চাপ ক্রমশ বাড়ছিল। শেষ বাঁশি বাজিয়ে দিয়েছিল শিক্ষার্থীরা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাংশ ছিল দোদুল্যমান অবস্থায়। শেষ রক্ষাকবচ হিসেবে বিবেচিত বাহিনীর বার্তাটি ছিল অত্যন্ত স্পষ্ট: দেশের স্বার্থে তারা জনগণের সাথেই আছে।
তবুও, দিনটি শুরু হয়েছিল অন্য যেকোনো সকালের মতোই। অবশ্য জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ের আগের সেই সকালগুলোর মতো পরিস্থিতি তখন ছিল না- যখন সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার আন্দোলন রক্তক্ষয়ী হয়ে ওঠে এবং পরবর্তীতে এক দফা দাবিতে রূপ নেয়। তারপরও দিনটি আগের দিন বা তার আগের দিনের মতোই হওয়ার কথা ছিল।
শেষ পর্যন্ত তা হয়নি।
চারদিকে ছিল চরম উত্তেজনা ও ঝুঁকি। দেশ-বিদেশে সবাই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিল চূড়ান্ত পরিণতির জন্য। কিন্তু তিনি ভাবেননি যে সেই দিনটিই এসে গেছে।
অন্য দিনগুলোর মতোই ৫ আগস্ট তিনি খুব ভোরে ঘুম থেকে ওঠেন যদিও আগের রাতে অনেক দেরিতে ঘুমিয়েছিলেন। গণভবনের ভেতরের দপ্তরে এক কাপ চা নিয়ে বসেন তিনি। চারপাশে নিরাপত্তা কর্মীরা। ব্যক্তিগত শাখার বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা ততক্ষণে সেখানে পৌঁছে গিয়েছিলেন।
প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবন তখন কঠোর নিরাপত্তাবলয়ে ঘেরা। এলিট ফোর্স এসএসএফ (স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স) ও পিজিআর (প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট)-এর পাশাপাশি বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যরা সেখানে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
দপ্তরে বসে তিনি পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনীর শীর্ষ ও বিশ্বস্ত কর্মকর্তাদের ফোন করতে শুরু করেন। ভোররাতের আগেই কারফিউ জারি করা হয়েছিল। কর্মকর্তারা তাঁকে আশ্বস্ত করেছিলেন যে কারফিউ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রাজধানীর প্রবেশপথগুলো পুরোপুরি বন্ধ রাখার বিষয়েও নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছিল তাকে।
তিনি সকালের নাস্তা সারেন এবং দিনের খাবারের আয়োজন সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। তার আমন্ত্রণে কিংবা স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন, সুশীল সমাজ ও প্রশাসনের শীর্ষস্থানীয় অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির তার সঙ্গে দেখা করার কথা। তাই তাদের আপ্যায়নের ব্যবস্থার নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি। কারণ তিনি জানতেন না এসবের কিছুই আর ঘটবে না।
সকাল ৯টার দিকে গণভবনের বাইরে সাংবাদিকরা গিয়ে দেখেন চারপাশ বেশ শান্ত। আগের দিনগুলোর তুলনায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল দৃশ্যত অনেক জোরদার। তবে আশ্চর্যজনকভাবে যানবাহন চালু ছিল; এমনকি রিকশা ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাও চলতে দেখা যাচ্ছিল গণভবনের চারপাশের রাস্তায়। অথচ আগেরদিনও দৃশ্যটা ছিল ভিন্ন। গণভবন ঘিরে সাধারণ কোনো যানবাহন চলতে দেখা যায়নি তখন।
