
ফিফা আসিয়ান কাপে বাংলাদেশের শুরুটা ভালো হয়নি। উদ্বোধনী ম্যাচে মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ৩-০ গোলে হেরেছে লাল-সবুজের দল। ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায় ম্যাচজুড়ে প্রতিপক্ষের চেয়ে পিছিয়ে থাকা বাংলাদেশ প্রথমার্ধেই দুই গোল হজম করে। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে আরও এক গোল করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নেয় মালয়েশিয়া।
ম্যাচ শেষে বাংলাদেশের প্রধান কোচ থমাস ডুলি অবশ্য খেলোয়াড়দের কাঠগড়ায় দাঁড় করাননি। বরং টেকনিক্যাল ও ট্যাকটিক্যাল পার্থক্যের পাশাপাশি দীর্ঘদিন প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলের বাইরে থাকার বিষয়টিকেও হারের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন তিনি।
বলেছেন, ‘স্পষ্টতই আজ আমরা যে স্বপ্নের আশা করেছিলাম এটা সেরকম কিছু ছিল না, তবে এটি ছিল একটি বাস্তবসম্মত ম্যাচ। আমরা দেখতে পেলাম যে আমাদের এবং তাদের (মালয়েশিয়া) মধ্যে মূল পার্থক্যটা হলো অ্যাকুরেসি (সঠিকতা), টেকনিক্যাল এবং ট্যাকটিক্যাল জায়গায়।’
ফিফা র্যাঙ্কিংয়েও দুই দলের ব্যবধান বেশ বড়। বাংলাদেশ যেখানে ১৮১তম, সেখানে ৪৫ ধাপ এগিয়ে মালয়েশিয়া। মাঠের পারফরম্যান্সেও সেই পার্থক্যের ছাপ দেখা গেছে।
শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে শুরু থেকেই রক্ষণাত্মক কৌশলে খেলেছে বাংলাদেশ। কিন্তু সেই কৌশলও কাজে আসেনি। ১৮ মিনিটে রক্ষণভাগের ভুলে প্রথম গোল হজম করে দল। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগেই ডিফেন্ডার শাকিল আহাদ তপুর ভুলে ব্যবধান দ্বিগুণ করে মালয়েশিয়া। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে তৃতীয় গোলটি হওয়ার পর ম্যাচ থেকে কার্যত ছিটকে যায় বাংলাদেশ।
সমর্থকদের প্রত্যাশা ছিল, জয় না এলেও অন্তত ভালো ফুটবল উপহার দেবে দল। কিন্তু সেটিও হয়নি। তারপরও খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স নিয়ে কঠোর হতে চাননি ডুলি।
বলেছেন, ‘সামগ্রিকভাবে খেলোয়াড়দের নিয়ে আমি সন্তুষ্ট। তবে আমি এই টুর্নামেন্টে মালয়েশিয়াকে ২-০ বা ৩-০ গোলে হারিয়ে দেব, এমন প্রত্যাশা করি না। আমরা এমন একটি দলের বিরুদ্ধে খেলেছি যারা আমাদের চেয়ে অনেক এগিয়ে, এবং খেলাটাই এমন। তাদের এবং আমাদের মধ্যকার পার্থক্যটা আজকের ম্যাচে আপনারা দেখতেই পেয়েছেন। সুতরাং খেলোয়াড়দের খারাপ পারফরম্যান্স নিয়ে আমার কিছু বলার নেই। তারা সবাই চেষ্টা করেছে।’
ম্যাচের শেষ দিকে বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের শারীরিক ক্লান্তিও স্পষ্ট ছিল। এই ক্লান্তির পেছনে দীর্ঘদিন লিগ না থাকাকে বড় কারণ হিসেবে দেখছেন ডুলি। সান মারিনোর বিপক্ষে শেষ ম্যাচের পর থেকে বাংলাদেশের খেলোয়াড়েরা নিয়মিত প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে ছিলেন না। বিপরীতে মালয়েশিয়ার খেলোয়াড়েরা নিয়মিত ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে মাঠে নামছেন।
ডুলি বলেছেন, ‘দলের কিছু খেলোয়াড়, আপনারা তো বাংলাদেশের মানুষ, হয়তো জানেনই যে সান মারিনোর বিপক্ষে শেষ ম্যাচের পর থেকে তারা অনুশীলনের মধ্যেই ছিল না। সুতরাং আপনি যদি কোনো লিগে খেলার মধ্যে না থাকেন এবং এমন এক মালয়েশিয়ার বিপক্ষে খেলেন যাদের খেলোয়াড়েরা লিগ ও জাতীয় দলে নিয়মিত খেলছে, তবে কাজটা নিশ্চিতভাবেই খুব কঠিন। তাই সামগ্রিকভাবে ম্যাচটি নিয়ে আমার আপত্তি নেই, আমরা এখানে শিখতেই এসেছি।’
মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ভুলগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে এখন পরের ম্যাচের প্রস্তুতি নিতে চান ডুলি। আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। সেই ম্যাচের আগে প্রথম ম্যাচের ভুলগুলো শুধরে নেওয়াই এখন দলের প্রধান লক্ষ্য।
প্রতিবেদক
চ্যানেল আই অনলাইন
চ্যানেল আই অনলাইন
আরও পড়ুন
পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…

