ফুটবলের এক মহাকাব্য— মেসি (পর্ব ৪)

(লিওনেল মেসি বিশ্বের কোটি অনুরাগীর হৃদয় ভেঙে আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন। দীর্ঘ সময়ের অপার এক বিস্ময় তিনি। মাঠে শুধু সাফল্য-শিহরণ নয়, অপ্রাপ্তিও আছে তার। মেসিকে নিয়ে চ্যানেল আই অনলাইনে ৬ পর্বের বিশেষ লেখায় সেসব গল্পই তুলে আনছেন ফুটবল লেখক-বিশ্লেষক জাহিদ রহমান। আজ থাকছে চতুর্থ পর্ব)
লিওনেল মেসি আর কোন আন্তর্জাতিক ফুটবল ম্যাচ খেলবেন না। দীর্ঘ ক্যারিয়ারের ইতি টেনেছেন। এখন শুধুই বাকি আনুষ্ঠানিকতা। মেসির দীর্ঘ ফুটবল জীবনে গোল অনেকটাই সমার্থক। মেসি মাঠে থাকবেন কিন্তু গোল হবে না, এটা কেমন কথা! তার নান্দনিক সব গোল দেখার জন্য লক্ষ-কোটি চোখ কত যে বিনিদ্র রজনী কাটিয়েছে তার শেষ নেই। মেসির গোল মানেই আবেগ আর ইতিহাসের এক গল্প। একথা সত্য যে, আন্তর্জাতিক ফুটবলে গোল শুধু একটি সংখ্যার হিসাব নয়, কখনও কখনও তা হয়ে ওঠে একটি জাতির স্বপ্ন, অপেক্ষার সম্মিলন।
লিওনেল মেসির ক্ষেত্রে সেই গল্প আরও গভীর আরও প্রাণময়। আর্জেন্টিনার নীল-সাদা জার্সি গায়ে এই ফুটবল জাদুকর দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে লিখে গেছেন এক অনন্য গোলকাব্য। অভিষেকের পর অপেক্ষা, হতাশা আর সমালোচনার নানান পথ পেরিয়ে মেসি ধীরে ধীরে হয়ে ওঠেন আর্জেন্টিনার ইতিহাসের অন্যতম নির্ভরযোগ্য গোলদাতা। যার প্রতিটি গোল আর্জেন্টিনা এবং আর্জেন্টিনার ভক্তদের উদ্বেলিত এবং ভীষণ আনন্দমুখর করেছে। মেসির একটি গোলেই দুনিয়াজুড়ে তোলপাড় হয়েছে। বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসে উপচে পড়েছে গোটা স্টেডিয়াম। দেশের পক্ষে মেসির যে গোলসংখ্যা, সেই রেকর্ড ভাঙতে আগামী ১০০ বছরে আর্জেন্টিনাতে আদৌ কেউ জন্ম নেবে কিনা সন্দেহ রয়েছে। বিশ্বকাপ, কোপা আমেরিকা কিংবা প্রীতিম্যাচ, মেসির গোল এসেছে নানা মঞ্চে, নানা মুহূর্তে। কখনও দুরন্ত ফ্রি-কিক, কখনও নিখুঁত বাঁ-পায়ের ক্ল্যাসিক শট, কখনও একাধিক প্রতিপক্ষকে কাটিয়ে ছবির মতো করা গোল! এরকম আর কত গোল। তার করা প্রতিটি গোলেই যেন ফুটে উঠেছে তার ফুটবল প্রতিভার অনন্য রূপ। তার করা বহু বৈচিত্র্যময় গোল নিয়ে ফুটবলমোদীদের স্মৃতিকাতর হতে হবে অনেক অনেকদিন।
আন্তর্জাতিক ম্যাচে মেসির মোট গোলসংখ্যা ১২৫। একইসাথে ৬০টি গোল করতে সতীর্থদের তিনি অ্যাসিস্ট বা সহায়তা করেছেন। এজন্য তাকে খেলতে হয়েছে ২০৭টি ম্যাচ। পরিসংখ্যান মোতাবেক ফুটবল ইতিহাসে এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোল। ১৪৬ গোল করে মেসির উপরে রয়েছেন পর্তুগালের ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। ১০৮ গোল করে তৃতীয় অবস্থানে আছেন ইরানের আলী দায়েই।
