নিত্যপণ্যের বাড়তি দামে চাপে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। চাল, ডাল, তেল থেকে শুরু করে সবজি, মাছ ও মাংস কোনো পণ্যের দামেই যেন স্বস্তি নেই। সপ্তাহের ব্যবধানে বিভিন্ন নিত্যপণ্যের দাম বাড়ায় বাজার করতে গিয়ে হিসাব মেলাতে পারছেন না অনেক ক্রেতা। ফলে প্রয়োজনীয় পণ্যের তালিকা কাটছাঁট করে কম পরিমাণে কিনতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।
আজ ২৮ আগস্ট শুক্রবার বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় সব ধরনের সবজির দাম বেড়েছে। কয়েক মাস আগে বাড়া গরু ও খাসির মাংসের দাম এখনো অপরিবর্তিত রয়েছে। এর পাশাপাশি ডজনপ্রতি ডিমের দাম বেড়েছে ৫ টাকা। পেঁয়াজ ও আলুর দামও কেজিতে ৩ থেকে ৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। দাম বাড়ার প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের মানুষের সংসারে।
মাসের শুরুতে প্রয়োজনীয় পণ্যের দীর্ঘ তালিকা নিয়ে বাজারে গেলেও এখন অনেকেই সেই তালিকা ছোট করছেন। এক কেজি পণ্য কেনার সামর্থ্য না থাকায় কেউ কেউ কিনছেন মাত্র ২৫০ গ্রাম। প্রয়োজন ও সামর্থ্যের এই টানাপোড়েনে অনেক পরিবারকে মৌলিক চাহিদার সঙ্গেও আপস করতে হচ্ছে।
ক্রেতারা বলছেন, আয় বাড়ছে না, অথচ প্রতিনিয়ত বাড়ছে বাজার খরচ। ফলে পরিবারের প্রয়োজনীয় অনেক পণ্যই বাদ দিতে হচ্ছে। বিশেষ করে মাছ-মাংসের মতো খাবার এখন অনেক পরিবারের নিয়মিত খাদ্যতালিকা থেকে ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে।
একজন ক্রেতা জানান, ছেলে-মেয়ের পাঠানো অর্থেই তার সংসার চলে। প্রতিদিনের বাজার খরচ সামলাতে গিয়ে তাকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। প্রয়োজনীয় অনেক পণ্য ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও কিনতে পারছেন না।
ক্রেতাদের অভিযোগ, বাজারে পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে কার্যকর নজরদারি না থাকায় ব্যবসায়ীরা ইচ্ছেমতো দাম বাড়ানোর সুযোগ পাচ্ছেন। তাদের দাবি, বাজার ব্যবস্থাপনায় কঠোর মনিটরিং জোরদার করা হলে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।

