
মার্কিন কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআইয়ের প্রায় ৩৮ হাজার কর্মী ও চাকরিপ্রার্থীর সংবেদনশীল তথ্য চুরির দাবি করেছে হ্যাকার গোষ্ঠী শাইনি হান্টার্স। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে এফবিআই।
হ্যাকারদের দাবি, তারা এফবিআইয়ের বর্তমান ও সাবেক কর্মী এবং সংস্থাটিতে চাকরির জন্য আবেদন করা ব্যক্তিদের তথ্য হাতিয়ে নিয়েছে। এসব তথ্যের মধ্যে নাম, পদ, ব্যাজ নম্বর, বাসার ঠিকানা, ফোন নম্বর এবং স্বামী বা স্ত্রীর তথ্য রয়েছে বলে দাবি করেছে তারা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে এফবিআই জানিয়েছে, তারা হ্যাকারদের এই দাবি সম্পর্কে অবগত এবং বিষয়টি সক্রিয়ভাবে ও কঠোরভাবে তদন্ত করছে।
শাইনি হান্টার্সের দাবি, সোমবার রাতে তারা এফবিআইয়ের সার্ভারে ঢুকে তথ্য চুরি করে। মঙ্গলবার থেকে তারা বিভিন্ন সাংবাদিকের সঙ্গে যোগাযোগ করে চুরি করা তথ্যের নমুনা ও স্ক্রিনশট পাঠাতে শুরু করে।
রয়টার্স জানিয়েছে, ফাঁস হওয়া তথ্যের কিছু অংশে এফবিআই কর্মকর্তাদের দায়িত্ব ও কর্মক্ষেত্রের বিবরণ রয়েছে। এর মধ্যে চীনা গুপ্তচর, রুশ গোয়েন্দা সংস্থা এবং মাদক চক্রবিরোধী কার্যক্রমের মতো সংবেদনশীল কাজের তথ্যও রয়েছে বলে জানা গেছে।
শাইনি হান্টার্স নিজেদের আন্তর্জাতিক একটি হ্যাকার গোষ্ঠী হিসেবে পরিচয় দেয়। তাদের দাবি, এফবিআই যে ওরাকল ক্লাউড স্টোরেজ ব্যবস্থা ব্যবহার করে সেখানে একটি দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে তারা সংস্থাটির একাধিক সিস্টেমে প্রবেশ করেছে। এসব সিস্টেমের মধ্যে এফবিআইয়ের অফিসিয়াল প্ল্যাটফর্ম FBIJOBS, কর্মী ও চাকরিপ্রার্থীদের ব্যাকগ্রাউন্ড যাচাইয়ের ব্যবস্থা FBI BEAST, এজেন্টদের চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণকারী FBI MedLink এবং তদন্তসংক্রান্ত তথ্যের FBI BICS রয়েছে বলে দাবি করেছে তারা।
তবে এফবিআই বলছে, হ্যাকাররা সরাসরি তাদের সিস্টেমে ঢুকেছে, নাকি সংস্থার কোনো তৃতীয় পক্ষের সেবা প্রদানকারীর মাধ্যমে তথ্য পেয়েছে, তা এখনও নিশ্চিত নয়। সংস্থাটি FBIJobs.gov-কে সহায়তা দেওয়া তৃতীয় পক্ষের প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে কাজ করছে বলেও জানিয়েছে।
হ্যাকাররা বলেছে, অর্থ আদায়ের জন্য তারা এফবিআইয়ের সিস্টেমে হামলা চালায়নি। বরং গত মে মাসে শাইনি হান্টার্সকে নিয়ে এফবিআইয়ের প্রকাশিত একটি সতর্কবার্তা প্রত্যাহার বা সংশোধনের দাবি জানিয়েছে তারা। এক সপ্তাহের মধ্যে এফবিআইকে ওই বক্তব্য সংশোধন বা সরিয়ে নিতে সময় দিয়েছে গোষ্ঠীটি। তা না হলে চুরি করা পুরো ডেটাবেস প্রকাশের হুমকি দিয়েছে তারা।
এফবিআইয়ের ওই সতর্কবার্তায় শাইনি হান্টার্সকে থ্রেট অ্যাক্টর হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। সংস্থাটি বলেছিল, গোষ্ঠীটি অর্থ আদায়ের উদ্দেশ্যে সংবেদনশীল বা ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার দাবি করে থাকে এবং প্রযুক্তি, আর্থিক ও খুচরা ব্যবসা খাতের বড় প্রতিষ্ঠানগুলোকে লক্ষ্য করে।
সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ উইলিয়াম রাইট বলেন, এটি প্রতিশোধমূলক হামলা হতে পারে। আর সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান হান্ট্রেসের অ্যান্ড্রু ব্র্যান্ডট বলেন, সরকারি একটি সংস্থাকে এভাবে হুমকি দেওয়ার অর্থ হলো গোষ্ঠীটি নিজেদের গ্রেপ্তার হওয়ার ঝুঁকি নিয়ে বেশ আত্মবিশ্বাসী।
প্রতিবেদক
চ্যানেল আই অনলাইন
চ্যানেল আই অনলাইন
আরও পড়ুন
পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…