মোট ৪৪টি দেশের বিপক্ষে খেলে ১২৫টি গোল করেছেন মেসি। পরিসংখ্যান মতে তিনি বলিভিয়ার বিপক্ষে ১১টি, ইকুয়েডরের বিপক্ষে ৭টি, ভেনেজুয়েলার বিপক্ষে ৭টি, উরুগুয়ের বিপক্ষে ৬টি, আলজেরিয়ার বিপক্ষে ৫টি, ব্রাজিলের বিপক্ষে ৫টি, চিলির বিপক্ষে ৫টি, এস্তোনিয়ার বিপক্ষে ৫টি, গুয়েতামালার বিপক্ষে ৫টি, প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ৫টি, মেক্সিকোর বিপক্ষে ৪টি, পানামার বিপক্ষে ৪টি, কলম্বিয়ার বিপক্ষে ৩টি, ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ৩টি, কুরাসাও-এর বিপক্ষে ৩টি, নাইজেরিয়ার বিপক্ষে ৩টি, হাইতির বিপক্ষে ৩টি, ফ্রান্সের বিপক্ষে ৩টি, সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ৩টি, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২টি, হন্ডুরাসের বিপক্ষে ২টি, হংকংয়ের বিপক্ষে ২টি, জ্যামাইকার বিপক্ষে ২টি, স্পেনের বিপক্ষে ২টি করে গোল করেছেন।
এছাড়া মিশরের বিপক্ষে ১টি, কেপ ভার্দের বিপক্ষে ১টি, জর্ডানের বিপক্ষে ১টি, আইসল্যান্ডের বিপক্ষে ১টি, আলবেনিয়ার বিপক্ষে ১টি, অ্যাঙ্গোলার বিপক্ষে ১টি, বসনিয়া হার্জেগোভিনার বিপক্ষে ১টি, কানাডার বিপক্ষে ১টি, ইরানের বিপক্ষে ১টি, জার্মানির বিপক্ষে ১টি, নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ১টি, পর্তুগালের বিপক্ষে ১টি, যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ১টি, আরব আমীরাতের বিপক্ষে ১টি, সৌদি আরবের বিপক্ষে ১টি, সার্বিয়া মন্টেনেগ্রোর বিপক্ষে ১টি এবং জাম্বিয়ার বিপক্ষে ১টি করে গোল করেছেন।
প্রতিযোগিতার বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে মেসি ৬১টি প্রীতিম্যাচে অংশ নিয়ে গোল করেছেন মোট ৫৪টি, কোপা আমেরিকা প্রতিযোগিতার ৩৯টি ম্যাচে অংশ নিয়ে গোল করতে সক্ষম হয়েছেন ১৪টি, বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ৭২টি ম্যাচে অংশ নিয়ে গোল করেছেন ৩৬টি। এছাড়া বিশ্বকাপ ফুটবলের ৩৪টি ম্যাচে অংশ নিয়ে গোল করেছেন মোট ২১টি। কেবল ফিনালিস্সিমাতে অংশ নিয়ে তিনি কোন গোল করতে পারেননি।
বিশ্বকাপ ফুটবলে মেসি প্রথম গোলটি করেন ২০০৬ সালের ১৬ জুন, সার্বিয়া মন্টেনেগ্রোর বিপক্ষে। তখন মেসির বয়স ছিল মাত্র ১৮ বছর। আন্তর্জাতিক ম্যাচে মেসি মোট ১১টি হ্যাটট্রিক করার কৃতিত্ব দেখিয়েছেন। হ্যাটট্রিক করেছেন সুইজারল্যান্ড (২৯ ফেব্রুয়ারি ২০১২), ব্রাজিল (৯ জুন ২০১২), গুয়েতেমালা (১৪ জুন ২০১৩), পানামা (১০ জুন ২০১৬), (ইকুয়েডর ৯ অক্টোবর ২০১৭), হাইতি (২৯ মে ২০১৮), বলিভিয়া (৯ সেপ্টেম্বর ২০২১), এস্তোনিয়া (৫ জুন ২০২২), কুরাসাও (২৮ মার্চ ২০২৩) এবং বলিভিয়া (১৫ অক্টোবর ২০২৪) এবং আলজেরিয়া (১৬ জুন ২০২৬)-এর বিপক্ষে। বিশ্বকাপে মেসির একমাত্র হ্যাটট্রিক হয় এবারের বিশ্বকাপে আলজেরিয়ার বিপক্ষে এবং বেশি বয়সের ফুটবলার হিসেবে হ্যাটট্রিক করে তিনি রেকর্ড গড়েন।
