শিল্পী সমিতির নেতৃত্বে কে আসছে, আরমান-মুক্তি নাকি শিবা শানু-জয়? | চ্যানেল আই অনলাইন

শিল্পী সমিতির নেতৃত্বে কে আসছে, আরমান-মুক্তি নাকি শিবা শানু-জয়? | চ্যানেল আই অনলাইন

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র অঙ্গনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংগঠন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি। সংগঠনটির ২০২৬–২০২৮ মেয়াদের দ্বিবার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে শুক্রবার (৩ জুলাই)। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি) প্রাঙ্গণে সকাল থেকে শুরু হবে ভোটগ্রহণ।

প্রতি দুই বছর পর অনুষ্ঠিত হওয়া এই নির্বাচনকে ঘিরে গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই এফডিসিতে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত প্রচার-প্রচারণা, ভোটারদের সঙ্গে মতবিনিময় এবং নানা প্রতিশ্রুতিতে মুখর ছিল চলচ্চিত্রাঙ্গন।

বুধবার (১ জুলাই) ছিল নির্বাচনী প্রচারণার শেষ দিন। এদিন পৃথকভাবে নিজেদের প্যানেল পরিচিতি অনুষ্ঠান আয়োজন করে প্রতিদ্বন্দ্বী দুই পরিষদ।

দুপুরে বিএফডিসিতে প্যানেল পরিচিতি অনুষ্ঠানের আয়োজন করে শিবা শানু–জয় চৌধুরী পরিষদ। অনুষ্ঠানে সভাপতি পদপ্রার্থী শিবা শানু বলেন, অতীতেও শিল্পীদের পাশে থাকার চেষ্টা করেছেন, ভবিষ্যতেও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চান। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, নির্বাচিত হলে যৌথ প্রযোজনার চলচ্চিত্রে দেশীয় শিল্পীদের কাজের সুযোগ নিশ্চিত করতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

অন্যদিকে রাজধানীর লেডিস ক্লাবে অনুষ্ঠিত হয় আরমান–মুক্তি পরিষদের প্যানেল পরিচিতি অনুষ্ঠান। সেখানে উপস্থিত ছিলেন চলচ্চিত্রের বরেণ্য অভিনেত্রী আনোয়ারা। তিনি ভোটারদের উদ্দেশে পুরো প্যানেলকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এই প্যানেল বিজয়ী হলে চলচ্চিত্র ও শিল্পীদের কল্যাণে কাজ করতে পারবে।

এবারের নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে দুটি প্যানেলের মধ্যে। আরমান–মুক্তি প্যানেল থেকে সভাপতি পদে লড়ছেন ফাইট ডিরেক্টর আরমান এবং সাধারণ সম্পাদক পদে রুমানা ইসলাম মুক্তি। সহ-সভাপতি পদে রয়েছেন নূতন ও ইলিয়াস কোবরা, সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে রিনা খানসহ চলচ্চিত্রাঙ্গনের পরিচিত মুখ।

অন্যদিকে শিবা শানু–জয় চৌধুরী প্যানেলে সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন শিবা শানু এবং সাধারণ সম্পাদক পদে জয় চৌধুরী। অভিজ্ঞ ও নবীন শিল্পীদের সমন্বয়ে গঠিত এই প্যানেলও নির্বাচনী প্রচারণায় ছিল বেশ সক্রিয়।

নির্বাচনের আগে একটি বড় আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে চিত্রনায়ক বাপ্পারাজের সরে দাঁড়ানো। শুরুতে সভাপতি পদে প্রার্থী হওয়ার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান। ফলে নির্বাচনের সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সব প্রস্তুতি শেষে এখন অপেক্ষা শুধু ভোটের। শিল্পীদের রায়ে আগামী দুই বছরের জন্য বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নেতৃত্ব কার হাতে যাচ্ছে; আরমান–মুক্তি পরিষদ, নাকি শিবা শানু–জয় চৌধুরী পরিষদ- তার উত্তর মিলবে ভোট গণনা শেষে।