পৃথিবীতে কত আশ্চর্য বিষয়ই না ছড়িয়ে আছে! নিচে দেওয়া এই ১০টি আশ্চর্য তথ্য না জানলে হয়তো কোনো ক্ষতি নেই, তবে আপনি যদি কিঞ্চিৎ বিজ্ঞানমনস্ক হয়ে থাকেন, তবে এগুলো জেনে নিশ্চয়ই পুলকিত হবেন। আর মজার তথ্য জানার নিখাদ আনন্দের সঙ্গে অন্য কোনো কিছুর কি তুলনা চলে? চলুন, জেনে নেওয়া যাক বিজ্ঞানের এমনই মজার ও আশ্চর্য ১০টি বিষয়।
১. শব্দের মাত্রাও হতে পারে মাইনাস
শব্দের মাত্রা শূন্যের নিচেও হতে পারে। পৃথিবীর সবচেয়ে নীরব স্থান হলো যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে অবস্থিত মাইক্রোসফটের সদর দপ্তরের অ্যানেকোইক চেম্বার। সেখানে শব্দের মাত্রা মাইনাস ২০ ডেসিবেল! এই কক্ষগুলো মোটা কংক্রিট ও ইট দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। মেঝের কম্পন ঠেকাতে পুরো কক্ষটি স্প্রিংয়ের ওপর বসানো থাকে।
২. এক ঘোড়ার ক্ষমতা কি এক হর্সপাওয়ার
একটি ঘোড়ার ক্ষমতা সাধারণত এক হর্সপাওয়ারের চেয়ে অনেক বেশি হয়। ১৯৯৩ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, একটি ঘোড়া দৌড়ানোর সময় সর্বোচ্চ প্রায় ১৮ হাজার ওয়াট, অর্থাৎ প্রায় ২৪ হর্সপাওয়ার শক্তি উৎপন্ন করতে পারে। ১ হর্সপাওয়ার সমান ৭৪৬ ওয়াট।
৩. স্বাক্ষরেই লুকিয়ে আছে ব্যক্তিত্ব
আপনার স্বাক্ষর আপনার ব্যক্তিত্বের বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করতে পারে। ২০১৬ সালের একটি গবেষণায় বলা হয়েছে, পুরুষদের ক্ষেত্রে বড় সিগনেচার সামাজিক আত্মপ্রকাশ বা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। অন্যদিকে নারীদের ক্ষেত্রে বড় সিগনেচার কখনো কখনো আত্মমুগ্ধতার ইঙ্গিত দেয়।
১৯৯৩ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, একটি ঘোড়া দৌড়ানোর সময় সর্বোচ্চ প্রায় ১৮ হাজার ওয়াট, অর্থাৎ প্রায় ২৪ হর্সপাওয়ার শক্তি উৎপন্ন করতে পারে। ১ হর্সপাওয়ার সমান ৭৪৬ ওয়াট।
৪. কলার চেয়েও তেজস্ক্রিয় আপনি
কলা সামান্য তেজস্ক্রিয় একটি ফল। এতে অধিক মাত্রায় প্রাকৃতিক আইসোটোপ পটাশিয়াম-৪০ থাকার কারণে প্রতিটি কলা অল্পমাত্রায় তেজস্ক্রিয় হয়। মজার বিষয় হলো, আমাদের মানবশরীরেও প্রায় ১৬ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম-৪০ থাকে। অর্থাৎ, আপনি নিজেই একটি কলার চেয়ে প্রায় ২৮০ গুণ বেশি তেজস্ক্রিয়!
৫. পৃথিবীতে সোজা রেখা বলে কিছু নেই
সোজা বা সরলরেখা বলে আসলে নিখুঁত কিছু নেই। কোনো কিছুকে আণুবীক্ষণিক পর্যায়ে খুব কাছ থেকে দেখলে তাতে সূক্ষ্ম অনিয়ম দেখা যায়। এমনকি লেজার আলোর রশ্মিও মহাকর্ষ বা অন্যান্য প্রভাবে সামান্য বাঁকানো থাকে।

৬. নিজের অজান্তেই মা হওয়া
কেউ গর্ভবতী হয়েও তা বুঝতে না পারার ঘটনা ঘটতে পারে! চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ক্রিপ্টিক প্রেগন্যান্সি। এমন ঘটনা মোটেও বিরল নয়। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, প্রতি ৫০০ জন গর্ভবতী নারীর মধ্যে অন্তত একজন গর্ভাবস্থার মাঝামাঝি পর্যন্ত তা বুঝতে পারেন না। আর প্রতি ২ হাজার ৫০০ জনের মধ্যে একজন তো প্রসব শুরু না হওয়া পর্যন্ত টেরই পান না!
জলহস্তী সাঁতার কাটতে পারে না! তাদের হাড় এতই ঘন ও ভারী হয় যে তারা পানিতে সহজে ভাসতে পারে না। তারা মূলত নদী বা হ্রদের তলদেশে ধীরগতিতে দৌড়ানোর মতো করে চলাফেরা করে।
৭. সবচেয়ে সুখী দেশ ফিনল্যান্ড
পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী দেশ হলো ফিনল্যান্ড। ওয়ার্ল্ড হ্যাপিনেস রিপোর্ট অনুযায়ী, টানা বেশ কয়েক বছর ধরে শীর্ষ সুখী দেশের এই মুকুটটি ধরে রেখেছে স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশটি।
৮. জলহস্তী সাঁতার কাটতে পারে না
শুনতে অবাক লাগলেও সত্যি যে জলহস্তী সাঁতার কাটতে পারে না! তাদের হাড় এতই ঘন ও ভারী হয় যে তারা পানিতে সহজে ভাসতে পারে না। তারা মূলত নদী বা হ্রদের তলদেশে ধীরগতিতে দৌড়ানোর মতো করে চলাফেরা করে। এমনকি তারা পানির নিচে ঘুমাতেও পারে। মাঝেমধ্যে নিজে থেকেই অবচেতনভাবে ওপরে উঠে শ্বাস নিয়ে আবার নিচে নেমে যায়!

৯. উল্টো দিকের চাঁদ
দক্ষিণ গোলার্ধে গেলে আপনার কাছে চাঁদকে উল্টো মনে হবে। উত্তর গোলার্ধের তুলনায় সেখান থেকে চাঁদের কলঙ্ক বা গর্তগুলো উল্টো দেখায়। অনেক সময় একে উল্টো হয়ে থাকা খরগোশের মতোও মনে হয়।
১০. মহাকাশেও ইয়ো-ইয়ো খেলা যায়
মহাকাশে অভিকর্ষ টের না পেলেও ইয়ো-ইয়ো খেলা যায়। ২০১২ সালে নাসার মহাকাশচারী ডন পেটিট ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশনে ইয়ো-ইয়ো খেলার বিভিন্ন কৌশল দেখিয়েছিলেন। মূলত কৌণিক ভরবেগ সংরক্ষণ সূত্রের কারণেই ওজনহীন অবস্থাতেও দিব্যি ইয়ো-ইয়ো খেলা সম্ভব।




