
চালকদের স্বাস্থ্য, সক্ষমতা ও দৃষ্টিশক্তি সড়ক নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত বলে মন্তব্য করেছেন রেলপথ এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ। তিনি বলেছেন, নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে চালকদের নিয়মিত চক্ষু পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা জরুরি।
আজ বৃহস্পতিবার বিশ্ব দৃষ্টি দিবস উপলক্ষে রাজধানীর ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ) ভবনে চালকদের জন্য বিশেষ দৃষ্টি পরীক্ষা ও বিনামূল্যে চশমা বিতরণ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে চালকদের নিয়মিত দৃষ্টি পরীক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন রেলপথ এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ।
বিশ্ব দৃষ্টি দিবস ২০২৬ উপলক্ষে রাজধানীর ডিটিসিএ ভবনে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ) ও ভিশনস্প্রিং বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে চালকদের জন্য বিশেষ দৃষ্টি পরীক্ষা ও বিনামূল্যে চশমা বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের আওতাধীন বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের প্রায় ২০০ জন চালক অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ বলেন, নিরাপদ সড়ক শুধু উন্নত অবকাঠামো বা কার্যকর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার ওপর নির্ভর করে না। এর সঙ্গে চালকদের স্বাস্থ্য, সক্ষমতা ও দৃষ্টিশক্তিও সরাসরি সম্পৃক্ত।
তিনি বলেন, চালকদের নিয়মিত চক্ষু পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সড়ক নিরাপত্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আজকের এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত পরিসরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের গাড়িচালকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া চালকদের দৃষ্টি পরীক্ষা করা হয়। যাদের দৃষ্টি সংশোধনের প্রয়োজন, তাদের বিনামূল্যে চশমা দেওয়া হয়। পর্যায়ক্রমে মোট এক হাজার চালককে এই সেবার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক। সভাপতিত্ব করেন ডিটিসিএর নির্বাহী পরিচালক (সচিব) মোহাম্মদ মসিউর রহমান।
ডিটিসিএর নির্বাহী পরিচালক বলেন, সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অবকাঠামো উন্নয়ন, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। পেশাদার চালকদের সুস্থতা এবং বিশেষ করে সুস্পষ্ট দৃষ্টিশক্তি নিরাপদ যান চলাচল ও দুর্ঘটনা প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তিনি বলেন, ভিশনস্প্রিংয়ের সঙ্গে এই যৌথ উদ্যোগ চালকদের সক্ষমতা নিশ্চিত করা এবং প্রতিরোধমূলক সড়ক নিরাপত্তা কার্যক্রম জোরদারে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। ভবিষ্যতেও সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনকে সঙ্গে নিয়ে নিরাপদ সড়ক ও নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে কাজ করবে ডিটিসিএ।
ভিশনস্প্রিং বাংলাদেশের প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ শাহরোজ জলিল জানান, গত এক বছরে বাংলাদেশে ৩০ হাজারের বেশি চালক ও পরিবহন খাতের কর্মীর দৃষ্টি পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে দৃষ্টি সংশোধনের প্রয়োজন ছিল এমন ২৪ হাজারের বেশি ব্যক্তিকে চশমা দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, এই কার্যক্রমে ডিটিসিএ, বিআরটিসি, বিআরটিএসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সহযোগিতা করেছে। চালক ও পরিবহনকর্মীদের জন্য সহজলভ্য দৃষ্টি সেবা নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রতিবেদক
চ্যানেল আই অনলাইন
চ্যানেল আই অনলাইন
আরও পড়ুন
পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…


