গত বিশ্বকাপে ব্রাজিল ছিল গ্রুপ ‘জি’তে। প্রতিপক্ষ ছিল সুইজারল্যান্ড, ক্যামেরুন এবং সার্বিয়া। গ্রুপ লড়াইয়ে সুইজারল্যান্ড এবং সার্বিয়াকে পরাজিত করতে পারলেও ক্যামেরুনের কাছে ১-০ গোলে পরাজিত হয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠতে হয়েছিল। প্রথম রাউন্ডে সেই পরাজয়ের ক্ষত এখনও আছে। এরপর দ্বিতীয় রাউন্ডে সাউথ কোরিয়াকে সহজেই ৪-১ গোলে পরাজিত করেছিল। কিন্তু কোয়ার্টার ফাইনালে পেনাল্টি শুট আউটে পরাজিত হয়ে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হয়েছিল। এই পরাজয়ে ভীষণ রকম আশাহত হতে হয়েছিল ব্রাজিলের সমর্থকদের।
বিশ্বকাপে ব্রাজিল ফুটবল দল— ফুটবলের অনিন্দ্য সৌন্দর্য আর আবেগের প্রতীক। সাম্বার তালে তালে ফুটবলের এক অপরূপ উৎসব যেখানে পাখা মেলে। সারাবিশ্বের সমর্থকেরা যেখানে সাম্বার ছন্দে উত্তাল হয়ে উঠে। বিশ্বকাপের প্রথম রাউন্ডে আজ ব্রাজিলের প্রথম ম্যাচ। প্রতিপক্ষ শক্তিশালী মরক্কো। ফুটবলের ডানপিটে দল। নিউইয়র্কে মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ভোর চারটায় ব্রাজিল-মরক্কো মুখোমুখি হবে। দল বিন্যাসে এবারের বিশ্বকাপে গ্রুপ ‘সি’তে ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ আফ্রিকান নেশনস কাপ চ্যাম্পিয়ন মরক্কো, হাইতি এবং স্কটল্যান্ড। গ্রুপে ব্রাজিলের জন্য সবচেয়ে বড় বাধা এই মরক্কো। গত বিশ্বকাপে গ্রুপ লড়াইয়ে ক্যামেরুন যেভাবে ব্রাজিলকে হারিয়ে দিয়েছিল সেই দুঃস্বপ্ন যে ব্রাজিলকে এখনও তাড়া করছে না তা কিন্তু নয়। গ্রুপে আবার ক্যামেরুনের আরেক প্রতিচ্ছবি মরক্কো।
সমসাময়িক সময়ে মরক্কো মারাত্বক এক ফুটবল শক্তিতে পরিণত হয়েছে। যেকোনো সময় যেকোনো দলকে হারানোর অদম্য ক্ষমতা এখন তাদের। এ কারণেই ভীতিটা রয়েই গেছে। এই ম্যাচের ফলাফল কী হবে তা অনুমান অযোগ্যও। এই ম্যাচ নিয়ে তাই দেশের সাবেক তারকা ফুটবলার ইমতিয়াজ সুলতান জনির স্পষ্ট বক্তব্য, ‘মরক্কো জয়ের জন্য যেমন লড়বে, তেমনি ব্রাজিলকেও জিততে হবে। মরক্কো গতবার সেমিফাইনালে উঠে ইতিহাস গড়েছিল। সংগঠিত ফুটবল তারা প্রদর্শন করতে সক্ষম হয়েছিল। ফুটবল গ্লামারও তারা উপযাপন করেছিল। স্বভাবতই মরক্কো ব্রাজিলের বিপক্ষে মরণকামড় দিতে প্রস্তত। ব্রাজিলের রক্ষণ ভুল করলে মরক্কো নিজেদের পক্ষে ফলাফল নিতে কার্পণ্য করবে না।’