গণভবন থেকে গাড়িতে মাত্র কয়েক মিনিটের দূরত্বে অবস্থিত ধানমণ্ডি ৩২ নম্বর জাদুঘরের নিরাপত্তাও ছিল অত্যন্ত কড়া। আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের যেসব কর্মী আগের দিন সারা দেশে তাণ্ডব চালিয়েছিল এবং গণভবন থেকে ধানমন্ডি ৩২ পর্যন্ত রাস্তায় পাহারা দিয়েছিল, যাদের অনেকের মাথায়ই ছিল হেলমেট, সেই সকালে তাদের কোথাও দেখা গেল না। মানুষ ভেবেছিল, তারা হয়তো ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই চলে আসবে।
সর্বাত্মক কারফিউ জারি থাকা সত্ত্বেও অনেক অফিসগামী মানুষকে রাস্তায় দেখা যাচ্ছিল। অনির্দিষ্টকালের জন্য আরোপিত এই কারফিউ যারা অমান্য করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোরতম ব্যবস্থা নেওয়া হবে, এমন সতর্কবার্তা আগের রাতেই দিয়ে রেখেছিল ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।
দশ মিনিটে ধানমণ্ডি ৩২ থেকে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ে গিয়ে দেখা যায় জায়গায় যানবাহন আটকে দেওয়া হচ্ছে। সব গাড়িকে ‘সাকুরা বার অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট’-এর পাশের সরু রাস্তা দিয়ে ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছিল।
ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে আগে থেকেই ছিল আর্মার্ড পার্সোনেল ক্যারিয়ার (এপিসি)। সেই সকালে দেখা গেল এপিসিগুলোর মুখ শাহবাগের দিকে তাক করা না। অথচ সেখানেই বিক্ষোভকারীদের জড়ো হওয়ার কথা। এপিসিগুলোর মুখ বরং ছিল বাংলা মোটর মোড়ের দিকে তাক করা। এটি ছিল বেশ অস্বাভাবিক একটি বিষয়।
আরও ১০ মিনিট পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ভেতরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বেশ কিছু মানুষকে দেখা যায়। সেখানে আগেই উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ জড়ো হয়েছিল। আরও অনেকে জড়ো হচ্ছিল নিকটবর্তী চানখারপুল এলাকায়, যেখানে কিছুক্ষণ পরই দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীসহ আরও কয়েকজন নিহত হবে।
এরপর জাতীয় প্রেস ক্লাব এলাকায় গিয়ে দেখা যায় চারপাশ একদম শান্ত। মেট্রো স্টেশনটিও ছিল নিস্তব্ধ, কারণ দুই সপ্তাহ ধরে মেট্রো চলাচল বন্ধ ছিল। আরও সামনে এগিয়ে ডিবি (গোয়েন্দা পুলিশ) সদস্যদের অস্ত্র উঁচিয়ে যানবাহন ও সাধারণ মানুষকে থামিয়ে তল্লাশি চালাতে দেখা যায়; বিশেষ করে যারা ডিএমপি সদর দপ্তরের সামনে দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল।
মন্ত্রী ও সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তাদের আবাসস্থল মিন্টো রোড ও হেয়ার রোডের ‘মন্ত্রীপাড়া’ এলাকাটিও ছিল নীরব। কেবল প্রধান বিচারপতির বাসভবনের বাইরের দেয়ালে রং করার কাজে নিয়োজিত কিছু কর্মীকে দেখা যায়। গত কয়েক দিনে বিক্ষোভকারীরা ওই দেয়ালগুলোতে নানা স্লোগান ও বার্তা লিখেছিল।
সেই সকালে ঢাকার রাস্তাগুলো দিয়ে চলার সময় রাজধানীর সর্বত্রই এ ধরনের দেয়াললিখন চোখে পড়েছিল; যার মূল বিষয়বস্তু ছিল: ‘খুনি হাসিনা’, ‘স্বৈরাচারী হাসিনা’ এবং ‘হাসিনা পদত্যাগ করো’।
ততক্ষণে গণভবনে জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করছিলেন শেখ হাসিনা। বিভিন্ন গোপন সূত্র থেকে পাওয়া খবরে ইঙ্গিত মিলছিল যে, বড় কোনো ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে।
“দিনটি অন্যরকম হতে যাচ্ছে”- গণভবনের ভেতর থেকে এরকমই জানিয়েছিল একটি সূত্র।
