বিভক্ত একটি জাতি
কেনিয়ায় নির্বাসিত ইথিওপীয় ভূরাজনীতি গবেষক সুরাফেল গেতাহুনের মতে, জাতিগত মেরুকরণ, দুর্বল প্রশাসন, বৈষম্য এবং নির্বিচার গ্রেপ্তারের কারণে আবি আহমেদের সরকারের বৈধতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাঁর ভাষায়, আবির শাসনামলে ইথিওপীয়রা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি বিভক্ত।
এই গবেষক বলেন, ‘আমি আত্মবিশ্বাস নিয়ে বলতে পারি, তাঁর শাসনামলে ইথিওপীয়রা আজকে অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি বিভক্ত। বিদ্যমান জাতিগত বৈরিতা ইথিওপীয় সমাজের সামাজিক সংহতিকে ভেঙে দিয়েছে। ফলে সামাজিক ভারসাম্য বিনষ্ট হয়ে অনাস্থা দেখা দিয়েছে।’
সুরাফেল গেতাহুন জানান, বিদেশি গণমাধ্যমে কথা বলার কারণে ২০২৪ সালে তাঁকে গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছিল। তাঁর মতে, নাগরিক পরিসর সংকুচিত হওয়ায় আবি আহমেদ এখন দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে অত্যন্ত বিভাজনমূলক ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছেন।
আবি আহমেদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ এটাই নতুন নয়। ২০২১ সালে ওয়াশিংটনে ইথিওপিয়ার দূতাবাসের উপপ্রধান বেরহানে কিদানেমারিয়াম তিগ্রাইয়ে সংঘাতের প্রতিবাদে পদত্যাগ করেন। এক খোলাচিঠিতে তিনি অভিযোগ করেন, জাতীয় ঐক্যের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এলেও আবি আহমেদ শেষ পর্যন্ত দেশকে বিভাজনের দিকে ঠেলে দিয়েছেন।
চিঠিতে বেরহানে কিদানেমারিয়াম লেখেন, ‘সবচেয়ে দুর্ভাগ্যজনক বিষয়গুলোর একটি হলো, একজন প্রধানমন্ত্রী যিনি ঐক্যের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিলেন, তিনি বেপরোয়াভাবে বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে বিদ্বেষ বাড়িয়ে দিয়েছেন।’
তবে আবির কার্যালয় এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে অস্বীকার করে।




