নামেই ফাইভ স্টার! বেঙ্গালুরুর হোটেলে মিলল পচা মাংস-দুধ | চ্যানেল আই অনলাইন

নামেই ফাইভ স্টার! বেঙ্গালুরুর হোটেলে মিলল পচা মাংস-দুধ | চ্যানেল আই অনলাইন

ভারতের বেঙ্গালুরুর নামী পাঁচতারা ও তিনতারা হোটেলগুলোতে খাদ্য নিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতা নিয়ে বড় ধরনের অনিয়মের সন্ধান পেয়েছে কর্ণাটকের খাদ্য সুরক্ষা ও ওষুধ প্রশাসন দপ্তর। অভিযানে কয়েকটি হোটেল থেকে বিপুল পরিমাণ পচা ও মেয়াদোত্তীর্ণ মাংস, দুধ, মাছ ও সবজি উদ্ধার করা হয়েছে।

এনডিটিভি জানিয়েছে, শহরের নামী হোটেলগুলো খাদ্য নিরাপত্তার নিয়ম ও পরিচ্ছন্নতা যথাযথভাবে মেনে চলছে কি না, তা যাচাই করতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। কর্ণাটকের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ইউ টি খাদ্যের নির্দেশনায় বেঙ্গালুরু আরবান জেলার ২৬টি তিনতারা ও পাঁচতারা হোটেলে অভিযান চালানো হয়।

এজন্য ৩০টি বিশেষ দল গঠন করা হয়েছিল। খাদ্য সুরক্ষা কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত এসব দল পুরো বিবিএমপি এলাকার বিভিন্ন হোটেল পরিদর্শন করে। অভিযানে ২০০৬ সালের খাদ্য সুরক্ষা ও মানক আইন এবং সংশ্লিষ্ট বিধি মানা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হয়। পরিদর্শনের সময় কয়েকটি হোটেলের রান্নাঘর ও গুদামঘরে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ পাওয়া যায়।

এছাড়া মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যসামগ্রী, পচা মাংস ও দুধ এবং ছত্রাকযুক্ত শাকসবজিও পাওয়া গেছে। কোথাও কোথাও নিরামিষ ও আমিষ খাবার আলাদাভাবে সংরক্ষণের নিয়মও মানা হয়নি। হোটেলগুলোতে এফএসএসএআই এর লেবেলিং বিধি না মানা এবং নকল ব্র্যান্ডের খাদ্যসামগ্রী ব্যবহারের মতো অনিয়মও ধরা পড়েছে।

অভিযানের সময় বিভিন্ন হোটেলের রান্নাঘর থেকে মুরগি ও খাসির মাংস, মাছ, ভোজ্যতেল, দুধ, মশলা, চা পাতা, চিজ, টমেটো সস ও লেবুর রসসহ মোট ৩৫ ধরনের খাদ্যসামগ্রীর নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এসব নমুনা পরীক্ষার জন্য ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষার ফল পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট হোটেলগুলোর বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

অভিযানে দ্য ললিত অশোক (অ্যানেক্স সাউথ) থেকে ৭৬ কেজি মাংস, ২০০ কেজি শাকসবজি ও ৩২ লিটার মেয়াদোত্তীর্ণ দুধ উদ্ধার করা হয়। এসব খাদ্যসামগ্রী পরে নষ্ট করা হয়েছে। সাংরি-লা বেঙ্গালুরু থেকে ১৫ কেজি মাংস এবং ফোর সিজন্স হোটেল বেঙ্গালুরু থেকে ১৯ কেজি মাংস বাজেয়াপ্ত করেন কর্মকর্তারা।

ভিভান্তা বেঙ্গালুরু হোয়াইটফিল্ড থেকে ৩ কেজি মেয়াদোত্তীর্ণ বেকারি পণ্য উদ্ধার করে নষ্ট করা হয়। আর তাজ যশবন্তপুর থেকে ৭২ কেজি মাংস ও মাছ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। সবচেয়ে বেশি মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যসামগ্রী উদ্ধার হয়েছে র‌্যাডিসন ব্লু (দ্য আত্রিয়া) থেকে। হোটেলটি থেকে ১০৫ কেজি খাবার বাজেয়াপ্ত করে নষ্ট করা হয়েছে।

এর মধ্যে ছিল ৫০ কেজি মুরগির মাংস, ২৫ কেজি খাসির মাংস, ২৩ কেজি মাছ এবং ৭ কেজি শাকসবজি। এদিকে অনিয়মের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট হোটেলগুলোকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি উদ্ধার করা অনিরাপদ খাদ্যসামগ্রী বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। কর্ণাটকের খাদ্য সুরক্ষা ও ওষুধ প্রশাসন দপ্তর জানিয়েছে, শহরের সব খাদ্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে খাদ্য নিরাপত্তার নির্ধারিত মান ও স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে।

কর্তৃপক্ষ সতর্ক করে জানিয়েছে, খাদ্য নিরাপত্তার নিয়ম লঙ্ঘনের কোনো ঘটনা সামনে এলে তা বরদাশত করা হবে না। আইন অনুযায়ী দায়ী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।