আন্তর্জাতিক ম্যাচে মেসির অভিষেক ঘটেছিল ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট, হাঙ্গেরির বিপক্ষে। সে ম্যাচে আর্জেন্টিনা ২-১ গোলে জয়লাভ করলেও মেসি ছিলেন গোলবঞ্চিত। অবশ্য এরপর আরও চার ম্যাচ তাকে গোলবঞ্চিত হতে হয়েছিল। অবশেষে ৬ নম্বর ম্যাচে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে তিনি প্রথম গোল পান। ক্রোয়েশিয়ার সাথে এই প্রীতি ম্যাচটি ২০০৬ সালের ১ মার্চ অনুষ্ঠিত হয়, সুইজারল্যান্ডের সেন্ট জ্যাকব পার্ক স্টেডিয়ামে। খেলায় আর্জেন্টিনা ৩-২ গোলের ব্যবধানে পরাজিত হলেও ১৯ নম্বর জার্সি গায়ে মেসি উদ্ভাসিত হন অন্যভাবে। প্রথমে সতীর্থ তেভেজের দেয়া গোলে অ্যাসিস্ট করেন তিনি। এরপর তিনি দ্বিতীয় গোলটি করেন যথারীতি রাইট উইং থেকে বল নিয়ে ডি-বক্সের সামনে থেকে নিজস্ব স্টাইলে। এদিকে আর্জেন্টিনা দলের অধিনায়ক হিসেবে তিনি প্রথম আবির্ভূত হন ২০১১ সালে, কলকাতার মাঠে। কলকাতার সল্ট লেকে ভেনেজুয়েলার সাথে একটি প্রদর্শনী ম্যাচ হয় আর্জেন্টিনার। সেই ম্যাচে প্রথম নেতৃত্ব দেন মেসি।
বিশ্বকাপ ফুটবলে মেসির মোট গোল ২১টি, যা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। ২২টি গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতা ফ্রান্সের কাইলিয়ান এমবাপে। মেসি মোট ৬টি বিশ্বকাপে খেলার গৌরব অর্জন করেছেন। ২০০৬ সাল থেকে টানা ২০২৬ সাল পর্যন্ত খেলেছেন। বিগত পাঁচবারের বিশ্বকাপ ফুটবলে মেসির পা থেকে এসেছে মোট ১৩টি গোল। আর এই বিশ্বকাপে গোল এসেছে ৮টি। বিশ্বকাপ মঞ্চে ৩৯ বছর বয়সে ৮টি গোল করাও এক অনন্য রেকর্ড।
বিশ্বকাপ ফুটবলে মেসির প্রথম গোলটি আসে ২০০৬ সালে, জার্মানিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের গ্রুপপর্বে সার্বিয়া ও মন্টেনেগ্রোর বিপক্ষে। এই বিশ্বকাপে গ্রুপ ‘সি’তে ছিল আর্জেন্টিনা। গ্রুপে অন্য প্রতিপক্ষ ছিল নেদারল্যান্ডস, আইভরি কোস্ট, সার্বিয়া ও মন্টেনেগ্রো। ২০০৬ সালের ১৬ জুন, গ্রুপের দ্বিতীয় ম্যাচে আর্জেন্টিনা সার্বিয়ার বিপক্ষে ৬-০ গোলে জয়লাভ করে। আর্জেন্টিনার রদ্রিগেজ, ক্যামবিয়াসো, ক্রেসপো, তেভেজের সাথে তরুণ মেসিও গোল করেন। ৮৮তম মিনিটে বিশ্বকাপে নিজের অভিষেক ম্যাচে আর্জেন্টিনার হয়ে শেষ গোলটি করেন তিনি। এই বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে জার্মানির কাছে পেনাল্টি শুটআউটে পরাজিত