
প্যারিস, ২২ জুলাই – অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশু এবং কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নতুন আইন অনুমোদন করেছে ফ্রান্সের পার্লামেন্ট। এই আইনের ফলে দেশটিতে ১৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার কার্যত নিষিদ্ধ হতে যাচ্ছে।
আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে এই কঠোর বিধিনিষেধ কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার পর ফ্রান্সই প্রথম ইউরোপীয় দেশ হিসেবে এমন উদ্যোগ গ্রহণ করল। নতুন এই বিধানে বলা হয়েছে, ১৫ বছরের কম বয়সী কোনো শিশু নতুন করে কোনো সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবে না।
পাশাপাশি বর্তমানে এই বয়সসীমার নিচে থাকা ব্যবহারকারীদের বিদ্যমান অ্যাকাউন্টগুলোও বন্ধ করে দিতে হবে। এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে অতিরিক্ত চার মাস সময় দেওয়া হবে। ফ্রান্সের আইনপ্রণেতারা মনে করছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম শিশুদের মানসিক বিকাশ ও সামাজিক আচরণে বিরূপ প্রভাব ফেলছে।
আসক্তি, দুশ্চিন্তা এবং একাকিত্বের মতো সমস্যাগুলো মোকাবিলা করতেই সিনেট ও ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি যৌথভাবে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নতুন আইন অনুযায়ী, ব্যবহারকারীদের বয়স যাচাইয়ের ক্ষেত্রে বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
ফ্রান্সের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ক জুনিয়র মন্ত্রী অ্যান লে হেনাফ বলেন, ডিজিটাল যুগে শিশুদের সুরক্ষায় বয়সভিত্তিক এই সীমারেখা টানা অত্যন্ত জরুরি। প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁও দীর্ঘদিন ধরে শিশুদের অনিয়ন্ত্রিত মোবাইল ব্যবহারের সমালোচনা করে আসছেন।
তিনি মনে করেন, ডিজিটাল পরিবেশ শিশুদের মনোযোগ নষ্ট করছে এবং তাদের সুস্থভাবে বেড়ে ওঠার ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করেছে।
তাদের মতে, বয়সভিত্তিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ইতোমধ্যেই কার্যকর রয়েছে। তা সত্ত্বেও সরকারি আইন মেনে চলার আশ্বাস দিয়েছে তারা। বর্তমানে ইউরোপীয় কমিশনও শিশুদের জন্য নিরাপদ অনলাইন পরিবেশ গড়তে কাজ করছে এবং ফ্রান্সের এই আইনটি খতিয়ে দেখছে।
এস এম/ ২২ জুলাই ২০২৬






