সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশের বিকল্প কেন জৈব জ্বালানিতে

সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশের বিকল্প কেন জৈব জ্বালানিতে

বাংলাদেশে বর্তমানে ডিজেলের বার্ষিক চাহিদা বছরে ৬৫ লাখ টন। ইন্দোনেশিয়া পামগাছ থেকে বি৩৫ বায়োডিজেল চালু করে তাদের আমদানি ব্যয় ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার সাশ্রয় করেছে এবং ১৭ মিলিয়ন টন কার্বন হ্রাস করেছে। মালয়েশিয়ায় বি২০ ব্যবহারে গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ খরচ ১২ থেকে ১৫ শতাংশ কমেছে।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগন, মিনেসোটা, নেব্রাস্কা, মিশিগানসহ বেশ কিছু অঙ্গরাজ্যে ভারী যানবাহনে ২০ শতাংশ পর্যন্ত বায়োডিজেল ব্যবহৃত হচ্ছে। যুক্তরাজ্যের লিভারপুল, স্কটল্যান্ড ও নরউইচ অঞ্চলে কৃষিকাজে বায়োডিজেল ব্যবহৃত হচ্ছে।

ইউএসডিএর তথ্যমতে, বায়োডিজেল ব্যবহারের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম প্রতি লিটারে শূন্য দশমিক ১৫ থেকে শূন্য দশমিক ২০ ডলার কমেছে এবং কৃষি খাতে ৭০ হাজারের বেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। ব্রাজিলে ২০ শতাংশ বায়োডিজেল ব্যবহারের ফলে ডিজেল আমদানি ৪৫ শতাংশ কমেছে এবং তারা জীবাশ্ম ডিজেলের তুলনায় কম খরচে বায়োডিজেল উৎপাদন করছে।

বায়োডিজেলে সালফার নির্গমন শূন্যের কাছাকাছি এবং গ্রিনহাউস গ্যাস ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ কমে। ঢাকার বর্জ্য কুকিং ওয়েল থেকেও বায়োডিজেল সম্ভব।

ঢাকায় প্রতিদিন ৮০ থেকে ১০০ টন কুকিং ওয়েল নষ্ট হয়, যা থেকে মাসে ২ হাজার ৫০০ টন বায়োডিজেল পাওয়া সম্ভব। এ ছাড়া জ্যাট্রোফা, রাবার সিড বা করঞ্জার মতো নন-এডিবল ওয়েল থেকে বছরে এক মিলিয়ন টনের বেশি বায়োডিজেল উৎপাদন সম্ভব। এডিবির গবেষণায় দেখা গেছে, পতিত জমিতে বি২০ উৎপাদন করলে খাদ্যের সংকট হবে না, বরং কর্মসংস্থান বাড়বে। বাংলাদেশ ২০ শতাংশ বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করলে বছরে কমপক্ষে দুই বিলিয়ন ডলার সাশ্রয় করতে পারবে।