কথার কথা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে চলমান বাণিজ্য বিরোধ নিয়ে উত্তেজনা কমিয়ে আবার আলোচনার টেবিলে ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

লেক অন্টারিও যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্য ও কানাডার অন্টারিও প্রদেশের মধ্যবর্তী সীমান্তের অংশ। এটি নিউইয়র্কের একটি বড় অংশের উপকূল তৈরি করেছে এবং কানাডার সবচেয়ে জনবহুল শহর টরন্টোকে যুক্তরাষ্ট্রের বাফেলো থেকে পৃথক করেছে।

অন্টারিও যুক্তরাষ্ট্রের এক ডজনেরও বেশি অঙ্গরাজ্যের জন্য সবচেয়ে বড় রপ্তানি বাজার। ফলে দুই দেশের বাণিজ্য বিরোধের প্রভাব সীমান্তবর্তী অঞ্চলের অর্থনীতিতেও পড়ছে।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে বাণিজ্য উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করেছে। ট্রাম্প প্রশাসন সপ্তাহান্তে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের কানাডীয় পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে। পাশাপাশি কানাডার গাড়ি, গাড়ির যন্ত্রাংশ ও ইস্পাতের ওপরও নতুন করে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প।

কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি পাল্টা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক দাবিগুলো কানাডার গাড়ি, ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়ামসহ গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ধ্বংস করতে চায়।

লেক অন্টারিওর নামের ইতিহাস যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা রাষ্ট্রেরও আগের। হুরন আদিবাসীদের ব্যবহৃত ‘ওনিয়াতারিও’ শব্দ থেকে হ্রদটির নাম এসেছে, যার অর্থ ‘ঝলমলে পানির হ্রদ’। ১৮৬৭ সালে প্রতিষ্ঠিত কানাডার অন্টারিও প্রদেশও এই হ্রদের নাম অনুসারেই নাম পেয়েছে।

লেকটির নাম পরিবর্তনের পক্ষে নিউইয়র্কের পোর্ট অন্টারিও এলাকার বাসিন্দা ও জেলে জিম ফেটারহফ বলেন, আমি এটি পছন্দ করি। কারণ আমি আমেরিকাকে ভালোবাসি এবং এই মুহূর্তে কানাডা আমাদের সঙ্গে খুব ভালো আচরণ করছে না।’ তবে তিনি স্পষ্ট করেন, কানাডার নাগরিকদের প্রতি তার কোনো বিরূপতা নেই, আপত্তি শুধু কানাডা সরকারের নীতির বিরুদ্ধে।

এর আগে ২০২৫ সালে ট্রাম্প মেক্সিকো উপসাগরের নাম পরিবর্তন করে ‘গালফ অব আমেরিকা’ করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। মেক্সিকোসহ অনেক দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা এখনও ‘গালফ অব মেক্সিকো’ নামটিই ব্যবহার করছে।

কানাডার নাগরিক প্যাট্রিসিয়া ওয়াইজম্যান বলেন, তিনি চিরকাল প্রেসিডেন্ট থাকবেন না। ট্রাম্পের প্রস্তাবকে ঘিরে দুই দেশের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের মধ্যে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।