হয় আর্জেন্টিনা। পরের বিশ্বকাপ ২০১০ সালে সাউথ আফ্রিকাতে অনুষ্ঠিত হয়। এই বিশ্বকাপে গ্রুপ ‘বি’তে ছিল আর্জেন্টিনা। আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ ছিল সাউথ কোরিয়া, গ্রিস এবং নাইজেরিয়া। আর্জেন্টিনা গ্রুপ চ্যাস্পিয়ন হয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডে ওঠে। দ্বিতীয় রাউন্ডে মেক্সিকোকে ৩-১ গোলে হারাতে পারলেও কোয়ার্টার ফাইনালে জামার্নির কাছে ৪-০ গোলে পরাজিত হতে হয়। এই বিশ্বকাপে মেসি গোল করতে ব্যর্থ হন।
২০১৪ সালে ব্রাজিলে বিশতম বিশ্বকাপের আসর বসে। এই বিশ্বকাপে ফাইনালে জার্মানির কাছে দুর্ভাগ্যজনকভাবে ১-০ গোলে হেরে চ্যাম্পিয়ন হওয়া থেকে বঞ্চিত হয় আর্জেন্টিনা। গ্রুপ ‘এফ’তে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ ছিল নাইজেরিয়া, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা এবং ইরান। আজেন্টিনা গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডে ওঠে। ১৫ জুন গ্রুপের প্রথম ম্যাচেই আর্জেন্টিনা বসনিয়া-হার্জেগোভিনার বিপক্ষে ২-১ গোলে জয়লাভ করে। খেলার ৬৫তম মিনিটে দীর্ঘ গোলখরা ভেঙে আর্জেন্টিনার পক্ষে দ্বিতীয় গোলটি করেন মেসি। ২১ জুন আবার গোলের দেখা পান তিনি। ইরানের সাথে গ্রুপ ম্যাচে ৯১তম মিনিট জয়সূচক গোলটি করেন মেসি। এরপর ২৫ জুন আর্জেন্টিনা ও নাইজেরিয়া মধ্যে এক দুর্দান্ত ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। দম আটকে যাওয়া সেই ম্যাচে আর্জেন্টিনা ৩-২ গোলে জয়লাভ করে। ম্যাচের প্রথম গালটি করেন মেসি। ৪৫ মিনিটে দ্বিতীয় গোলটিও করেন। এই বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা ফাইনালে উঠলেও মেসি আর কোন গোল পাননি। এই বিশ্বকাপে মেসির মোট গোল ছিল ৪টি।
২০১৮ সালে রাশিয়াতে বিশ্বকাপ ফুটবল অনুষ্ঠিত হয়। এই বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা গ্রুপে প্রতিপক্ষ হিসেবে পায় আইসল্যান্ড, নাইজেরিয়া এবং ক্রোয়েশিয়াকে। ১৬ জুন অনুষ্ঠিত গ্রুপের প্রথম ম্যাচে আইসল্যান্ডের বিপক্ষে পেনাল্টি মিস করেন মেসি। এই ম্যাচ ১-১ গোলে ড্র হয়। তবে ২৬ জুন দ্বিতীয় ম্যাচে মেসি গোল করেন শক্তিশালী নাইজেরিয়ার বিপক্ষে। ৪৫ মিনিটের সময় দুর্দান্ত এক গোল উপহার দেন তিনি। এ ম্যাচে ২-১ গোলে জয়ী হয় আর্জেন্টিনা। এই বিশ্বকাপে দ্বিতীয় রাউন্ডের খেলা থেকেই আর্জেন্টিনা বাদ পড়ার কারণে মেসিকে এক বুক দুঃখ নিয়ে বিশ্বকাপ ফুটবলকে বিদায় জানাতে হয়।