ইমতিয়াজ সুলতান জনি আরও বলেন, ‘গতবার ব্রাজিল কোয়ার্টার ফাইনালে ক্রোয়েশিয়ার কাছে অপ্রত্যাশিতভাবেই পেনাল্টি শুটআউটে হেরেছিল। ব্রাজিল ফাইনালের আগেই বিশ্বকাপ থেকে দ্রুততম সময়ে বিদায় নিলে বিশ্বকাপের গ্ল্যামারে ধস নামে। ব্রাজিলে প্রতিভাবন ফুটবলারের অভাব কোনকালেই ছিল না। এবারও নেই। তবে এই দলের দুর্বলতা হল বাছাইপর্বে ভালো খেলতে না পারা। নেইমারের ইনজুরি এই দলকে অনেক ভুগিয়েছে। তারপরও বিশ্বকাপে তাদের ইতিহাস ঐতিহ্য অর্জন প্রশ্নাতীত। সবশেষে এই দলটি ছন্দময় ফুটবলটাই উপহার দিতে চাইবে।’
গত বিশ্বকাপে মরক্কো অসীম শক্তি প্রদর্শন করতে সক্ষম হয়েছিল। দ্বিতীয় রাউন্ডে স্পেন এবং কোয়ার্টার ফাইনালে পর্তুগালকে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠেছিল। সেমিফাইনালে তাদের বিজয় রথ থামিয়ে দিয়েছিল ফ্রান্স। সর্বশেষ চতুর্থ হয়ে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছিল। তবে বিশ্বকাপে তাদের অনবদ্য লড়াই ফুটবলমোদীদের হ্নদয় ভরিয়ে দিয়েছিল। ব্রাজিলের সাথে ম্যাচ নিয়ে মরক্কোর কোচ তারিক ওয়াহবি বলেছেন, ‘এটি এমন একটি ম্যাচ, যা আমাদের অবস্থান কোথায় তা বুঝতে সাহায্য করবে। তবে আমি মনে করি, প্রতিযোগিতা শুরুর জন্য আমরা ভালো অবস্থানে আছি। নিজেদের এবং এতদিন যা অর্জন করেছি, সেসবের উপর আমাদের আত্মবিশ্বাস রাখতে হবে। ব্রাজিলকে ভয় পাওয়ার কিছু নেই, তবে তাদের যথাযথ সম্মান দেখাতে হবে। অনেকেই বলে এটি আগের সেই ছন্দময় ব্রাজিল নয়, কিন্তু মনে রাখতে হবে ব্রাজিল ব্রাজিলই।’ কোচ আরও বলেছেন, ‘আমরা ভয় পাচ্ছি না। আমরা এখন নতুন এক উচ্চতায় আছি, বিশ্ব ফুটবলে এখন আমাদের অনেকবেশি সম্মান করা হয়। এখন লক্ষ্য হল সেই অবস্থান সংহত রাখা। নিজেদেরকে নিয়মিত শিরোপার দাবিদার দলে পরিণত করা আমাদেরই দায়িত্ব।’
গত বিশ্বকাপে মরক্কো ছিল বিশ্বকাপের চমক জাগানো দল। এরআগে তারা মাত্র একবার বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে উঠতে পেরেছিল। তবে এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। বর্তমানে মরক্কো ফিফা বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে সপ্তম স্থানে রয়েছে, যা তাদের গ্রুপ ‘সি’র প্রতিপক্ষ ব্রাজিলের ঠিক একধাপ নিচে। সবশেষে ইমতিয়াজ সুলতান জনি বলেন, ‘আজকের ম্যাচ ফিফটি ফিফটি। মরক্কোর বর্ষসেরা ফুটবলার হাকিমি কী করেন সেটাই দেখার বিষয়। মরক্কো এবারের বিশ্বকাপে গতবারের সাফল্যের পুনরাবৃত্তি করলে অবাক হবো না। প্রথম ম্যাচে ব্রাজিলের বিপক্ষে শক্তিশালী সূচনা করার দিকে তাদের ভীষণ মনোযোগ থাকবে। রাত চারটায় খেলা। ব্রাজিল জয়ী হোক সেটাই চাই। তবে মরক্কো ব্রাজিল সমর্থকদের সব স্বপ্ন ও ঘোর ভেঙে দেয়ার অদম্য ক্ষমতা রাখে। আমাদের সকালটা ব্রাজিল না মরক্কোর হবে- দেখা যাক।’