আগের দিন তিনি নিরাপত্তা বাহিনীকে সরিয়ে নিজের দলীয় কর্মীদের দিয়ে আন্দোলন দমনের চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু সেই কৌশল হিতে বিপরীত হয়; আন্দোলন আরও জোরদার হয়ে ওঠে এবং উভয় পক্ষের হতাহতের সংখ্যা বেড়ে যায়। একই দিনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ৫ আগস্ট ‘ঢাকা অভিমুখে যাত্রা’র (মার্চ টু ঢাকা) ঘোষণা দেয় যদিও আগে এটি ৬ আগস্টের জন্য নির্ধারিত ছিল।
গণভবন অভিমুখে যাত্রার ঘোষণাও ছিল তাদের। সেই কৌশল কাজে দেয়। চূড়ান্ত হয়ে যায় তার পরিণতি।
দুদিন আগে (৩ আগস্ট) সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের এক বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যেখানে সেনাপ্রধান বলেছিলেন যে সেনাবাহিনী জনগণের পাশে এবং দেশের স্বার্থে কাজ করবে। সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল যে, ২০ জুলাই মোতায়েন করা সেনা সদস্যরা দেশের মানুষের ওপর গুলি চালাবেন না।
ওই একই দিনে (৩ আগস্ট) সর্বস্তরের মানুষ রাস্তায় নেমে আসে, যা একটি গণঅভ্যুত্থানের আসন্ন ইঙ্গিত দিচ্ছিল।
৫ আগস্টে এসে এসব ঘটনার সম্মিলিত প্রভাব দৃশ্যমান হয়।
সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শেখ হাসিনা নিরাপত্তা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের তলব করেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের আকাঙ্ক্ষা থাকায় তারা দ্রুত সেখানে উপস্থিত হন। তারা গোয়েন্দা প্রতিবেদনসহ বৈঠকে যোগ দেন, যেখানে উল্লেখ ছিল যে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বরের মতোই ঢাকার পরিস্থিতি ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। পার্থক্য হলো, সে সময় বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধা ও ভারতীয় সেনাবাহিনীর যৌথ বাহিনী ঢাকায় পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীকে ঘিরে ফেলেছিল; আর এবার সেই অবস্থানে সাধারণ মানুষ।
তিনি নিরাপত্তা বাহিনীকে তাদের ‘ব্যর্থতা’র জন্য তীব্র ভর্ৎসনা করেন এবং জনগণকে প্রতিহত করার নির্দেশ দেন। কিন্তু আরও রক্তপাত এড়াতে বাহিনীগুলো সেই নির্দেশ পালনে অস্বীকৃতি জানায়। দীর্ঘ সময় ধরে ক্ষমতায় থাকা যে নেত্রী একসময় প্রতিকূল পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠেছিলেন, তিনি হয়তো জনগণের শক্তির প্রকৃত রূপ বুঝতে পারেননি; কিন্তু নিরাপত্তা বাহিনী তা ঠিকই বুঝতে পেরেছিল। তারা যুক্তি দেয় যে, এতে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়বে। রক্তগঙ্গা বয়ে যাবে ঠিকই, কিন্তু জনগণকে গণভবন থেকে দূরে রাখার কোনো নিশ্চয়তা থাকবে না। তারা গোয়েন্দা প্রতিবেদন তুলে ধরে জানায় যে, রাজধানীর প্রবেশপথগুলোতে লাখ লাখ মানুষ সমবেত হয়েছে। যাত্রাবাড়ী, সাভার, আশুলিয়া ও উত্তরায় পুলিশ ইতিমধ্যে তাদের অনেককে হত্যা করেছে। কেবল সেই সকালেই নিহতের সংখ্যা ছিল প্রায় ১০০। তখনো ডিএমপি কমান্ড সেন্টার সচল ছিল।
পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে নির্দেশনা পাঠাচ্ছিলেন যাতে মানুষ রাজধানীতে প্রবেশ করতে না পারে। কিন্তু বৈঠকে উপস্থিত তাদের শীর্ষ কর্মকর্তা প্রধানমন্ত্রীকে জানালেন যে, পরিস্থিতি যা দাঁড়িয়েছে তাতে হাতে সময় আছে বড়জোর এক-দু ঘণ্টা, এমনকি সেটা মিনিটের হিসাবেও হতে পারে।
পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে শেখ হাসিনার সামনে কেবল একটিই বিকল্প খোলা ছিল: পদত্যাগ। শুরুতে তিনি রাজি হননি। তিনি কর্মকর্তাদের ভর্ৎসনা করে বলেন যে, তিনিই তাদের গড়ে তুলেছেন এবং আজকের এই উচ্চ অবস্থানে নিয়ে এসেছেন; অথচ এখন তারা সরকার ও ‘রাষ্ট্র’-কে রক্ষা করছেন না।
তার এমন প্রতিক্রিয়ায় হতাশ হয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা গণভবনেরই অন্য একটি কক্ষে তার বোন শেখ রেহানার সঙ্গে কথা বলেন। রেহানা কথা বলেন বোনের সঙ্গে, কিন্তু তিনিও হাসিনাকে রাজি করাতে ব্যর্থ হন।
এরপর যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়কে ফোন করা হয়। শুরুতে তিনি কর্মকর্তাদের ক্ষমতাসীন সরকারকে রক্ষায় তাদের ‘ব্যর্থতা’র কথা উল্লেখ করে সমালোচনা করেন। তবে শেষ পর্যন্ত জয় পরিস্থিতি কতটা খারাপ সেটা অনুধাবন করতে পারেন। এরপর জয় তার মায়ের সঙ্গে কথা বলেন। অবশেষে পদত্যাগে রাজি হন শেখ হাসিনা।
তবে তিনি ধানমন্ডি ৩২ ও গোপালগঞ্জে গিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে চেয়েছিলেন। কর্মকর্তারা নিশ্চিত ছিলেন যে এতে নতুন করে সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। তাদের আশঙ্কা ছিল, গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় পৌঁছানোর পর তিনি হয়তো মত পরিবর্তন করতে পারেন। তাই তারা এতে অসম্মতি জানান।
এরপর হাসিনা জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিতে চাইলেন। তথ্য প্রতিমন্ত্রী, যিনি জয়ের ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং তখনও তার পাশে ছিলেন, তাকে একটি সংক্ষিপ্ত ভাষণ প্রস্তুত করতে বলা হলো। তিনি তার মোবাইল ফোনে খসড়াটি তৈরি করলেন অথবা আগে থেকেই খসড়াটি সঙ্গে ছিল।
কিন্তু কর্মকর্তারা ঢাকা ও শাহবাগ এলাকার জনসমাগম পরিস্থিতি পুনরায় পর্যালোচনা করলেন। তাদের হিসাব অনুযায়ী, জনস্রোত গণভবন থেকে মাত্র ৪৫ মিনিটের দূরত্বে।
তাই, ভাষণ রেকর্ড করার প্রস্তাবটি বাতিল হয়ে গেল। জাতির উদ্দেশে শেষ ভাষণটি আর দেওয়া হলো না তার।
তখনো তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। যোগাযোগ করলেন ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে। তাকে ভারতে নিয়ে যাওয়ার জন্য একটি বিমান পাঠানোর অনুরোধ জানানো হয়। ভারত তাৎক্ষণিকভাবে তাতে সম্মতিও জানায়। কিন্তু শীঘ্রই তারা জানায়, আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া ছাড়া বিমান পাঠানো আন্তর্জাতিক বিধিমালার লঙ্ঘন হবে। এতে তার যাত্রাও বিলম্বিত হতে পারে।
তাই ভিন্ন ব্যবস্থা। শুরু হলো দ্রুত জিনিসপত্র গুছিয়ে নেওয়ার পালা। চারটি স্যুটকেস গোছানো হলো। প্রথমে একটি হেলিকপ্টারে এবং পরে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি পরিবহন বিমানে করে ভারতে যাওয়ার জন্য।
এই যাত্রা ছিল তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের প্রায় পরিসমাপ্তি, যে জীবনের সূচনা হয়েছিল ১৯৮১ সালে ভারতে নির্বাসিত জীবন থেকে দেশে ফেরার মধ্য দিয়ে।
দুপুরের পরপর ভারতের উদ্দেশ্যে রওনা হলেন তিনি।
শীঘ্রই গণভবন ও এর আশপাশের এলাকা থেকে সেনা প্রহরা সরিয়ে নেওয়া হলো। গণভবনে গিয়ে পৌঁছাল সাধারণ মানুষ। আর শেখ হাসিনা, যিনি তখন বাংলাদেশের সদ্য বিদায়ী এবং দীর্ঘতম মেয়াদে দায়িত্ব পালনকারী প্রধানমন্ত্রী, তখন একটি পরিবহন বিমানে আকাশপথে ভারতের পথে।