২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপে মেসি ছিলেন সবচেয়ে সফল এবং উজ্জ্বল। গৌরবের মুকুট পরেন এই বিশ্বকাপেই। সেসময় ৩৫ বছর বয়সী মেসি বিপুল প্রত্যাশা নিয়ে কাতারে অনুষ্ঠিত ২০২২ ফিফা বিশ্বকাপে অংশ নেন এবং দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের মাধ্যমে সব প্রত্যাশার প্রতিদান দেন। মেসি সাত ম্যাচে সাতটি গোল করেন। যদিও ফ্রান্সের কাইলিয়ান এমবাপের গোলসংখ্যার চেয়ে একটি গোল কম করায় গোল্ডেন বুট জিততে পারেননি, তবুও তার অসাধারণ পারফরম্যান্স আর্জেন্টিনাকে ৩৬ বছর পর ঐতিহাসিক তৃতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা এনে দেয়। ফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে মেসি দুটি গোল করেন। এছাড়া এই টুর্নামেন্টে তিনি নকআউট পর্বের চারটি ধাপেই (শেষ ১৬, কোয়ার্টার ফাইনাল, সেমিফাইনাল ও ফাইনাল) গোল করার বিরল কীর্তি গড়েন, যা এরআগে বিশ্বকাপের ইতিহাসে কোন খেলোয়াড় করতে পারেননি। প্রতিটি ম্যাচেই তার গোল করার অদম্য ক্ষমতা বিশ্বকাপ মঞ্চকে বড় বেশি মহিমান্বিত করেছিল।
এবারের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা মোট গোল করে ১৮টি। এর মধ্যে লিওনেল মেসি ১টি হ্যাটট্রিকসহ মোট ৮টি গোল করেন। গ্রুপ স্টেজে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ ছিল আলজেরিয়া, অস্ট্রিয়া এবং জর্ডান। ১৬ জুন প্রথম ম্যাচেই মেসির হ্যাটট্রিকে ৩-০ গোলে জয়লাভ করে আর্জেন্টিনা। ২২ জুন পরের ম্যাচে অস্ট্রিয়া ২-০ গোলে আর্জেন্টিনার কাছে পরাজিত হয়। দুটি গোলই করেন মেসি। ২৭ জুন আর্জেন্টিনা ৩-১ গোলে জয়লাভ করে। এই ম্যাচে মেসি একটি গোল করেন। রাউন্ড অব বত্রিশে কেপ ভার্দের বিপক্ষে আর্জেন্টিনা ৩-২ গোলে জয়লাভ করে। দুর্দান্ত এই ম্যাচে ২৯ মিনিটের সময় মেসি প্রথম গোলের সূচনা করেন। ৭ জুলাই রাউন্ড ষোলোতে মিশরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনা ৩-২ গোলে জয়লাভ করে। মেসি ৮৩ মিনিটের সময় দলের পক্ষে দ্বিতীয় গোল করেন। ১১ জুলাই কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ৩-১ গোলে জয়লাভ করে। এই ম্যাচে মেসি গোল করতে ব্যর্থ হন। এরপর সেমিফাইনাল, ফাইনালেও মেসির পা থেকে আর গোল আসেনি।
আন্তর্জাতিক ম্যাচে মেসির শেষ গোলটি মিশরের বিপক্ষে। আটলান্টা স্টেডিয়ামে ৮৩ মিনিটের সময় ডি-বক্সের মধ্যে ডান পাশ থেকে বাঁ-পায়ের দুর্দান্ত এক শটে গোল করে খেলায় সমতা আনেন। অতিরিক্ত সময়ে এনজো ফের্নান্দেজ গোল করলে ৩-২এ মিশরকে পরাজিত করে আর্জেন্টিনা।
প্রতিবেদক
জাহিদ রহমান
বাংলাদেশ ও বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ খবর, মানুষের গল্প এবং যাচাইকৃত তথ্য পাঠকের কাছে পৌঁছে দেয় চ্যানেল আই অনলাইন।
আরও পড়ুন
পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…

